• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

শ্রমশক্তি

দেশে বেকারের প্রকৃত সংখ্যা কত?

  • মো. জাহিদুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২৭ মার্চ ২০১৮

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০১৬-১৭ অর্থবছরের ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপের তথ্য অনুযায়ী দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৭৭ হাজার। মোট শ্রমশক্তি বিবেচনায় বেকারত্বের হার ৪ দশমিক ২ শতাংশ। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বিশ্বব্যাপী বেকারত্বের হার ৫ দশমিক ৬০ শতাংশ। দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন আর পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে বিবিএসের হিসাবে দেশে বেকারের হার কম। আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি আর বহির্বিশ্বের বিবেচনায় দেশে বেকারের এ সংখ্যা মিলছে না বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদরা। বেকারের প্রকৃত সংখ্যা আরো অনেক বেশি হবে বলে মনে করেন তারা।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর ত্রৈমাসিক শ্রম জরিপে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের শ্রমবাজারে আছেন ৬ কোটি ৬৫ লাখ মানুষ। এর মধ্যে বিভিন্ন কর্মে নিয়োজিত আছেন ৬ কোটি ৮ লাখ। এ হিসাবে দেশে মোট বেকারের সংখ্যা প্রায় ২৭ লাখ। বিপুলসংখ্যক কর্মীর কর্মসংস্থানের মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে। এর বাইরে পর্যাপ্ত কাজ না থাকায় বিপুলসংখ্যক কর্মী পূর্ণঘণ্টা কাজ করতে পারছেন না। তা ছাড়া কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই কর্মবাজারে প্রবেশ করতে পারছেন না। খণ্ডকালীন, পূর্ণকালীন আর ছদ্মবেকার মিলে দেশে বর্তমানে ৬৫ লাখ ৭৫ হাজার বেকার রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

পরিসংখ্যান ব্যুরোর কর্মকর্তারা জানান, শ্রমশক্তি জরিপ পরিচালনায় আইএলওর মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়েছে। সংস্থার রীতি অনুযায়ী, জরিপ পরিচালনার সময়ের পূর্ববর্তী সাত দিনের মধ্যে মাত্র এক ঘণ্টা অর্থনৈতিক কাজ করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কর্মে নিয়োজিত ধরা হয়েছে। কোনো মজুরি বা আর্থিক লাভ না থাকলেও এ সময় মাত্র এক ঘণ্টার জন্য পরিবারের কোনো কাজ করলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বেকার বলে গণ্য হবেন না। এ মানদণ্ডের কারণেই দেশে বেকারের সংখ্যা কম।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ১০ কোটি ৯১ লাখ মানুষ আছেন। এ জনসংখ্যার ৪ কোটি ৫৫ লাখ শ্রমবাজারের বাইরে আছেন। এর মধ্যে ২৪ লাখ ৩৪ হাজার মানুষ কোনো কাজ না করলেও শ্রমবাজারে যোগ দিতে ইচ্ছুক। কাজ পেলে তারা স্বল্প সময়ে তাতে যোগ দিতে পারবেন। এ জনশক্তির প্রায় ১৪ লাখ ৯১ হাজার তরুণ বয়সী। কাজ পেলে ৩০ থেকে ৬৪ বছর বয়সী আরো ৯ লাখ ১০ হাজার মানুষ শ্রমবাজারে যোগ দেবেন। এ জনগোষ্ঠীকে সম্ভাবনাময় শ্রমশক্তি হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিবিএস।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, কাজের নিশ্চয়তা পেলে আরো ১৫ লাখ ৮৭ হাজার নারী শ্রমবাজারে যোগ দেবেন। আর শ্রমবাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় থাকা পুরুষের সংখ্যা ৮ লাখ ৪৬ হাজার। এ হিসাবে দেশে সম্ভাবনাময় শ্রমশক্তির সংখ্যা মোট শ্রমশক্তির ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।

দৈনিক সর্বনিম্ন ৮ ঘণ্টা করে সপ্তাহে ৪০ ঘণ্টা কাজ করার সুযোগ পেয়ে থাকেন এমন কর্মীদের পূর্ণকালীন কর্মজীবী হিসেবে গণ্য করে বিবিএস। প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের শ্রমশক্তির ১৪ লাখ ৬৫ হাজার মানুষ পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছেন না। খণ্ডকালীন কাজে নিয়োজিত আছেন ৯ লাখ ২৬ হাজার পুরুষ ও ৫ লাখ ৩৯ হাজার নারী। খণ্ডকালীন কর্মে নিয়োজিত জনশক্তির ১১ লাখ ৪৯ হাজার বাস করেন পল্লী অঞ্চলে। আর অবশিষ্ট ৩ লাখ ২৬ হাজার বাস করেন শহরে।

এ বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ড. শামসুল আলম বলেন, গত কয়েক বছরে কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর সুফলও পাওয়া গেছে। বর্তমানে মানসম্পন্ন কর্মসংস্থানে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বাড়লে ছদ্ম বেকারের সংখ্যা কমে আসবে বলেও তিনি মনে করেন।

বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) গবেষণা ফেলো ড. তৌফিকুল ইসলাম খান বলেন- শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও শ্রমবাজারে নিয়োজিত নেই এমন জনশক্তির জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দেখা দিচ্ছে। তা ছাড়া কৃষি খাতের আকারের বিবেচনায় বেশি শ্রমিক থাকায় তারা পূর্ণকালীন কাজ পাচ্ছেন না। এ সমস্যা সমাধানে শিল্প খাতের প্রস্তার বাড়িয়ে উদ্বৃত্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিতের পরামর্শ দেন তিনি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads