• শনিবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮, ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৫

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৮

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের খসড়া অনুমোদন

কমিউনিটি ক্লিনিক

সংরক্ষিত ছবি

স্বাস্থ্য

কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের খসড়া অনুমোদন

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ৩১ জুলাই ২০১৮

কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে একটি ট্রাস্টের অধীনে আনার লক্ষ্যে ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন-২০১৮’-এর খসড়ার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, ট্রাস্টের তহবিল ব্যবহার করে গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে সমন্বিত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করা এবং অন্যান্য হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের সঙ্গে কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করাই এই আইনের লক্ষ্য। প্রকল্পের আওতায় মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো এই ব্যবস্থায় ট্রাস্টের আওতায় সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নের মাধ্যমে পরিচালিত হবে। প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) এন এম জিয়াউল আলম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ অনুমোদনের কথা জানান। তিনি বলেন, ‘কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্ট আইন-২০১৮’-এর খসড়া মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের পরিপ্রেক্ষিতে বিস্তারিত আলোচনার পর কিছু সংশোধনী সাপেক্ষে এটি চূড়ান্ত অনুমোদনের সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছে।’ সচিব বলেন, ‘এখন একটি প্রকল্পের আওতায় ক্লিনিকগুলো চলছে।

আইনটি পাস হলে ক্লিনিকগুলো ট্রাস্টের আওতায় চলে আসবে।’ তিনি বলেন, ‘সারা দেশেই কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্যসেবায় অত্যন্ত সহায়ক ভূমিকা পালন করে আসছে। স্বাস্থ্যসেবার যে অগ্রগতি তা কমিউনিটি ক্লিনিকের জন্যই সাধিত হয়েছে। সারা দেশে ১৪ হাজার ৮৯০টি কমিউনিটি ক্লিনিক স্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। এখন পর্যন্ত ক্লিনিকগুলো থেকে সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬২ কোটি ৫৭ লাখ।’ বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৮৬১টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, ‘আরো ১ হাজার ২৯টি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।’

সচিব বলেন, ‘আইনে কর্মীদের স্থায়ীকরণ, বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতির সুযোগ, গ্রাচুইটি, অবসর ভাতা প্রদান- এসব সুবিধা রাখা হয়েছে। বলা হয়েছে, একটি প্রবিধানের মাধ্যমে এগুলো নিশ্চিত করা হবে। তারা ট্রাস্টের আওতায় থাকবেন। তবে সরকারি যে সুবিধাগুলো আছে সেগুলো সবই তারা পাবেন।’ ট্রাস্টে যে কেউ অনুদান দিতে পারবেন জানিয়ে জিয়াউল আলম বলেন, ‘সরকারি থোক বরাদ্দ থাকবে, অনুদান থাকবে। পাশাপাশি বেসরকারিভাবে ব্যক্তিগত উদ্যোগে, স্থানীয় সামাজিক সংগঠন বা ব্যক্তিবিশেষ এখানে দান-অনুদান প্রদান করতে পারবেন।’ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব বলেন, ‘ট্রাস্টে একটি উপদেষ্টা পরিষদ থাকবে, সেখানে প্রধানমন্ত্রী সভাপতি হবেন। এ ছাড়া একটি বোর্ড থাকবে। যিনি বোর্ডের প্রধান হবেন, তিনি প্রধানমন্ত্রীর মনোনীত খ্যাতিমান ব্যক্তি হবেন। বোর্ড গঠনের বিবরণ আইনে রাখা হয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কোনো রোগীর চিকিৎসা দিতে ক্লিনিক যদি ব্যর্থ হয়, যদি জটিল রোগী হয় তবে ক্রমান্বয়ে ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হবে, রেফারেল সিস্টেম থাকবে।’

গতকাল মন্ত্রিসভার নিয়মিত আলোচনার মধ্যে ছিল মন্ত্রিসভার বৈঠকের ওপর ত্রৈমাসিক প্রতিবেদন উপস্থাপন। প্রতিবেদনে গত ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত বৈঠকের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। সচিব জানান, চলতি বছরের প্রথম ত্রৈমাসিকে (এপ্রিল থেকে জুন) মন্ত্রিসভায় নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের হার ৭৫ শতাংশ। আগের বছর একই সময়ে এ হার ছিল ৭১ দশমিক ৬২ শতাংশ। জিয়াউল আলম জানান, বৈঠকে এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সিরিজ জয়ে একটি অভিনন্দন প্রস্তাব উত্থাপিত ও গৃহীত হয়।

এ ছাড়া বৈঠকে জাতীয় সংসদের খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য সাবেক হুইপ এবং খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার মৃত্যুতে এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রথম মন্ত্রী, সাবেক সংসদ সদস্য এবং খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি কল্পরঞ্জন চাকমার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। বাসস

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads