• রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭
বৃষ্টির পরে সৃষ্ট গন্ধ ভালো লাগে কেন?

গরমকালের বৃষ্টির পরে এক ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়

ছবি: সংগৃহীত

পরিবেশ বিজ্ঞান

বৃষ্টির পরে সৃষ্ট গন্ধ ভালো লাগে কেন?

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৯ জুলাই ২০১৮

গরমকালের বৃষ্টির পরে এক ধরনের গন্ধ পাওয়া যায়। মানুষের স্নায়ুতে ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে এই গন্ধ। ইংরেজিতে এই সুগন্ধকে বলে ‘পেট্রিকোর’। ১৯৬০ সালে অস্ট্রেলিয়ার দুজন গবেষক প্রথম এই নামকরণ করার সঙ্গে সঙ্গে কেন এমন গন্ধ পাওয়া যায় তারও কারণ ব্যাখ্যা করেন। তখন তারা বলেন, বৃষ্টি যখন প্রথম শুষ্ক মাটি স্পর্শ করে তখন যে উষ্ণ, সোঁদা গন্ধ পাই তা ব্যাকটেরিয়ার কারণে সৃষ্টি হয়।

কিন্তু এই গন্ধ আমাদের ভালোলাগার অনুভূতি দেয় কেন?

সমপ্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, এই ভালো লাগার পেছনে রাসায়নিক বিক্রিয়াঘটিত বেশ কিছু কারণ রয়েছে। গবেষকদের দাবি, ব্যাকটেরিয়া, গাছপালা বা বিদ্যুৎ চমকানো- সবকিছুই বৃষ্টির সময়কার ভেজা মাটি ও নির্মল বাতাসের মনোরম সৌরভের অনুভূতি তৈরি করার পেছনে ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাজ্যের জন ইনস সেন্টারের আণবিক জীবাণুবিজ্ঞান বিষয়ের অধ্যাপক মার্ক বাটনার বলেন, মাটিতে প্রচুর পরিমাণে আছে ব্যাকটেরিয়া। আমরা যখন মাটির সোঁদা গন্ধ পাই তখন বিশেষ একধরনের ব্যাকটেরিয়ার তৈরি করা অণুগন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি বিবিসিকে জানান, জিওসমিন নামের ওই অণু স্প্রেটটোমাইস দিয়ে তৈরি হয়। বৃষ্টির পানির ফোঁটা মাটি স্পর্শ করলে মাটিতে উপস্থিত জিওসমিন বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বৃষ্টির পর আরো বৃদ্ধি পায়।

জিওসমিন তারপিনের সঙ্গেও সম্পৃক্ত আছে বলে দাবি গবেষকদের। কারণ অনেক গাছেরই সুগন্ধের উৎস তারপিন। যুক্তরাজ্যের রয়্যাল বোটানিক্যাল গার্ডেনসের গবেষণাপ্রধান ফিলিপ স্টিভেনসনের মতে, বৃষ্টির কারণে তারপিনের সুবাস প্রকৃতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

তিনি বলেন, গাছে উপস্থিত যেসব রাসায়নিক সুগন্ধ তৈরি করে সেগুলো অনেক সময় পাতার মধ্যে তৈরি হয় এবং বৃষ্টির কারণে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে বায়ুতে নির্গত হয়।

তিনি আরও বলেন, অতিরিক্ত শুষ্কতার ফলে গাছের অভ্যন্তরীণ রাসায়নিক প্রক্রিয়ার গতি ধীর হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় গাছ নতুন সজীবতা পায় এবং রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে সুঘ্রাণ ছড়ায়।

বৃষ্টির সময় সুঘ্রাণ তৈরির পেছনে বজ্রপাতেরও ভূমিকা রয়েছে বলে দাবি গবেষকদের। বিদ্যুৎ চমকানোর কারণে বায়ুমণ্ডলে বৈদ্যুতিক আবেশ তৈরি হওয়ায় প্রকৃতিতে ওজোন গ্যাসের একধরনের গন্ধ পাওয়া যায়।

বিবিসি বলছে, ভারতের উত্তর প্রদেশে বৃষ্টির পরের এই গন্ধ আহরণ করে সুগন্ধি হিসেবে বিক্রি করা হতো। বর্তমানেও সুগন্ধি তৈরির কাঁচামাল হিসেবে জিওসমিনের ব্যবহার বাড়ছে।

আরও পড়ুন



ফিচার

উন্মুক্ত পাঠশালা

  • আপডেট ২৮ নভেম্বর, ২০২০

শিশু

আপনার শিশুকে কেন বই পড়তে দেবেন

  • আপডেট ২৮ নভেম্বর, ২০২০

ফিচার

জলকাব্য-৩-এর চিত্রপ্রদর্শনী

  • আপডেট ২৮ নভেম্বর, ২০২০
বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads