• সোমবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা

পোশাক শ্রমিক

সংরক্ষিত ছবি

শ্রমশক্তি

পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮ হাজার টাকা

পাঁচ বছরে বাড়ছে ৫১ শতাংশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশের তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে ৮ হাজার টাকা। মজুরি বোর্ডে ৬ হাজার ৩৬০ টাকা ন্যূনতম মজুরি দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। আর শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিদের প্রস্তাব ছিল ১২ হাজার ২০ টাকা। যদিও এ খাতে ১৬ হাজার টাকা মজুরির দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছিলেন পোশাক শ্রমিকদের বড় একটা অংশ। বোর্ডের বাইরে ১০ হাজার টাকা মজুরির প্রস্তাব দিয়েছিল গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিপিডি। এ অবস্থায় কয়েক দফায় বৈঠক করেও মজুরি বোর্ড চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসতে না পারায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৮ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করে দিয়েছেন। শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মজিবুল হক গতকাল সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করেন।

এ সময় প্রতিমন্ত্রী জানান, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে মূল বেতন ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১০০ টাকা। বাড়িভাড়া বাবদ ধরা হয়েছে ২ হাজার ৫০ টাকা। শ্রমিকরা চিকিৎসাভাতা হিসেবে প্রতিমাসে পাবেন ৬০০ টাকা। যাতায়াত ভাতা হিসেবে বরাদ্দ থাকবে ৩৫০ টাকা। আর তারা খাদ্য ভাতা হিসেবে পাবেন প্রতিমাসে ৯০০ টাকা। সব মিলিয়ে ন্যূনতম মজুরি পড়বে ৮ হাজার টাকা। তিনি আরো জানান, এবার শুধু ন্যূনতম মজুরি ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যান্য বেতন-কাঠামো পরে ঘোষণা করা হবে।

নতুন বেতন কাঠামোর সুবিধা শ্রমিকরা কতটা পাবে সে বিষয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে গত পাঁচ বছরে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ২৬ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু খাবারের দাম বেড়েছে ৪২ দশমিক ৩৬ ভাগ। বিবিএস জানায়, ২০১৩ সালের শেষে সার্বিক ভোক্তামূল্যসূচক ছিল ১৮১ দশমিক ৭৩ পয়েন্ট। আগস্ট মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৩ দশমিক ০৮ পয়েন্টে। প্রজ্ঞাপন জারির পর নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে ডিসেম্বরে। এ সময়ের মধ্যে মূল্যস্ফীতি আরো বাড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, পোশাক শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি পুনর্মূল্যায়নে গত জানুয়ারিতে সাবেক বিচারপতি সৈয়দ আমিনুল ইসলামকে প্রধান করে সরকার মজুরি বোর্ড গঠন করে। বোর্ডে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি হিসেবে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের শ্রম উপদেষ্টা কাজী সাইফুদ্দীন আহমেদ, শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি জাতীয় শ্রমিক লীগের কার্যকরী সদস্য ফজলুল হক মন্টু, মহিলা শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক বেগম শামসুন্নাহার ভূঁইয়া, নিরপেক্ষ প্রতিনিধি হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

কয়েক দফায় বৈঠকেও কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় সরকার এক দফায় মজুরি বোর্ডের মেয়াদ বাড়ায়। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর তোপখানা সড়কে মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে সর্বশেষ বৈঠক হয়। এরপর বোর্ডের সদস্যদের নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নতুন মজুরি কাঠামো ঘোষণা করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক।

এর আগে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় পোশাক শিল্পে ৬ হাজার ৩৬০ টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধাারণের প্রস্তাবের কথা জানিয়েছিলেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান। ১১টি বিষয় বিবেচনা করে শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন তিনি।

আর শ্রমিক প্রতিনিধি শামছুন্নাহার ভূঁইয়া বলেছিলেন, শ্রমিকদের অনেক সংগঠন ১৬ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলন করছে। অনেকেই চাইছে ১৮ হাজার টাকা। তবে পোশাক শিল্পে সব শ্রমিকের সক্ষমতা সমান নয়। তা ছাড়া দেশে এখন অনেক নতুন প্রযুক্তি এসেছে। নতুন আসা যন্ত্র চালাতে অভিজ্ঞ শ্রমিক প্রয়োজন। এ অবস্থায় অনভিজ্ঞ শ্রমিকের চাকরি রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সবকিছু বিবেচনায় তিনি ১২ হাজার ২০ টাকা মজুরির প্রস্তাব দিয়েছিলেন।

নতুন বেতন কাঠামোকে প্রহসন হিসেবে দেখছেন পোশাক শ্রমিকদের নেতারা। গার্মেন্টস শ্রমিক কর্মচারী লীগের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম এ বিষয়ে বলেন, রাজধানীর বস্তিতে একটি ছোট ঘরের ভাড়া এখন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা। ভাড়া বাসায় থেকে ৮ হাজার টাকা আয় করলে শ্রমিকরা খাবে কী। নিত্যপণ্যের দাম, সন্তানদের পড়াশোনার ব্যয়সহ সবকিছু বিবেচনা করলে এ বেতনে শ্রমিকদের জীবন-যাপন অসম্ভব হয়ে পড়বে বলে তিনি দাবি করেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads