• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
কোটা আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন শনিবার

কোটা সংস্কারের দাবিতে ফের আন্দোলনের ডাক দিয়েছে শিক্ষার্থীরা

সংরক্ষিত ছবি

জাতীয়

কোটা আন্দোলনকারীদের সংবাদ সম্মেলন শনিবার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৮ জুন ২০১৮

কোটা সংস্কারের দাবিতে আবারো আন্দোলনে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ সংবাদ সম্মেলন করে কর্মসূচি দেয়ার কথা জানিয়েছেন। শনিবার বেলা ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন।

কোটা বাতিল প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যের প্রায় তিন মাস পেরিয়ে গেলেও প্রজ্ঞাপন জারির কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাই নতুন করে আবারো আন্দোলনের কথা ভাবছেন আন্দোলনকারীরা। এ ছাড়া আন্দোলনকারীদের হত্যার হুমকি ও থানায় অভিযোগ না নেয়ায় ক্ষুব্ধ আন্দোলনের নেতারা।

বৃহস্পতিবার ছাত্র অধিকার সংগঠনের যুগ্ম-আহ্বায়ক রাশেদ খান কোটা সংস্কারকারী আন্দোলনের একটি ফেসবুক গ্রুপে লাইভে এসে তাদের অবস্থান তুলে ধরে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এছাড়া বিভ্রান্ত না হয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। এজন্য ঢাকার সব বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষার্থীদের দ্রুত হলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘যৌক্তিক এই আন্দোলনকে সফল করতে বাংলার ছাত্রসমাজকে এক থাকতে হবে। সারাদেশের কমিটিতে কোনো মতপার্থক্য সৃষ্টি করা যাবে না। বিভেদ সৃষ্টিকারীদের সুযোগ দেয়া যাবে না।’

রাশেদ খান বলেন, ‘১১ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী জাতীয় সংসদে কোটা প্রথা বাংলাদেশে আর থাকবে না বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু, গতকাল (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্য ভিন্নভাবে পেশ করেছেন। তার এই বক্তব্যে ছাত্রসমাজ ক্ষুব্ধ এবং হতাশ। সবার মনোভাব দেখে বুঝতে পেরেছি, আমরা যদি এখনই আন্দোলনের ডাক দেই, তাহলে বাংলার ছাত্রসমাজ ফের ১৮ এপ্রিল তৈরি করতে প্রস্তুত আছেন। যে আন্দোলনে আমরা নেমেছি, সফল হয়েই ঘরে ফিরব। এই বৈষম্য দূর না হলে আপনি আমি কেউই চাকরি পাব না। সারাজীবন বেকার থাকতে হবে, মা-বাবার স্বপ্ন ধুলিসাৎ হয়ে যাবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপাতত অন্য বিষয় নিয়ে কেউ মাতামাতি করবেন না। আমরা বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চাই। এজন্য জীবনবাজি রেখে নেতৃত্ব দিচ্ছি। আপনারা আমাদের পাশে থাকুন, সমর্থন দিন। ইনশাআল্লাহ এই আন্দোলন সফল হবেই। বাংলাদেশের ৯৮ শতাংশ মানুষ আমাদের পক্ষে, কাউকে ভয় পাওয়া কোনো কারণ নেই। ছাত্রশক্তির সঙ্গে কোনো শাসকের পেরে ওঠার ইতিহাস পৃথিবীতে নেই। ছাত্ররা যা বলবে, এদেশেও তাই হবে।’

হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্রদের খেলনা পুতুল ভাববেন না। ছাত্ররা খেলার পুতুল নয়। তাদের নিয়ে যেমন ইচ্ছা খেলবেন, যেভাবে ইচ্ছা নাড়াবেন এটা তারা মেনে নেবে না। আজ ছাত্রসমাজ এক হয়েছে, যেকোনো মূল্যে তারা বিজয় ছিনিয়ে আনবে।’

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা শেষ মুহূর্তে এসে টি-টোয়েন্টি খেলে আন্দোলনে ভিন্নমাত্রা দিয়েছিলেন। অতীতে আপনারা ভ্যাটবিরোধী আন্দোলন করে সফল হয়েছেন, আপনাদের থেকে আমরা অনেক প্রেরণা পেয়েছি। অতীতের মতোই আপনারা আমাদের পাশে থাকবেন। আমাদের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। প্রাইভেট-পাবলিক কলেজ বলে কোনো কথা নেই। আমরা ছাত্ররা সব ভাই ভাই। বিভেদমুক্ত বাংলাদেশ গড়াই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads