• শুক্রবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
মাথা-গলায় ক্যানসারের রোগী দেশে সোয়া ৫ লাখ

দেশে ক্যানসার রোগীদের প্রতি তিনজনের একজন মাথা ও গলার (হেড, নেক) ক্যানসারে আক্রান্ত

ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্য

বিশ্ব হেড নেক ক্যানসার দিবস আজ

মাথা-গলায় ক্যানসারের রোগী দেশে সোয়া ৫ লাখ

  • হাসান শান্তনু
  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৮

দেশে ক্যানসার রোগীদের প্রতি তিনজনের একজন মাথা ও গলার (হেড, নেক) ক্যানসারে আক্রান্ত। মোট ক্যানসার রোগীর প্রায় ৩৫ শতাংশ ভুগছেন এ ক্যানসারে। রোগীর সংখ্যা অন্তত সোয়া পাঁচ লাখ। মাথা ও গলায় প্রাণঘাতী ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। রোগীর তুলনায় বাড়ছে না চিকিৎসার অবকাঠামো ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।

পাঁচ লাখ ২৫ হাজার রোগীর জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে সীমিত পর্যায়ে চিকিৎসার ব্যবস্থা থাকলেও মূলত বিশেষায়িত চিকিৎসা শাখা রয়েছে মাত্র একটি। রোগটির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন মাত্র পাঁচজন। তারাও কর্মরত ঢাকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। ওই হাসপাতালেই রয়েছে এ রোগের চিকিৎসার বিশেষায়িত শাখা।

ঢাকার নাক, কান ও গলা হাসপাতালেও নেই মাথা, গলায় ক্যানসারের বিশেষজ্ঞ। এ হাসপাতালে ক্যানসার বিশেষজ্ঞ ও সার্জন আছেন। তবে চিকিৎসকের ৯৪ পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৪৫। ঢাকার বাইরের সরকারি যেসব মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নাক, কান ও গলা (ইএনটি) রোগ বিশেষজ্ঞ রয়েছেন, সেসব হাসপাতালে চিকিৎসা পান রোগীরা।

রোগীর তুলনায় চিকিৎসা ব্যবস্থা অপ্রতুল হওয়া, সচেতনতা ও শিক্ষার অভাব আর অর্থনৈতিক অবস্থার জন্য বাংলাদেশে ক্যানসার রোগে মৃত্যুর হার বাড়ার প্রধান কারণ বলে মনে করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এ পরিস্থিতিতে আজ শুক্রবার পালন হবে বিশ্ব হেড নেক ক্যানসার দিবস। রোগটির ভয়াবহতা ও ব্যাপকতার কথা চিন্তা করে ২০১৪ সালের ২৭ জুলাই হেড নেক ক্যানসার দিবস হিসেবে ঘোষিত হয়।

দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও সার্জনদের নিয়ে গঠিত ‘সোসাইটি অব হেড নেক সার্জনসের’ সভাপতি ডা. বেলায়েত হোসেন সিদ্দিকী বাংলাদেশের খবরকে বলেন, ‘এ জাতীয় ক্যানসার শরীরের জটিল অঙ্গে আবির্ভূত হয়। শুধু মাথা ও গলাই নয়, এ ক্যানসারের অন্তর্গত মুখ, মুখগহ্বর, নাক, শ্বাসনালি, সাইনাস ও খাদ্যনালির উপরিভাগসহ বিভিন্ন লালাগ্রন্থিও। দেশে রোগটির চিকিৎসা ব্যবস্থা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল, তবে দুর্লভ নয়।’ তিনি বলেন, ‘এ ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার বিশেষ কারণ মাদক। অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবারও আরেকটি কারণ। মাদক পরিহার করে পাশ্চাত্যের অনেক দেশে মাথা ও গলার ক্যানসারের হার কমানো সম্ভব হয়েছে।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদন মতে, বাংলাদেশে অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে যে বিপুলসংখ্যক রোগী প্রতিবছর মারা যাচ্ছেন, তাদের সিংহভাগই ক্যানসারজনিত কারণে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক জানান, ‘৬০ শতাংশ মানুষের মৃত্যু হচ্ছে অসংক্রামক রোগে। এর মধ্যে ক্যানসারের স্থান দ্বিতীয়।’

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, এ দেশে ক্যানসার রোগীর সংখ্যা অন্তত ১৫ লাখ। প্রতিবছর এ রোগের কারণে মৃত্যু হয় ৭০ হাজার লোকের। দুই লাখ মানুষ প্রতিবছর রোগটিতে আক্রান্ত হয়। ‘সেন্টার ফর ক্যানসার প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চের’ (সিসিপিআর) মতে, দেশে প্রতিদিন নতুন করে ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন ৩৩৪ জন আর মারা যাচ্ছেন প্রায় ২৫০ জন।

দেশে মাথা ও গলায় ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর মোট সংখ্যা কত, এ বিষয়ে জাতীয় ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল বা সোসাইটি অব হেড নেক সার্জনসের কাছে সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে উপরে উল্লিখিত পরিসংখ্যানে সমর্থন রয়েছে সংগঠনটির। চিকিৎসার প্রয়োজনে সঠিক পরিসংখ্যান জরুরি বলে বিশেষজ্ঞদের মত। ঢাকার বাইরের সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলোর উদ্যোগে বিভাগীয় পর্যায়ে এ ধরনের জরিপ হতে পারে বলে মনে করেন তারা।

সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের উদ্যোগে ওই বিভাগের রোগীদের নিয়ে সম্প্রতি জরিপ হয়। এতে দেখা যায়, এ অঞ্চলে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের শতকরা ৪০ থেকে ৪৫ ভাগ হেড, নেক ক্যানসারে আক্রান্ত। গত এক বছরে হাসপাতালটির বহির্বিভাগে ক্যানসারের চিকিৎসা নেওয়া আট হাজার ৯২১ রোগীর মধ্যে হেড, নেকে আক্রান্ত তিন হাজার ৮৩৬ জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশে নতুন দুই লাখ ক্যানসার আক্রান্ত চিকিৎসার আওতার বাইরে। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ২৬টি (১৬টি সরকারি, ১০টি বেসরকারি) ক্যানসার চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এগুলোতে ৫০ হাজার নতুন রোগী চিকিৎসার আওতায় আছেন। দেশে তিন হাজার ক্যানসার রোগীর বিপরীতে আছে একটি শয্যা। সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক আছেন ১৭০ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, দেশের জনগোষ্ঠীর তুলনায় প্রয়োজন ১৬০টি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র। তা না থাকায় অনেকে থেকে যাচ্ছেন চিকিৎসার বাইরে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক জানান, ‘প্রতিটি বিভাগীয় শহরে ১০০ শয্যার আটটি ক্যানসার চিকিৎসাকেন্দ্র নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads