• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
পার্কিং সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান

পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস না থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা হয়

ছবি : ইন্টারনেট

তথ্যপ্রযুক্তি

পার্কিং সমস্যার প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান

  • শাহাদাত হোসেন
  • প্রকাশিত ২৩ জুন ২০১৮

যানজট সমস্যা ঢাকার একটি অন্যতম বড় সমস্যা। এ সমস্যার পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হলো রাস্তায় অবৈধ পার্কিং। মূলত বিভিন্ন স্থানে পর্যাপ্ত পার্কিং স্পেস না থাকায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যস্ত রাস্তায় গাড়ি পার্ক করা হয়।

তবে প্রযুক্তির ব্যবহার ঘটিয়ে খুব সহজেই এ সমস্যার সমাধান দেওয়া সম্ভব। ইতোমধ্যে একাধিক উদ্যোক্তা এ বিষয়টি নিয়ে ভেবেছেন এবং দারুণ কিছু সমাধান নিয়ে এসেছেন গাড়ি ব্যবহারকারীদের জন্য।

বর্তমানে শহরের প্রায় সকল আবাসিক ভবনেই রয়েছে গ্যারেজ বা গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা। তবে দিনের একটি বড় সময় ধরেই এসব গ্যারেজ ফাঁকা পড়ে থাকে। তাই এসব গ্যারেজ মালিকের সঙ্গে গাড়ি ব্যবহারকারীদের একটি সেতুবন্ধন তৈরি করে দেওয়ার মাধ্যমে যত্রতত্র পার্কিং সমস্যার সমাধান সম্ভব।

বর্তমানে বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান স্মার্টফোন অ্যাপের মাধ্যমে এ সেতুবন্ধন তৈরি করে দেওয়ার কাজটি শুরু করেছে। এর মধ্যে আছে নেক্সপার্ক, পার্কিং কই, রাখো এবং মাই পার্কিং।

নেক্সপার্ক

প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠান নেক্সপার্ক যত্রতত্র পার্কিং সমস্যার সমাধান দিতে এ অ্যাপটি তৈরি করেছে। নেক্সপার্কের সহ-প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ শাহরিয়ার খান বলেন, ‘একটি গাড়ি সকালে বের হওয়ার পর পার্কিং স্পেস খালি পড়ে থাকে। এ সময় সাময়িকভাবে অন্য গাড়ির জন্য যদি স্পেসটি ভাড়া দেওয়া সম্ভব হয়, তাহলে একদিকে যেমন রাস্তায় গাড়ি পার্কিং করতে হচ্ছে না তেমনি গ্যারেজ মালিকও ওই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ভাড়া বাবদ কিছু বাড়তি টাকা আয় করতে পারছেন।’

তিনি জানান, অ্যাপটি ব্যবহারের জন্য প্রথমেই একজন গ্রাহককে নেক্সপার্ক অ্যাপ ইনস্টল করে গাড়ি নম্বর এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। এরপর অ্যাপ থেকেই দেখা যাবে আশপাশে কোথায় পার্কিং স্পেস রয়েছে। এ ছাড়া ঘরে বসেও কাঙ্ক্ষিত কোনো স্থানে পার্কিং স্পেস আছে কি না তাও জানা যাবে অ্যাপ থেকে।

অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে bit.ly/NexParc লিঙ্ক থেকে।

পার্কিং কই

গ্রামীণফোন অ্যাকসেলারেটর প্রোগ্রামের পঞ্চম ব্যাচে সেরা পাঁচ স্টার্টআপের একটি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিল পার্কিং কই। অ্যাপটির নির্মাতারা জানিয়েছেন, একজন ব্যবহারকারী তার অবস্থান থেকে পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে থাকা সব পার্কিং স্পেস খুঁজে নিতে পারবেন অ্যাপটির মাধ্যমে। এ ছাড়া গ্যারেজ বা পার্কিং স্পেস মালিকরা নিবন্ধনের মাধ্যমে তাদের গ্যারেজ অ্যাপে যুক্ত করতে পারবেন। যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীদের জন্য স্পেসটি উন্মুক্ত করে দেবে পার্কিং কই।

বর্তমানে ঢাকার পাশাপাশি চট্টগ্রাম এবং সিলেটেও অ্যাপটির কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। অ্যাপটির মাধ্যমে স্পেসভেদে প্রতি ঘণ্টায় ৫ টাকা থেকে শুরু করে ৩০ টাকায় গাড়ি পার্ক করা যাবে।

অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে bit.ly/ParkingKoi লিঙ্ক থেকে।

রাখো

পার্কিং সমস্যার সমাধান দিতে অ্যাপটি তৈরি করেছে ফিড স্টুডিও নামের একটি প্রতিষ্ঠান। অ্যাপটির নির্মাতারা হলেন ফয়সাল আহমেদ ইমন, হামুদি হাসান সনেট, মুহতাসিম ফুয়াদ রাফিদ, মুবিন উল আলম, এমএ তিলত এবং মুহাম্মদ তারিক সাইফুল্লাহ।

১০ এপ্রিল অ্যাপটি আনুষ্ঠানিকভাবে গুগল প্লে-স্টোরে উন্মুক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শুধু মোবাইল নম্বর দিয়েই অ্যাপটিতে নিবন্ধনের সুবিধা রাখা হয়েছে। তবে পার্কিং মালিকদের ক্ষেত্রে নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজন হবে জাতীয় পরিচয়পত্র। নিবন্ধন শেষে পার্কিং স্পেসের মালিক তার স্পেসের বিস্তারিত তথ্য, ছবি এবং কাঙ্ক্ষিত ভাড়ার পরিমাণ অ্যাপে যুক্ত করতে পারবেন। এ ছাড়া চাইলেই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য পার্কিং স্পেস অফলাইন করে রাখার সুবিধাও আছে অ্যাপটিতে।

অন্যদিকে একজন গ্রাহক পার্কিং স্পেস খোঁজার সময় স্পেস মালিকের কাছে একটি নোটিফিকেশন যাবে। তিনি সেখান থেকে রিকুয়েস্ট গ্রহণ করলে ফিরতি নোটিফিকেশনে গ্রাহক জানতে পারবেন।

বিকাশ এবং অনলাইন ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে পার্কিং স্পেসের ভাড়া মেটাতে পারবেন একজন গ্রাহক। অন্যদিকে সপ্তাহ শেষে বিকাশ কিংবা ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে রাখো কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে স্পেস ভাড়া বাবদ আয় করা অর্থ পেয়ে যাবেন পার্কিং স্পেসের মালিক।

রাখো অ্যাপটি ডাউনলোড করা যাবে bit.ly/Rakho লিঙ্ক থেকে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads