• শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ৩০ কার্তিক ১৪২৬
ads

সংগৃহীত ছবি

পরিবেশ বিজ্ঞান

মশার বিস্তার কমাবে জিন এডিটিং!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে বংশগত অনেক রোগের চিকিৎসা হচ্ছে বেশ কিছুদিন ধরেই। সেই ধারাবাহিতকায় এবার এই প্রক্রিয়া কাজে লাগিয়ে বন্ধ্যাকরণের প্রক্রিয়াও শুরু করেছেন গবেষকরা। না, এই বন্ধ্যাকরণ কোনো মানুষের না। সম্প্রতি লন্ডনের ইমপেরিয়াল কলেজের এক দল বিজ্ঞানী জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে মশা বন্ধ্যাকরণে সফল হয়েছেন। গবেষণাগারে তারা দেখেছেন জিন এডিটিংয়ের মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বিস্তারকারী অ্যানোফিলিস গ্যামবেই (Anopheles gambiae) প্রজাতির মশার বংশবিস্তার পুরোপুরি ঠেকিয়ে দেওয়া সম্ভব।

গবেষকরা এজন্য মশার ডাবলসেক্স নামের এক প্রকার জিন প্রতিস্থাপন করেন যা মশার লিঙ্গ নির্ধারণে বিশেষ ভূমিকা রাখে। গবেষকরা ওই ডাবলসেক্স জিনের ভূমিকাকে উল্টে দিয়ে শুধু পুরুষ মশার জন্ম দিতে পেরেছেন। এই অবস্থায় গবেষণাগারের সব মশাই একই লিঙ্গের হয়ে গেছে এবং তারা প্রজননের জন্য বিপরীত লিঙ্গের সঙ্গী পাচ্ছে না। তবে গবেষণাগারের ভেতরের সব মশাই একই লিঙ্গের হয়ে যেতে ৭ থেকে ১১তম প্রজন্ম সময় নিয়েছে। গবেষকরা এখন খোলা পরিবেশের মশার ওপর এই প্রযুক্তিটি প্রয়োগের উপায় খুঁজছেন।

এই সম্পর্কে বলতে গিয়ে গবেষক দলের প্রধান অধ্যাপক আন্দ্রে ক্রিস্যান্টি বলেন, আজ যে সফলতার মুখ আমরা দেখেছি তার জন্য ২০১৬ সালের আগ পর্যন্ত টানা দুই দশক ধরে আমাদের অনেক চেষ্টা করতে হয়েছে। আমাদের তেমন যন্ত্রপাতি ছিল না, উপযোগী গবেষণাগার ছিল না। এখনো খোলা পরিবেশে ম্যালেরিয়ার জীবাণুবাহী এই জাতের মশার বিস্তার কমানোর যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি নেই।

তিনি জানান, তারা জিন এডিটিংয়ের যে পদ্ধতিটি মশার ওপর প্রয়োগ করেছেন তারা সেটি মূলত জিন ড্রাইভ বা জিন সঞ্চালন নামেই পরিচিত। এই প্রক্রিয়ায় প্রজননের জন্য দায়ী পুরো জিন বা জিনের একটা অংশের বিস্তার রোধ করে দিয়েছেন তারা। আর এর মাধ্যমেই প্রজননে অক্ষম হয়ে ওঠে মশারা।

তবে পুরুষ মশার ক্ষেত্রে এই প্রযুক্তি সেভাবে কাজ করেনি বলে জানান আন্দ্রে ক্রিস্যান্টি। স্ত্রী মশার ক্ষেত্রে এই গবেষণায় আরেকটি বিষয় খুঁজে পাওয়া গেছে যা মশাবাহিত রোগ বিস্তার পুরোপুরি ঠেকিয়ে দিতে পারে। গবেষকরা দেখেছেন, সব মশা যখন পুরুষ হয়ে যাচ্ছে তখন বা যেসব মশা পুরুষ ও স্ত্রী উভয় মশার জিন বহন করছে তারা আর কামড়াচ্ছে না। আর মশা না কামড়ালে ম্যালেরিয়া, ফাইলেরিয়া বা ডেঙ্গুর মতো রোগের বিস্তার কমবে।

 

 

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads