• শুক্রবার, ১৬ নভেম্বর ২০১৮, ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
নীতিমালা নয়, এমপিওভুক্তি চান শিক্ষকরা

এমপিওভুক্তির দাবিতে জাতয়ি প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কে আমরণ অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের সমবেদনা জানান কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী

ছবি : বাংলাদেশের খবর

জাতীয়

নীতিমালা নয়, এমপিওভুক্তি চান শিক্ষকরা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ০৭ জুলাই ২০১৮

সদ্য জারি হওয়া নীতিমালা অনুযায়ী নয়, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত এমপিওভুক্তির দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের দাবি, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী অনেক স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হতে পারবে না। এত দিন বিনা বেতনে চাকরি করার পর এখন নতুন নীতিমালার খড়গে বাদ পড়ার বিষয়টির বিরোধিতা করছেন তারা।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের অপর পাশে আমরণ অনশন কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। কর্মসূচির দ্বাদশ দিনে গতকাল শুক্রবার আন্দোলন অব্যাহতের ঘোষণা দেন নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার। তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) নীতিমালার কথা উল্লেখ করায় শিক্ষকরা হতাশ হয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর মাধ্যমে যে নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে তা নন-এমপিও প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণে কৌশলগত অন্তরায় তৈরি করেছে। এমনটি হয়তো প্রধানমন্ত্রীও অবগত নন। গত ৫ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী স্বীকৃতপ্রাপ্ত নন-এমপিও সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান একযোগে এমপিওভুক্তকরণের জন্য যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা বাস্তবায়নের উপযোগী একটি নীতিমালা প্রত্যাশা করছি। সবার এমপিওভুক্তির ঘোষণা না এলে অনশন চালিয়ে যাব।’

তিনি আরো বলেন, ‘সারা দেশে ২৭ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ডের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। যথযাথ শর্ত মেনেই স্বীকৃতি মিলেছিল। অথচ বছরের পর বছর আমরা মেধা-শ্রম দিয়ে যাচ্ছি বিনা বেতনে। আর সম্ভব নয়। প্রধানমন্ত্রী বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের কথা বলেছেন। কিন্তু আমরা সদ্য জারি হওয়া এমপিও নীতিমালা-২০১৮ মানতে রাজি নই। আগে এমপিওভুক্তি তারপর শর্ত।’

ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ ড. বিনয় ভূষণ রায় বলেন, ‘বর্তমান নীতিমালার অধীনে এমপিওভুক্তি হলে আমরা বঞ্চিতই থেকে যাব। নীতিমালায় পাসের হার, শিক্ষার্থীর সংখ্যাসহ অনেক শর্ত উল্লেখ আছে, যা অনেক এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও নেই। আমাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনেক পুরনো এবং বোর্ডের স্বীকৃতিপ্রাপ্ত। এরপরও কেন শর্ত? আমরা নতুন করে শর্ত কিংবা কোনো নিয়মের ফাঁদে পড়তে চাই না। আগে তো আমাদের বেতন দিক। আমাদের এমপিওভুক্ত করা হোক। এরপর না আমাদের ওপর শর্ত দেওয়াটা মানা যায়।’

অনশনে অংশ নেওয়া শিক্ষকরা বলেন, সারা দেশে ২০-২৫ বছর ধরে প্রায় ৮০ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী বিনা বেতনে শিক্ষকতা করে আসছেন। তারা পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ, চিকিৎসাসেবা দিতে না পেরে নিজেরাই বোঝা হয়ে গেছেন। অপরদিকে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদাও নেই। জাতি গড়ার কারিগররা সরকারের অবিবেচক সিদ্ধান্তের কারণে তিলে তিলে ধ্বংস হয়ে যাচ্ছেন।

এমপিওভুক্তির দাবিতে নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা নতুন করে গত ১০ জুন থেকে রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন। গতকাল ছিল আন্দোলনের ২৭তম দিন এবং আমরণ অনশন কর্মসূচির ১২তম দিন। আমরণ অনশনে এ পর্যন্ত দুই শতাধিক শিক্ষক-কর্মচারী অসুস্থ হয়েছেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads