• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
রফতানি এক যুগে দ্বিগুণ

চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে

সংরক্ষিত ছবি

শিল্প

রফতানি এক যুগে দ্বিগুণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ জুলাই ২০১৮

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মিটিয়ে এখন রফতানি আয়েও ভূমিকা রাখছে প্লাস্টিক শিল্প। মানসম্পন্ন পণ্য উৎপাদনের পাশাপাশি ও বহুমুখীকরণের ফলে রফতানিতে এ শিল্পের আয় ইতোমধ্যে ১০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে। গত অর্থবছরে (২০১৬-১৭) প্লাস্টিক পণ্য রফতানির মাধ্যমে আয় হয় ১১ কোটি ৬০ লাখ ডলার। ২০০৪-০৫ অর্থবছরে আয় হয়েছিল ৩ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে এক যুগের ব্যবধানে প্লাস্টিক খাত থেকে রফতানি আয় বেড়েছে দ্বিগুণ পরিমাণ। অবশ্য সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রফতানির পরিমাণ কমেছে। গত বছরের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ কমে রফতানি হয়েছে প্রায় ৯ কোটি ৮৫ লাখ ডলার।

এ খাতের সংশ্লিষ্টরা জানান, বাংলাদেশের প্লাস্টিক খাত ক্রমেই বড় হচ্ছে। গত কয়েক দশকে এ খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির পাশাপাশি বিনিয়োগও বেড়েছে। গড়ে উঠেছে নতুন নতুন শিল্প-কারখানা। প্লাস্টিক পণ্য আমদানি বন্ধ ও রফতানিতে নগদ প্রণোদনাসহ সরকারের বেশ কিছু নীতিগত সহায়তার কারণে প্লাস্টিক শিল্পে এক ধরনের বিপ্লব ঘটেছে। ফলে অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মেটানোর সক্ষমতা অর্জন করে রফতানিতেও ভূমিকা রাখতে সক্ষম হচ্ছে এ শিল্প। বর্তমানে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৫ হাজার প্লাস্টিক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠেছে। আর প্রায় ১২ লাখ মানুষ এ শিল্পের ওপর নির্ভরশীল।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের রফতানি আয়ের ১২তম অবস্থানে রয়েছে প্লাস্টিক খাত। আর মোট রফতানি আয়ের প্রায় ২ শতাংশ আসছে এ খাত থেকে। তবে প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে প্রায় স্বনির্ভরশীল হয়ে উঠলেও এ শিল্পের কাঁচামাল এখনো পুরোপুরি বিদেশনির্ভর। কাঁচামাল উৎপাদনে বিদেশ নির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার উদ্যোগ নিলে এ শিল্পের আরো বড় ধরনের বিকাশ ঘটবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশাবাদী। অবশ্য বেশ কিছু রিসাইক্লিং কারখানাও গড়ে উঠেছে। ফেলে দেওয়া ও ব্যবহূত প্লাস্টিক পণ্যের একটি বড় অংশই রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুনরায় প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদনে ব্যবহার হচ্ছে। এতে প্লাস্টিকের দূষণ থেকেও পরিবেশ রক্ষা পাচ্ছে। তবে গুণগত মানের কারণে রিসাইক্লিং প্রক্রিয়ায় উৎপাদিত প্লাস্টিক পণ্য রফতানি হয় না।

বাংলাদেশ রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বিশ্বের ২৩টি দেশে বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য রফতানি হয়। এর মধ্যে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, কানাডা ও মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক পণ্য রফতানি হয়। প্রতিবেশী দেশ ভারত, শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও বাংলাদেশের প্লাস্টিক পণ্য যাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্লাস্টিক খাতের বিকাশের ক্ষেত্রে তৈরি পোশাক খাতের একটা নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। নব্বইয়ের দশকে তৈরি পোশাক খাতের জন্য হ্যাঙ্গার, পলিব্যাগ, বোতামসহ বিভিন্ন উপকরণ তৈরি করতে গিয়ে প্লাস্টিক শিল্পের নবযুগ ঘটে। তৈরি পোশাক খাতের উপকরণ হিসেবে প্রচ্ছন্নভাবে (সরাসরি নয়) প্লাস্টিক রফতানি শুরু করে বাংলাদেশ। এরপর ক্রমেই অন্যান্য পণ্যসামগ্রী উৎপাদনের দিকে আগ্রহী হতে শুরু করেন এ খাতের উদ্যোক্তারা। গৃহস্থালির জন্য বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনে প্রথম লক্ষ্যই ছিল অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের দিকে। তুলনামূলক সস্তা, টেকসই হওয়ায় খুব সহজেই সাধারণ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়ে ওঠে প্লাস্টিকজাত পণ্য। এতে নতুন নতুন উদ্যোক্তা এ খাতে সম্পৃক্ত হলে বিপ্লব ঘটতে শুরু করে এ শিল্প।

বর্তমানে উৎপাদিত প্লাস্টিক পণ্যের মধ্যে পোশাক খাতের জন্য রয়েছে পলিব্যাগ, হ্যাঙ্গার, প্লাস্টিক ক্লিপ, বোতাম; খেলনা সামগ্রীর মধ্যে পুতুল, বল, ইয়োইয়ো; গৃহে ব্যবহারের জন্য চেয়ার, টেবিল, ওয়্যারড্রব, বাথটাব, জগ, মগ, ঝুড়ি, প্লেট, গ্লাস, চামচ; অফিসে ব্যবহারের জন্য পেপারওয়েট, স্কেল, টেবিল ক্যালেন্ডার, বলপেন, ফাইল কভার ইত্যাদি।

এ ছাড়া গৃহনির্মাণ সামগ্রী জানালা ও দরজা; চিকিৎসা উপকরণ রক্তের ব্যাগ, ওষুধ কনটেইনার, ইনজেকশন, স্যালাইন ব্যাগ; কৃষি খাতের জন্য প্লাস্টিক পাইপ, বড় চৌবাচ্চা; গাড়ি ও সাইকেলের যন্ত্রাংশের মধ্যে বাম্পার, হাতলের কভার, ব্যাক লাইট, স্পোক লাইট; পোল্ট্রি ও মৎস্য খাতের পট, জার, মাছের জাল, বল, মাছ ও ডিম রাখার ঝুড়ি; ভিডিও ও অডিও ক্যাসেট, কম্পিউটারের উপকরণসহ বিভিন্ন প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি হচ্ছে দেশেই।

২০২১ সালের মধ্যে প্লাস্টিক শিল্প থেকে ১০০ কোটি ডলার আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্য অর্জনে নতুন নতুন বাজার সৃষ্টির পাশাপাশি গুণগত মানসম্পন্ন এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে কাঁচামালের ক্রমাগত মূল্যবৃদ্ধি, আমেরিকার বাজারে জিএসপি সুবিধা বাতিলের কারণে এ খাতের রফতানিকারকরা বিপাকে পড়েছেন। চলতি অর্থবছরে রফতানিতেও এ কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেখা গেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশ থেকে প্লাস্টিক রফতানি আয় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৯ দশমিক ৪৯ শতাংশ কমেছে। গত বছর প্রথম নয় মাসে বাংলাদেশ প্লাস্টিক রফতানিতে আয় করেছিল ৯ কোটি ১৪ লাখ ডলার, যা এ বছর ৭ কোটি ৩৫ লাখে নেমে এসেছে। অপরদিকে চলতি অর্থবছরের নয় মাসে ১০ কোটি ৮৭ লাখ ডলারের রফতানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ হিসাবে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আয় কম হয়েছে ৩২ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads