• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
বালিয়াড়ির অস্তিত্ব ও অন্যতম শীতল গ্রহের উষ্ণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা

প্লুটোয় বায়ুপ্রবাহে সৃষ্ট বালিয়াড়ি

ছবি ইন্টারনেট

পরিবেশ বিজ্ঞান

বালিয়াড়ির অস্তিত্ব ও অন্যতম শীতল গ্রহের উষ্ণতা বৃদ্ধির সম্ভাবনা

  • তপু রায়হান
  • প্রকাশিত ০২ জুন ২০১৮

বালিয়াড়ি হলো বালির পাহাড়। মরুভূমি বা সমুদ্র উপকূলে বাতাসের এক বিশেষ ক্রিয়ায় গঠিত হয় অস্থায়ী বালির পাহাড় বা বালিয়াড়ি।

মরুভূমিতে বায়ুপ্রবাহ বাধার সম্মুখীন হলে এর গতিবেগ কমে যায় এবং বাতাসে ভাসা বালিকণাগুলে বিভিন্ন জায়গায় জমা হতে থাকে। প্রতিবন্ধকতার মুখে বাতাসের এই ক্রিয়াকে বলা হয় বায়ুর সঞ্চয়কার্য। আর এর ফলে বদলে যায় ওই এলাকর ভূমিরূপ। নতুন সৃষ্ট এইসব ভূমিরূপের অন্যতম একটি বালিয়াড়ি। বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয় কাজের ফলে কোনো বিস্তীর্ণ স্থানজুড়ে উঁচু ও দীর্ঘ বালির স্তূপ গঠিত হলে তাকে বালিয়াড়ি বলে।

এই প্রক্রিয়ায় বায়ুপ্রবাহের ক্ষয়কার্যের ফলে প্রথমে শিলাধূলি ও বালির সৃষ্টি হয়, পরে সেগুলো আবার কোথাও জমা হয়ে নতুন ভূমিরূপ গঠন করে। আবার বাতাসের সঙ্গে সঙ্গে বালিয়াড়ি গতিশীল হয়। বালিয়াড়ি কখনো ভাঙে আবার কখনো গড়ে, আবার আকৃতির পরিবর্তন ঘটায়। এই আকার-আকৃতির ভিন্নতার ভিত্তিতে আবার বালিয়াড়িগুলোকে নানা ভাগে ভাগ করা হয়। যেমন বার্খান বালিয়াড়ি, সিফ বালিয়াড়ি, নক্ষত্র বালিয়াড়ি, অ্যাকলি বালিয়াড়ি, অধিবৃত্তীয় বালিয়াড়ি, উল্টানো বালিয়াড়ি, দ্রাস বালিয়াড়ি, কেশকাঁটা বালিয়াড়ি, মস্তক বালিয়াড়ি, পুচ্ছ বালিয়াড়ি, পার্শ্ব বালিয়াড়ি, অগ্রবর্তী বালিয়াড়ি ও পরবর্তী বালিয়াড়ি।

বালিয়াড়ি ছাড়াও বায়ুপ্রবাহের সঞ্চয়কার্যের ফলে আরো কিছু ভূমিরূপও সৃষ্টি হয়। তবে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতায় সেইসব ভূমিরূপের আলোচনায় যাচ্ছি না। ফের ফিরছি বালিয়াড়িতে বা বলা ভালো মহাজাগতিক বালিয়াড়িতে।

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন আমরা জানি পৃথিবীর বাইরেও আছে বালিয়াড়ির অস্তিত্ব। মঙ্গল, শুক্র, শনি গ্রহের টাইটান, গ্রহাণুপুঞ্জ ৬৭পিতে দেখা গেছে বালিয়াড়ি। আর এবার জানা গেল সৌরজগতের অন্যতম শীতল গ্রহ প্লুটোতেও আছে বালিয়াড়ি। তবে প্লুটোর এইসব বালিয়াড়ি কিন্তু বালির নয়। ২০১৫ সালে নাসার নিউ হরাইজন মিশনের যান থেকে পাঠানো ছবিতে দেখা গেছে এইসব বালিয়াড়ি আসলে হিমায়িত মিথেনের।

সমপ্রতি সায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত এ সংক্রান্ত এক গবেষণা নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, প্লুটো গ্রহের নতুন তথ্য এর সম্পর্কে অনেক বেশি জানতে সাহায্য করবে।

গবেষকদের দাবি, দূরের এই গ্রহটি সম্পর্কে আগে যতটুকু ধারণা করা হতো সেটি তার চাইতেও বিচিত্র। আগে মনে করা হতো প্লুটোর বায়ুমণ্ডল অনেক পাতলা। এ কারণে সেখানে পৃথিবীর মরুভূমি বা সমুদ্র উপকূলের মতো বালিয়াড়ি তৈরি হওয়ার সুযোগ নেই।

স্পুটনিক প্লানিসিয়া নামক মিশনযানের পাঠানো ছবির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা বলেন, প্রায় পাঁচ মাইল উচ্চতার একটি বরফের পর্বতের পাশ আমাদের পৃথিবীর নদীতলের মতো বালিয়াড়ির সৃষ্টি হয়েছে। আর সেখানে বালিয়াড়ি আছে মানে বায়ুর প্রবল প্রবাহও আছে।

বিজ্ঞানীদের দাবি, পর্বতমালার পাশে শায়িত এইসব বালিয়াড়ির একটি থেকে আরেকটির দূরত্ব ৪০০ মিটার থেকে এক কিলোমিটার পর্যন্ত। আর সেগুলো তৈরি হয়েছে বাতাসে ভাসমান ২০০ থেকে ৩০০ মাইক্রোমিটার সাইজের হিমায়িত মিথেন কণা জমে জমে।

গবেষক দলের প্রধান ও ভৌত ভূগোলবিদ ম্যাট টেলফার বলেন, এই আবিষ্কারটি গ্রহটির বায়ুমণ্ডল সম্পর্কে আমাদের নতুন ধারণা দেবে। আমরা হয়তো জানতে পারব সেখানকার বায়ু প্রবাহের সঠিক গতিবেগও। ম্যাট টেলফার জানান, ছবিতে যেসব বালিয়াড়ি দেখা গেছে তা বিশ্লেষণ করে তারা ধারণা করছেন সেগুলো গঠন হতে প্রতি সেকেন্ডে কমপক্ষে ১০ মিটার গতিবেগের বায়ু প্রবাহের দরকার হয়েছে। আর সেখানে বায়ুর এই প্রবাহ সৃষ্টি হয়েছে, কোনো পর্বতের চূড়া থেকে বাতাস বা গ্যাসের উপত্যকায় নেমে আসার কারণে।

নিবন্ধে দাবি করা হয়েছে, সেখানে বাতাসের এমন প্রবাহ সূর্যের তাপ গ্রহণের মাধ্যমে উত্তপ্ত হতে সহায়তা করবে। যদিও গ্রহটির এখনকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচে ২৩০ ডিগ্রির কম।

তবে ম্যাট টেলফার দাবি করছেন, এই আবিষ্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক- বালিয়াড়ি গঠন হচ্ছে মানে সেখানে বায়ু প্রবল প্রবাহের পাশাপাশি তাতে শুকনো কিছু বস্তু বা গ্যাসীয় কণা আছে। সবকিছুই একেবারে জমাট বাঁধা বরফ হয়ে নেই। এই তথ্য গ্রহটি সম্পর্কে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গিই বদলে দেবে।

আর তাই যদি হয়, তবে ওই গ্রহে হবে আরো অভিযান। সেটি নিয়ে হবে গবেষণা। একদিন হয়তো আমরা জানতে পারব গ্রহটির তাপমাত্রা সত্যি সত্যিই বদলে গিয়ে বদলাচ্ছে এর পরিবেশও, হয়তো মঙ্গল গ্রহসহ এই পৃথিবীর বাসিন্দাদের নতুন কলোনিও।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads