• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads
৮০ শতাংশ কলেরার জীবাণু পরিবার থেকে ছড়ায়

আইসিডিডিআরবি’ হসপিটাল

সংগৃহীত ছবি

পর্যবেক্ষণ

৮০ শতাংশ কলেরার জীবাণু পরিবার থেকে ছড়ায়

আইসিডিডিআরবি’র গবেষণা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৯ জুন ২০১৮

রাজধানীতে ৮০ শতাংশ কলেরা পরিবার থেকে ছড়ায়। পরিবারের কোনো এক সদস্য কলেরায় আক্রান্ত হলে ওই পরিবারে একই গৃহসামগ্রী ব্যবহারের কারণে পরবর্তী পাঁচ দিনের মধ্যে অন্য সদস্যদের মধ্যেও কলেরা সংক্রমিত হয়। আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) বিজ্ঞানীদের গবেষণায় তথ্য উঠে আসে। গত ২৫ জুন ‘ন্যাচার জেনেটিকস’ নামে একটি বিদেশি জার্নালে ওই গবেষণার ফলাফল প্রতিবেদন আকারে প্রকাশিত হয়।

গবেষকরা জানিয়েছেন, তাদের এ গবেষণা কলেরা নিয়ন্ত্রণ কৌশল প্রণয়নে সহায়তা করবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় সংক্রমণ ছড়ানো বন্ধ করতে এবং বিশ্বব্যাপী কলেরা প্রতিরোধে কাজে লাগবে। প্রাচীন রোগ হওয়া সত্ত্বেও কলেরার সংক্রমণ বেড়েই চলছে। বিশ্বব্যাপী ১৪০ কোটি মানুষ কলেরার ঝুঁকিতে রয়েছে। এ রোগে বিশ্বে বছরে ৩০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয় এবং ১ লাখ ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। রাজধানী ঢাকায় বছরে দু’বার কলেরার সংক্রমণ ঘটে। বাংলাদেশে প্রতিটি মানুষ কখনো না কখনো এ রোগে আক্রান্ত হয়।

কীভাবে মানুষের মধ্যে কলেরা সংক্রমিত হয় এবং কীভাবে সহজ পদ্ধতিতে নিয়ন্ত্রণ করা যায় তা জানার জন্য গবেষকরা কলেরা আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারে রান্নার বাসন-কোসন অন্য যারা ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে কলেরার জীবাণুর নমুনা নেন। গবেষকরা ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত ঢাকার মহাখালী আইসিডিডিআর’বি হাসপাতালে ভর্তি কলেরা রোগীদের ১০৩টি পরিবারের ২২৪ সদস্যের কাছ থেকে তিন সপ্তাহে ৩০৩টি ভিব্রিও কলেরার নমুনা সংগ্রহ করেন।

গবেষকরা কলেরার জীবাণুুর নমুনার জিনোম থেকে বের করেন কীভাবে পরিবারের এক সদস্য থেকে আরেক সদস্যের মধ্যে সংক্রমিত হয়। এসব নমুনা একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা কলেরার অন্যান্য নমুনার সঙ্গে তুলনাও করা হয়। তারা জানতে পারেন, ৮০ শতাংশ দ্বিতীয় পর্যায়ের সংক্রমণ প্রথম পর্যায়ের সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত। এতে বেরিয়ে আসে, একবার পরিবারের কোনো সদস্যের মধ্যে কলেরার জীবাণু প্রবেশ করলে তা পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মধ্যে পাঁচ দিনের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষকরা জানান, পরিবার থেকেই জীবাণু নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ।

গবেষকদের পরামর্শ, উন্নত স্যানিটেশন ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকলে, পানির মধ্যে ক্লোরিন ব্যবহার করলে এবং পরিবারের সদস্যদের ভ্যাক্সিন দেওয়া হলে কলেরার সংক্রমণ হ্রাস করা সম্ভব।

আইসিডিডিআরবি’র বিজ্ঞানী এবং গবেষণার কো-লিড অথর ড. ফেরদৌসি কাদরী জানান, কলেরার প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন, জীবাণুমুক্ত পানি এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে নজর দিতে হবে। গবেষণাকর্মের প্রধান গবেষক ড. ডেরিল ডমম্যান বলেন, পরিবারের এক সদস্য থেকে অন্য সদস্যের মাধ্যমে সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। তাহলে রোগটি থেকে নিষ্কৃতি পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads