• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads

মতামত

কোটা সংস্কার ও আরও কিছু সংস্কারের প্রশ্ন

  • প্রকাশিত ১৬ এপ্রিল ২০১৮

বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রচলিত কোটা ব্যবস্থার সংস্কারের বিষয়টি গত অন্তত পঁচিশ বছর  ধরে নানাভাবে আলোচিত হয়ে আসছে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো ব্যবস্থাই গ্রহণ করেনি। এর মধ্যে সরকার পরিবর্তিত হয়েছে এবং সময়ের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সমস্যা জটিলতর হয়েছে। বর্তমান সরকারের আমলে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবি ক্রমে জোরদার হয়েছে। প্রচলিত কোটা ব্যবস্থায় সংরক্ষিত আসনের মধ্যে আছে- জেলাভিত্তিক ১০%, নারীর জন্য ১০%, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীগুলোর জন্য ৫%, প্রতিবন্ধীদের জন্য ১% এবং মুক্তিযোদ্ধাদের (সন্তান-সন্তুতি, নাতি-পুতি) জন্য ৩০%- মোট ৫৬%। যোগ্যতাভিত্তিক নিয়োগের জন্য আছে অবশিষ্ট ৪৪% ভাগ।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের জন্য এবার যাঁরা আন্দোলন করছেন তাঁদের দাবি- সংরক্ষিত কোটা মোট ৫৬% থেকে কমিয়ে মোট ১০% করা হোক। গত কয়েক দিনের মধ্যে আন্দোলন যখন রাস্তায়, সমাবেশে, মানববন্ধনে ও প্রতিবাদ মিছিলে রূপ নেয়, তখন কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ফলে বহু ছাত্র এবং চারজন পুলিশ আহত হন। আন্দোলনকারীদের থেকে বেশকিছু ছাত্র গ্রেফতার হন। এর মধ্যে (কোনো কোনো মন্ত্রী আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে কুৎসিত মন্তব্য করেন।) ৮ এপ্রিল দিবাগত গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভবন ভীষণভাবে আক্রান্ত হয়। তাতে ভবনের আসবাবপত্র, মূল্যবান সব জিনিসপত্র- দারুণভাবে ভাঙচুর করা হয়, আগুন দিয়ে বেশকিছু জিনিস পুড়িয়ে দেওয়া হয়। সে এক নারকীয় ভয়াবহতা, ভাষায় বর্ণনা করা সম্ভব নয়। গত তিন-চার মাস ধরে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের প্রশ্নে দৈনিক পত্রিকায় সম্পাদকীয় ও  উপসম্পাদকীয়তে অনেক কথা লিখিত হয়েছে, টক শোতে অনেক কথা বলা হয়েছে এবং নিজ নিজ মতের অনুকূলে প্রত্যেকে সিদ্ধান্ত ব্যক্ত করেছেন। দৃষ্টিভঙ্গি সংস্কারাচ্ছন্ন, গোঁড়া ও স্বার্থান্ধ না হলে কারও পক্ষেই বুঝতে কোনো অসুবিধা ছিল না যে, কোটা সংস্কারের দাবি সম্পূর্ণ যুক্তিসঙ্গত। বলাবাহুল্য, ‘সংস্কার’ বলে ‘বিলুপ্তি’ চাওয়া হয়নি।

সরকারের দিক থেকে ক্রমাগত বলা হয়েছে যে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই নির্দিষ্ট কোটায় প্রার্থী পাওয়া যায় না; এ অবস্থায়, প্রার্থীর অভাবে আসন শূন্য থাকলে তা মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হবে এবং সে ব্যবস্থা ইতোমধ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার প্রচলিত ৫৬% কোটা বহাল রাখার প্রশ্নে অনড় থেকেছে। কিন্তু সরকার জনগণের কাছে তার বক্তব্য গ্রহণযোগ্য করতে পারেনি। কোটা পূরণের জন্য প্রার্থী যদি পাওয়া না যায়, তাহলে ৫৬% অপরিবর্তিত রাখার প্রয়োজন কী? ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতের মর্মান্তিক ঘটনার পরে সরকার কোটা পদ্ধতির সংস্কারের প্রশ্নে কিছুটা নমনীয় হয়ে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সামনাসামনি আলোচনার উদ্যোগ নেয় এবং এক মাসের মধ্যে বিধি-বিধান সংস্কার করে সিদ্ধান্ত ঘোষণার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে। তাতে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে আন্দোলনে সাময়িক বিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়। সরকারের কৃষিমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী এমন কিছু কথা বলেছিলেন, যাতে আন্দোলনকারীদের ক্ষিপ্ত হওয়ার কারণ ঘটেছিল। কৃষিমন্ত্রীর ‘রাজাকারের বাচ্চা’ কথাটি বিক্ষোভ বাড়িয়ে তোলার কারণ হয়েছিল। এ অবস্থায় ঘোষণা অনুুযায়ী কাজ হচ্ছিল না। কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যাহারের এবং গ্রেফতারকৃতদের মুক্তির দাবি ধ্বনিত হচ্ছিল। তাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সারা দেশে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্র-শিক্ষকরা কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হয়ে যান। সারা দেশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ধর্মঘট চলছিল। সরকারপক্ষ থেকে সংস্কারের সন্তোষজনক ঘোষণা না পেলে আন্দোলনকারীরা আন্দোলন থেকে বিরত হবেন- এমন ভাবা যায়নি।

উপাচার্য ভবনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে বলা হতে থাকে যে, আন্দোলনকে বিভ্রান্তির মধ্যে ফেলার জন্য কোনো মহল থেকে এটা করানো হয়েছে।

সরকারি ও প্রশাসনিক আদেশাদিতে আমলাতান্ত্রিক ও ওকালতি মারপ্যাঁচের ভাষায় নানা ঘোষণা দেওয়া হতে থাকে। দরকার ছিল জনগণের ভাষায় সরল-সহজ ঘোষণা। সরকার অত্যন্ত প্রবল, আন্দোলনকারীরা দুর্বল। তবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আন্দোলন বেড়ে চলছিল। তাতে ছাত্রলীগ বিপাকে পড়ে গিয়েছিল। এ অবস্থায় ১১ এপ্রিল জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী কোটা ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার ঘোষণা দেন; সেই সঙ্গে আরো ঘোষণা দেন যে, প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও পশ্চাৎবর্তী গোষ্ঠীসমূহের জন্য সরকার ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। এর জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে আহ্বায়ক করে একটি কমিটি গঠনের ঘোষণাও দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরের দিন আন্দোলনকারীরা সরকারের প্রজ্ঞাপন জারি পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত ঘোষণা করে এবং উত্তেজনা প্রশমিত হয়।

কোটা পদ্ধতির সংস্কারের ব্যাপারটি সমাধানযোগ্য ছিল এবং এর সমাধান মোটেই কঠিন কোনো ব্যাপার ছিল না। সমাধানের জন্য দরকার ছিল- ১. জেদাজেদিমুক্ত, গোঁয়ার্তুমিমুক্ত, ঔদ্ধত্যমুক্ত, সমাধানকামী মানসিকতা। ২. দলীয় সঙ্কীর্ণতা, হীনস্বার্থান্বেষী প্রচেষ্টা ও প্রবণতা পরিহার করা। ৩. সকল মহলে আত্মশুদ্ধির মনোভাব, শুভবুদ্ধি, সদিচ্ছা। দুষ্টবুদ্ধি, অসৎ অভিপ্রায়, মুনাফেকি (Hypocricy) ও সুবিধাবাদ দ্বারা মীমাংসা সম্ভব হয় না। এই সহজ ব্যাপারটির সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পর সরকার যদি সাফল্যের পরিচয় দেয়, তা হলে সরকারের প্রতি জনগণের সমর্থন বাড়বে। এতে সরকার যদি জটিল, কুটিল, ওকালতি কিংবা আমলাতান্ত্রিক বুদ্ধি নিয়ে কাজ করে, তাহলে তা সরকারের জন্য ভালো হবে না। এনজিও-কর্তাদের ও সিভিল সোসাইটি সংগঠনসমূহের বুদ্ধিজীবীদের প্রচারের দ্বারাও বিভ্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দরকার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা। Honesty is the best policy- এই কথার অনুশীলনে সকল পক্ষের মনোযোগী হওয়া দরকার। ইংরেজরা তাদের জাতীয় সব ব্যাপারে এই প্রবাদের নীতি অবলম্বন করে চলে, অন্তত চলতে চায়। তবে অন্য জাতির বা রাষ্ট্রের সঙ্গে- বিশেষ করে দুর্বল জাতিসমূহের সঙ্গে সম্পর্কের বেলায়- তারা যে নীতি অবলম্বন করে তা dominance and dependency. সে ক্ষেত্রে তারা উপনিবেশবাদী ও সাম্রাজ্যবাদী। বাংলাদেশে যে অবস্থা এখন বিরাজ করছে তাতে ‘ওকালতি বুদ্ধি’, ‘আমলাতান্ত্রিক বুদ্ধি’ ও ‘সুশীল-সুজনদের বুদ্ধি’র চেয়ে ‘মোটামুটি সৎ রাজনৈতিক বুদ্ধি’ সরকারের জন্য এবং দেশবাসীর জন্য ভালো হবে। সরকার যেহেতু অত্যন্ত প্রবল এবং সরকারের গঠনমূলক সমালোচনায়ও যেহেতু সাহসের নিদারুণ অভাব, সে জন্য সরকারের ওপরই এখন জাতীয় বা রাষ্ট্রীয় ব্যাপারে ভালো-মন্দ সবকিছু নির্ভর করে। সাহস সম্পর্কে বলতে চাই, সাহস হলো সেই মানবিক গুণ যা অন্যসব মানবিক গুণকে রক্ষা করে। যখন কোনো রাষ্ট্রব্যবস্থায় বা জাতীয় জীবনে সাহসের অভাব দেখা দেয়, খয়ের খাঁরা কর্তৃত্ব বিস্তার করে, স্বৈরাচার ও স্বেচ্ছাচার নিয়ামক নীতি হয়ে ওঠে, তখন সেই রাষ্ট্র ও জাতির মধ্যে সব মানবিক গুণেরই অভাব ঘটতে থাকে। তাতে জাতীয় সভ্যতার গতি রুদ্ধ হয় এবং বর্বরতার দিকে যাত্রা চলে। সংঘাত, সংঘর্ষ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ বর্বরতার প্রকাশ।

গত প্রায় চল্লিশ বছর ধরে এনজিও ও সিভিল সোসাইটি মহল থেকে এবং সাম্রাজ্যবাদী মহল থেকে নানা প্রচার-প্রচারণা ও কার্যক্রম দ্বারা ক্রমাগত এমন সব ধারণা সমাজের উচ্চ, মধ্য ও নিম্নস্তরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে, যেগুলো বাংলাদেশের ভূভাগে রাষ্ট্র ও জাতি গঠনের সম্পূর্ণ প্রতিকূল। বাংলাদেশে গরিব মানুষদের জন্যও কি এনজিও ও সিএসওসমূহের চিন্তা কল্যাণকর? সিভিল সোসাইটির শক্তি বৃদ্ধির এবং পলিটিক্যাল সোসাইটিকে দুর্বল করার যে নীতি গত প্রায় চার দশক ধরে কার্যকর আছে, তা বাংলাদেশকে কোন গন্তব্যের দিকে নিয়ে চলছে? এ বিষয়টি নিয়ে সরকারি মহলে এবং সব দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সচেতনতা কাম্য। আমরা রাজনৈতিক নেতৃত্বের উন্নতি চাই। এনজিও ও সিএসওসমূহের সক্রিয়তার মধ্যে তা সম্ভব নয়। তারা কাজ করে Political Society-কে যথাসম্ভব দুর্বল করার জন্য এবং Civil Society Organization-গুলোকে যথাসম্ভব শক্তিশালী করার কর্মনীতি নিয়ে।

পরিবার ব্যবস্থার শিথিলতা ও অবক্ষয় এবং ধর্ষণের ব্যাপারটি নিয়েও রাজনৈতিক মহলে চিন্তা-ভাবনা দরকার। নারীবাদীদের কার্যক্রম পরিবারের অবক্ষয় ও ধর্ষণের সমস্যার সমাধানে সহায়ক নয়, পরিবার-ব্যবস্থার ও কর্ম-ব্যবস্থাপনার সংস্কার দরকার।

শিক্ষাব্যবস্থার পর্যায়ক্রমিক সংস্কারও অপরিহার্য। সময় থাকতে সমস্যার সমাধান করা না হলে ভয়াবহ সঙ্কট দেখা দেবে। জাতি ও রাষ্ট্রের যে অবস্থা তাতে প্রাথমিক শিক্ষাকে অষ্টম শ্রেণিতে উন্নীত না করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্তই রাখা উচিত এবং সব দিক দিয়ে এর মান উন্নত করা উচিত। পঞ্চম শ্রেণির ও অষ্টম শ্রেণির পাবলিক পরীক্ষা অবিলম্বে বিলুপ্ত করা উচিত। কথিত সৃজনশীল পরীক্ষা পদ্ধতির আমূল সংস্কার এবং সহজ-সরল বর্ণনামূলক উত্তর লেখার পদ্ধতিকে উন্নত করে কার্যকর করা দরকার। শিক্ষার্থীরা যাতে জ্ঞানমুখী, শিক্ষামুখী, সন্ধিৎসু ও কৌতূহলী হয়, স্বদেশপ্রেম ও স্বাজাত্যবোধে অনুপ্রাণিত হয়, রাষ্ট্রের সুনাগরিক হওয়ার চেতনা লাভ করে সেদিকে লক্ষ্য রেখে পরীক্ষা পদ্ধতির সংস্কার সাধন করতে হবে। ইংলিশ ভার্সন অবিলম্বে বিলুপ্ত করতে হবে। এসব কাজ জরুরি ভিত্তিতে দ্রুত করে ফেলা উচিত। সরকার বর্তমান শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে পরিতৃপ্তি প্রকাশ করে, তা কি রাষ্ট্র, জাতি ও জনগণের জন্য কল্যাণকর? 

আমার ধারণা, বাংলাদেশে শিক্ষানীতি ও শিক্ষাব্যবস্থা অত্যন্ত খারাপ অবস্থায় আছে। এ সম্পর্কে সকল পর্যায়ের শিক্ষকদের, অভিভাবকদের এবং কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের পরিপূর্ণ সচেতনতা ও সতর্কতা দরকার। বাংলা ভাষাকে রাষ্ট্রভাষা রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। কেবল অফিসে, ব্যাংকিংয়ে, বিচারব্যবস্থায় বাংলা চালু করলেই রাষ্ট্রভাষারূপে বাংলা ভাষার প্রতিষ্ঠা হয়ে যাবে না। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষারূপে প্রতিষ্ঠা করতে হলে বাংলাদেশে জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চায় বাংলা ভাষার ব্যবহারকে ক্রমবর্ধমান রাখতে হবে। বাংলাদেশে সাহিত্য এখন প্রাণশক্তিহীন হয়ে আছে। এ নিয়ে লেখকদের মধ্যে নতুন চেতনা দরকার। দরকার নতুন রেনেসাঁসের স্পিরিট।

শিল্প-সাহিত্যে রূপ-রীতির উৎকর্ষ যেমন দরকার, তেমনি দরকার বিষয়গৌরব। মূল্যবোধ ও নৈতিক চেতনা-বিজ্ঞানসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির অবলম্বন দরকার।

রেনেসাঁস হলো কোনো জাতির সভ্যতা-সংস্কৃতির নবজন্ম। আগেকার রেনেসাঁস দ্বারা মধ্যযুগের গর্ভ থেকে আধুনিক যুগকে মুক্ত ও বিকশিত করা হয়েছে। গত প্রায় চার দশক ধরে আধুনিক যুগের ভুলত্রুটি ও অনাচার থেকে মুক্ত হয়ে নতুন সভ্যতা সৃষ্টির চিন্তা ও চেষ্টা না থাকার ফলে এবং ধর্মের বিশেষ করে ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রমাগত প্রচারকার্য চালানোর ফলে সাধারণ মানুষ আদর্শগত অবলম্বন না পেয়ে ধর্মের দিকে ঝুঁকে গিয়েছে। প্রগতিশীল বলা যায়, এমন কোনো রাজনৈতিক দল বা বুদ্ধিজীবী গোষ্ঠী বাংলাদেশে নেই।

আজ দরকার গণতন্ত্রের নামে, সমাজতন্ত্রের নামে, জাতীয়তাবাদের নামে অপকর্মের যে প্রবাহ চলছে তার গ্রাস থেকে মুক্তি। এর জন্য আদর্শগত পুনর্গঠন, শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা, সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের আধিপত্যনীতি থেকে মুক্তি ও স্বাধীন চিন্তাশীলতা। রেনেসাঁসের স্পিরিট এসবের মোকাবিলা করবে।

নতুন রেনেসাঁস এবং তার ধারায় যে গণজাগরণ দরকার তার সৃষ্টিতে প্রথমেই বহু লোক এগিয়ে আসবেন না। প্রথমে দরকার স্বল্পসংখ্যক লেখক-শিল্পী ও কর্মী। কিছু লোককে অগ্রযাত্রীর ভূমিকা পালন করতে হবে। সমাজের ভেতর থেকে এই অগ্রযাত্রীদের প্রতি সমর্থন দরকার। ভাড়াখাটা বুদ্ধিজীবীরা কায়েমি-স্বার্থবাদীদের দাস-দাসী। তারাই ঘটনাপ্রবাহের নিয়ামক শক্তি হয়ে আছে। জনসাধারণকে জাগতে হবে। জনসাধারণ ঘুমিয়ে থাকলে অবস্থার উন্নতি সম্ভব হবে না। সমাজে কোনো লোককেই এখন সম্মানজনক অবস্থানে রাখা হচ্ছে না। অন্তত কিছু লোককে সম্মানজনক অবস্থানে না দেখলে জনগণ কোন ভরসায় জাগবে? অন্তত একটি-দুটি সংবাদপত্র কি এ ব্যাপারে সদর্থক ভূমিকা গ্রহণ করতে পারে না?

 

আবুল কাসেম ফজলুল হক

সৃষ্টিশীল চিন্তাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads