• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads

মতামত

গোখলের ঢাকা সফর ও অমীমাংসিত বিষয়াবলি

  • ড. তারেক শামসুর রেহমান
  • প্রকাশিত ১৯ এপ্রিল ২০১৮

ভারতের নয়া পররাষ্ট্র সচিব বিজয় কেশব গোখলের ঢাকা সফর শেষ হয় গত ১০ এপ্রিল। এটা গোখলের প্রথম ঢাকা সফর। এই সফরে তথ্য, শিক্ষা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ ছয়টি বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। শিলিগুড়ি ও পার্বতীপুরের মধ্যে মৈত্রী পাইপলাইন বাস্তবায়ন, দেশের ৫০৯ স্কুলে কম্পিউটার ও ভাষা গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন, রংপুর সিটি করপোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইসিসিআর রবীন্দ্র চেয়ার প্রবর্তন, ভারতের স্পেশাল সেন্টার ফর নিউক্লিয়ার এনার্জি পার্টনারশিপ এবং বাংলাদেশের পরমাণু শক্তি কমিশনের আন্তঃসংস্থা চুক্তিতে একটি সংযোজন স্মারক স্বাক্ষর করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা। সংবাদ সম্মেলনে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব আমাদের জানিয়েছেন, ভারত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করবে। তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তি নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে আমাদের পররাষ্ট্র সচিব জানিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে তিস্তার পানি বণ্টনের বিষয়টি অগ্রাধিকার তালিকায় শীর্ষে ছিল। কিন্তু এ ব্যাপারে কোনো সুস্পষ্ট ‘কমিটমেন্ট’ আমরা পাইনি। আসামে প্রায় ৫০ লাখ বাঙালি মুসলমান সেখানে এক ধরনের অনিশ্চয়তার মধ্যে আছেন। ভারতীয় নাগরিকত্ব চিহ্নিতকরণের যে কর্মসূচি আসাম সরকার হাতে নিয়েছে, তাতে উৎরে যেতে পারেননি ওইসব বাঙালি মুসলমান। আসাম সরকারের অভিযোগ, এরা ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আসামে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরও এরা আর ফিরে যাননি। এদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে- এমন কথা আসাম সরকারের পক্ষ থেকে উচ্চারিত হয়েছে। প্রসঙ্গটি দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় এসেছে- এমন তথ্য মিডিয়ায় আসেনি। শুধু তাই নয়, এক বছরের মধ্যে ভারত সরকার একাধিক বাংলাদেশি পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কারোপ করেছে। গত বছরের জানুয়ারি মাসে তিন ধরনের পাট পণ্যের ওপর শুল্কারোপ করা হয়। আর জুন মাসে শুল্কারোপ করা হয় হাইড্রোজেন পার অক্সাইডের ওপর। বাংলাদেশে তৈরি ফিশিং নেটও শুল্কারোপের আওতায় আসছে। পাটপণ্যের (পাটের সুতা, বস্তা ও চট) ওপর শুল্কারোপ সাফটা চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের পণ্যের যে সুবিধা পাওয়ার কথা, তা থেকে বাংলাদেশ বঞ্চিত হলো। বিষয়টি গোখলের সফরে আলোচনা হয়েছে, এমন তথ্যও আমাদের জানা নেই। দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের অগ্রাধিকারের তালিকায় শীর্ষে ছিল তিস্তার পানি বণ্টন। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও বলেছেন তিস্তা চুক্তি না হওয়ার কথা।

তিস্তা একটি আন্তর্জাতিক নদী। এক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ এককভাবে পানি প্রত্যাহার করতে পারে না। আন্তর্জাতিক নদীর পানি ব্যবহার সংক্রান্ত ১৯৬৬ সালের আন্তর্জাতিক আইন সমিতির হেলসিংকি নীতিমালার ৪ ও ৫ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রতিটি অববাহিকাভুক্ত রাষ্ট্র, অভিন্ন নদীসমূহ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অবশ্যই অন্য রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনকে বিবেচনায় নেবে। এখন পশ্চিমবঙ্গের পানি প্রত্যাহার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রয়োজনকে বিবেচনায় নেয়নি। হেলসিংকি নীতিমালার ১৫নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, প্রত্যেকটি তীরবর্তী রাষ্ট্র তার সীমানায় আন্তর্জাতিক পানি সম্পদের ব্যবহারের অধিকার ভোগ করবে যুক্তি ও ন্যায়ের ভিত্তিতে। কিন্তু এই ‘যুক্তি ও ন্যায়ের’ ভিত্তিটি উপেক্ষিত থাকে যখন পশ্চিমবঙ্গ বাংলাদেশকে তার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করে। ১৯৯২ সালের ডাবলিন নীতিমালার ২নং নীতিতে বলা হয়েছে, পানি উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনায় অবশ্যই সবার অংশগ্রহণমূলক হতে হবে। তিস্তার পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে এটা হয়নি।

১৯৯৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ‘জলপ্রবাহ কনভেনশন’ নামে একটি নীতিমালা গ্রহণ করে। এই নীতিমালার ৬নং অনুচ্ছেদে পানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘যুক্তি ও ন্যায়পরায়ণতা’র কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের ব্যবহার, অর্থাৎ এককভাবে তিস্তার পানির ব্যবহার এই ‘যুক্তি ও ন্যায়পরায়ণতা’র ধারণাকে সমর্থন করে না। আমরা আরো আন্তর্জাতিক আইনের ব্যাখ্যা দিতে পারব, যেখানে বাংলাদেশের অধিকারকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। বিশেষ করে, পরিবেশসংক্রান্ত জীববৈচিত্র্য কনভেনশনের ১৪নং অনুচ্ছেদ, জলভূমিবিষয়ক রামসার কনভেনশনের ৫নং অনুচ্ছেদ- প্রতিটি ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব এবং উদ্ভিদ ও প্রাণিসমূহের সংরক্ষণের যে কথা বলা হয়েছে, তা রক্ষিত হচ্ছে না। এখানে সমস্যাটা ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের। ভারতের ফেডারেল কাঠামোয় রাজ্য কিছু সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে। কিন্তু কোনো রাজ্য (এ ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ, এমন কিছু করতে পারে না, যা আন্তর্জাতিক আইনের বরখেলাপ ও আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। সমস্যাটা ভারতের। পশ্চিমবঙ্গকে আশ্বস্ত করার দায়িত্ব কেন্দ্রীয় সরকারের। আমরা আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীই আমাদের পানির হিস্যা নিশ্চিত করতে চাই।

তিস্তায় পানির প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়া এবং তিস্তায় পানি না পাওয়া এখন আমাদের নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। আমাদের নীতিনির্ধারকরা যদি বিষয়টিকে হালকাভাবে দেখেন, তাহলে এ দেশ, বিশেষ করে উত্তরবঙ্গ একটি বড় ধরনের সঙ্কটে পড়বে। খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে থাকবে। এমনকি রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা এতে করে বাড়বে। মনে রাখতে হবে, তিস্তায় পানিপ্রাপ্তি আমাদের ন্যায্য অধিকার। আন্তর্জাতিক আইন আমাদের পক্ষে। ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের দায়িত্ব আমাদের অধিকারকে নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে মমতা ব্যানার্জির আপত্তি বা সমর্থন-এটা আমাদের বিষয় নয়। আমাদের নেতৃত্ব বিষয়টিকে হালকাভাবে নেননি। আমাদের অধিকার, যা আন্তর্জাতিক আইনে স্বীকৃত, তা নিশ্চিত করবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। এখানে বলা ভালো, সিকিম হয়ে ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুঁড়ি হয়ে পশ্চিমবঙ্গের ডুয়ারের সমভূমি দিয়ে চিলাহাটি থেকে চার-পাঁচ কিলোমিটার পূর্বে বাংলাদেশের নীলফামারী জেলার উত্তর গাড়িবাড়ির কাছে ডিমলা উপজেলার ছাতনাই দিয়ে প্রবেশ করেছে তিস্তা নদী। ছাতনাই থেকে এ নদী নীলফামারীর ডিমলা, জলঢাকা, লালমনিরহাটের সদর, পাটগ্রাম, হাতীবান্ধা, কালীগঞ্জ, রংপুরের কাউনিয়া, পীরগাছা, কুড়িগ্রামের রাজারহাট, উলিপুর হয়ে চিলমারীতে গিয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে মিশেছে। ডিমলা থেকে চিলমারী এ নদীর বাংলাদেশ অংশের মোট ক্যাচমেন্ট এরিয়া প্রায় ১ হাজার ৭১৯ বর্গকিলোমিটার। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ নদী কমিশন গঠনের পর তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। ১৯৮৩ সালের জুলাই মাসে দু’দেশের মন্ত্রীপর্যায়ের এক বৈঠকে তিস্তার পানি বণ্টনে শতকরা ৩৬ ভাগ বাংলাদেশ ও ৩৯ ভাগ ভারত ও ২৫ ভাগ নদীর জন্য সংরক্ষিত রাখার বিষয়ে একটি সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি হয়নি। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ২৫, ২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাংলাদেশ তিস্তার পানির ৮০ ভাগ দু’দেশের মধ্যে বণ্টন করে বাকি ২০ ভাগ নদীর জন্য রেখে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। ভারত সে প্রস্তাবে রাজি হয়নি। এরপর যুক্ত হয়েছিল মমতার আপত্তি। বাংলাদেশের কোনো প্রস্তাবের ব্যাপারেই অতীতে মমতার সম্মতি পাওয়া যায়নি। এখানে আরো একটি বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। তিস্তার পানি বণ্টনে সিকিমকে জড়িত করার প্রয়োজনীয়তা পড়েছে। কেননা সিকিম নিজে উজানে পানি প্রত্যাহার করে বাঁধ দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ফলে তিস্তায় পানির প্রবাহ কমে যাচ্ছে দিনে দিনে। পশ্চিমবঙ্গের উত্তরবঙ্গে কৃষকদের কাছে তিস্তার পানির চাহিদা বেশি। মমতা ব্যানার্জি এই পানি চাইবেন- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক নদীর পানি এককভাবে তিনি ব্যবহার করতে পারেন না। তিনি নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে (প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফর, ২০১৭ সালের এপ্রিল) নতুন একটি ‘ফর্মুলা’ দিয়েছিলেন। তিনি তোসা ও জলঢাকাসহ চারটি নদীর নাম বলেছিলেন, যেখান থেকে পানি নিয়ে বাংলাদেশের চাহিদা পূরণ করা যায় বলে মনে করেন! বাংলাদেশে তোসা ও জলঢাকা নদী দুধকুমার ও ধরলা নামে পরিচিত। মমতার ওই বক্তব্য মূলত ভারতের আন্তঃনদী সংযোগ প্রকল্পের নামান্তর। আগেই উল্লেখ করেছি মমতা ঢাকায় এসে অভিযোগ করেছিলেন বাংলাদেশ আত্রাই নদী থেকে পানি প্রত্যাহার করে নিচ্ছে। এই হচ্ছে মমতা। তবে একটা সমস্যা আছে। প্রধানমন্ত্রীর নয়াদিল্লি সফরের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের জানিয়েছিলেন মমতার সম্মতি নিয়েই তিস্তা চুক্তি হবে। দুর্ভাগ্য আমাদের, সেই ‘সম্মতি’ আজ অব্দি পাওয়া যায়নি। আরো একটা ব্যাপারে আমাদের সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। আর তা হচ্ছে প্রস্তাবিত গঙ্গা ব্যারাজ। এই ব্যারাজ বাংলাদেশ ও ভারতের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এতদিন আমাদের কাছে যে তথ্য ছিল, তা হচ্ছে রাজবাড়ীর পাংশায় একটি স্থান নির্বাচন করা হয়েছিল, যেখানে একটি বিস্তীর্ণ এলাকায় একটি রিজার্ভিয়ার নির্মাণ করা হবে, যাতে বর্ষার মৌসুমের পানি ধরে রাখা যায়। এই পানি শুষ্ক মৌসুমে ব্যবহার করা যাবে। এ ক্ষেত্রে ভারতের সমর্থন ও আর্থিক সহযোগিতার প্রশ্ন ছিল। দুটো চীনা কোম্পানি এবং জাপান এ খাতে দুই বিলিয়ন ডলার সাহায্যের তথা বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২ দশমিক ৯০ ট্রিলিয়ন লিটার পানি ধরে রাখার কথা। ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনাও ছিল। এতে করে ভারতও উপকৃত হতো। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন পাংশায় যে ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল, তা তিনি বাতিল করে দিয়েছেন। তবে একটি উপযুক্ত স্থান দেখার জন্য তিনি মমতা ব্যানার্জির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি যৌথ উদ্যোগের কথাও বলেছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি পানি ধরে রাখার জন্য নদী ড্রেজিংয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। ২০১৭ সালে দুই প্রধানমন্ত্রী যে যৌথ ঘোষণা প্রকাশ করেছিলেন তার ৪১নং ধারায় গঙ্গা ব্যারাজের কথা বলা হয়েছিল। সেখানে দু’দেশের সমন্বয়ে একটি ‘যৌথ কারিগরি টিম’ গঠন করার কথাও বলা হয়েছিল। এই ‘যৌথ কারিগরি টিম’-এর ভারতীয় পক্ষ বাংলাদেশ সফর করবে এবং বাংলাদেশে তারা একটি সমীক্ষা চালাবে। কিন্তু সেই সমীক্ষা আজো চালানো হয়নি। ফলে পানি নিয়ে সঙ্কট বাড়ছে। শুষ্ক মৌসুম আসছে। তিস্তায় পানি থাকবে না। এটা বাংলাদেশে একটি বড় সঙ্কট তৈরি করবে।

ভারত বড় অর্থনীতির দেশ। বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে ভারতের অবস্থান মাত্র ২ দশমিক ৮ ভাগ হলেও, ২০৫০ সালে ভারত দ্বিতীয় বড় অর্থনীতির দেশে পরিণত হতে যাচ্ছে। সুতরাং ভারতের সাহায্য ও সহযোগিতা আমাদের প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে ভারতকে আরো উদার হতে হবে। ভারত যদি আরো উদার না হয়, তাহলে উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতার যে বড় সম্ভাবনার জন্ম হয়েছে, তা বাধাগ্রস্ত হবে। ‘কবি’ নরেন্দ্র মোদি (তার দুটি কবিতার বই আছে) ঢাকায় এসে বলেছিলেন, পাখি কিংবা বায়ুর কোনো সীমান্ত নেই। তার ‘নেইবারহুড ফার্স্ট পলিসি’ আমাদের জন্য অনেক বড় কিছু। ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত যৌথ ঘোষণাপত্রে যে ৬২টি দফা আছে, তাতে অনেক ভালো ভালো কথা আছে। এখন দেখার পালা কতটুকু তা বাস্তবায়িত হয়। শুধু ‘আশ্বাস’ বাংলাদেশিদের মন ভরাতে পারবে না! ভারতীয় নেতৃবৃন্দের ‘মাইন্ড সেটআপ’-এ পরিবর্তন দরকার। সেটি যদি না হয়, তাহলে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন থাকবেই। নরেন্দ্র মোদি আশ্বাস দিয়েছিলেন দ্বিপাক্ষিক সমস্যার সমাধান হবে, বিশেষ করে তিস্তা চুক্তির কথাও তিনি বলেছিলেন। আমরা চাই তিনি তার কথা রাখবেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশ সফর করে গেলেন। কিন্তু তাতে আশাবাদী হওয়ার মতো আমরা কিছু পাইনি।

লেখক : অধ্যাপক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

tsrahman09@gmail.com

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads