• রবিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৯, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬
ads
ভারত থেকে আমদানি হবে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

ভারত থেকে আমদানি হবে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

প্রতীকী ছবি

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি

ভারত থেকে আমদানি হবে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

  • জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

২০০৮ সালে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় ছিলেন দেশের ৫৩ শতাংশ মানুষ। এর হার ৮১ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও এখনো দেশের ১৩ শতাংশ মানুষ কেরোসিনের বাতি ব্যবহার করেন। ২০২১ সালের মধ্যে সারা দেশে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে ১ লাখ কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ হচ্ছে। চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন পাল্লা দিতে না পারায় ২০১৩ সালে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয়। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা সীমান্তে ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার আন্তঃদেশীয় সঞ্চালন লাইন রয়েছে। এবার কুমিল্লা সীমান্ত দিয়ে আরো ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে উপকেন্দ্র ও সঞ্চালন লাইন নির্মাণের একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হবে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ত্রিপুরার সূর্যমণিনগর থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৩৪২ কোটি ২৬ লাখ টাকা। এতে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে ২৫২ কোটি ৫১ লাখ টাকা। উন্নয়ন সহায়তা হিসেবে ১ হাজার ১৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। অবশিষ্ট ৬৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা বাস্তবায়নকারী সংস্থা পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) তহবিল থেকে ব্যয় করা হবে।

প্রকল্পের প্রস্তাবনায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ খাতে ভারত-বাংলাদেশ আঞ্চলিক সহযোগিতার জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ২০১৬ সালের বৈঠকে সূর্যমণিনগর থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কুমিল্লা দিয়ে সরবরাহের বিষয়ে আলোচনা হয়। ২০১৭ সালের শেষের দিকে গ্রুপের পরবর্তী বৈঠকে একটি প্রকল্প প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রকল্পটি প্রণয়ন করা হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, বর্তমানে ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ত্রিপুরার সূর্যমণিনগর থেকে কুমিল্লা (দক্ষিণ) উপকেন্দ্রের মাধ্যমে রেডিয়াল ১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। এই লাইনের মাধ্যমেই সূর্যমণিনগর থেকে এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিতব্য (উত্তর) এইচভিডিসি ব্যাক টু ব্যাক স্টেশন দিয়ে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, এ বিষয়ে কমিশনে আয়োজিত প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভার সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তাব পুনর্গঠন করা হলে চলতি মাসে এর সারসংক্ষেপ অনুমোদন করেন পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। প্রকল্পটি আজ অনুষ্ঠিতব্য একনেক বৈঠকে অনুমোদন পেলে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে এর কাজ শেষ করবে পিজিসিবি।

প্রস্তাবনার বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য শামীমা নার্গিস বলেন, প্রকল্পটির মাধ্যমে ভারতের ত্রিপুরা ও আসাম থেকে ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা সম্ভব হবে। এর ফলে দেশের পূর্বাঞ্চলে বিদ্যুতের চাহিদাপূরণও সম্ভব হবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটি একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ভেড়ামারা-বহরমপুর আন্ত্তঃসংযোগ গ্রিডলাইন চালুর মাধ্যমে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু হয় ২০১৩ সালে। এ লাইনের মাধ্যমে ৫০০ মেগাওয়াট বিদু্যুৎ সঞ্চালন করা যায়। পরবর্তীতে লাইনটির ক্ষমতা দ্বিগুণে উন্নীত করা হয়েছে। ভেড়ামারা (বাংলাদেশ)-বহরমপুর (ভারত) দ্বিতীয় ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন (বাংলাদেশ অংশ) শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নের পর ভারত থেকে ১ হাজার মেগাওয়াট আমদানির সুযোগ হয়েছে। নতুন প্রস্তাবিত প্রকল্পের কাজ শেষ হলে ভারত থেকে বিদ্যুতের আমদানি সক্ষমতা ১ হাজার ৫০০ মেগাওয়াটে উন্নীত হবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads