• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

মতামত

গণপরিবহনের যত অনিয়ম

  • প্রকাশিত ২৯ এপ্রিল ২০১৮

সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্যে গণপরিবহন। বাংলাদেশের মানুষ অতটা ধনী নয় যে, প্রত্যেকে চাইলে একটা করে প্রাইভেট গাড়ি ব্যবহার করবে। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগাতে যারা হিমশিম খান তারা প্রাইভেট গাড়ির কিনবেন কেমন করে? কাজেই তাদের ভরসা পাবলিক বাস। সারা দেশের রাস্তায় বিভিন্ন নামে চলাচল করে থাকে এই পরিবহন। সিটি সার্ভিস, সিটিং সার্ভিস, বিরতিহীন সার্ভিস, স্পেশাল সার্ভিস— নানান ধরনের পরিবহন আমাদের দেশের নানান জেলায় চলাচল করে থাকে। এসব পরিবহন কতটা মানসম্মত, যে বৈশিষ্ট্যের দাবি তারা করে, সেটাই বা কতখানি সত্য তাও জানেন যাতায়াতকারী বাসযাত্রী-সাধারণ। জোড়া-তালি দিয়ে রঙ পালিশ করে বিভিন্ন রুটে নিত্যদিন এসব বাস চলাচল করছে। এসব পরিবহনের সবচেয়ে বড় অনিয়ম হচ্ছে অদক্ষ ড্রাইভার। কিশোরদের হেলপারের কাজ দিয়ে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করে এসব পরিবহনের মালিকরা। অনেক সময় ড্রাইভার থাকে নেশাগ্রস্ত। পরিবহনগুলোর থাকে না যথাযথ ফিটনেস। এতসব সমস্যার পরেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায় চলাচল করে এসব পরিবহন।

আইন আছে, ট্রাফিক পুলিশও আছে, কিন্তু আইনের প্রয়োগ নেই। তাই গণপরিবহনের শৃঙ্খলা দিন দিন ভেঙে পড়ছে। বেড়ে যাচ্ছে গণপরিবহনের অনিয়ম আর বিশৃঙ্খলা। সকালে ও বিকালে, অফিস আওয়ারের আগে ও পরে গণপরিবহনের অনিয়মের কারণে অসহ্য হয়ে পড়ে কর্মজীবী মানুষ। শিশু থেকে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সব যাত্রীর ভোগান্তির শেষ নেই। নারী যাত্রীরা অনেক সময় একশ্রেণির দুষ্ট পরিবহনকর্মীর হাতে লাঞ্ছিত হন। বর্তমানে যে বিষয়টি বেশি দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে তা হলো, গণপরিবহনে নারীর নিরাপত্তাহীনতা। সমস্যাটি নতুন না হলেও এই সমস্যার সমাধান খুঁজে পাচ্ছেন না নারী যাত্রীরা। যাতায়াতের জন্য গণপরিবহনে উঠতে হবে সকলের। তাই বলে নারীর সম্মানহানি করবে কিছু পরিবহন শ্রমিক, তা কখনোই মেনে নেওয়া যায় না। আজকাল দেখা যায়, গণপরিবহনে নারী ধর্ষণ কোনো ব্যাপারই না।

গণপরিবহনের এই নৈরাজ্য ঠেকাতে যাত্রী কল্যাণ ফাউন্ডেশন নামক একটি সংগঠন থাকলেও এর কোনো তৎপরতা দেখা যায় না। এভাবে যদি আমরা সকলে সিনেমা দেখার মতো দর্শকের ভূমিকা পালন করি, তবে অদূর ভবিষ্যতে আপনাকেও এই সিনেমার চরিত্রে অন্য কেউ দেখবে সেটা মনে রাখবেন। এই গণপরিবহনের অনিয়ম, অন্যায় ঠেকাতে এখনি সকলের এক হতে হবে। কিছু কিছু পরিবহন শ্রমিক থাকে যারা সন্ত্রাসীর মতো যখন যেমন ইচ্ছে ভাড়া আদায় করে নেয় যাত্রীদের কাছ থেকে। এরপরেও যাত্রীরা হয়রানি থেকে মুক্তি পায় না। এই দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে প্রশাসন কোনো ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করে না কেন, তাও বোধগম্য নয়। অনেকের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে পরিবহন মালিকদের বোঝাপড়া আছে বলেই সমস্যা কেবল বেড়েই চলেছে। এভাবে এ সেক্টরকে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। আজকাল গণপরিবহনে কোনো ভদ্রতা নেই। শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুরুব্বি কিংবা বয়স্ক মানুষদের সঙ্গেও তাদের ব্যবহার হয় মারমুখী। আচরণ আর বৈশিষ্ট্যে নেই কোনো শৃঙ্খলা। ক্রমান্বয়ে এ সমস্যা জটিল থেকে জটিলতর হচ্ছে। এ জন্য কারা দায়ী সেটা পরিবহন শ্রমিক, মলিক এবং প্রশাসন অবগত আছেন। তা সত্ত্বেও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনের কোনো প্রয়োগ দেখা যায় না। এ ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রশাসনের যথাসময়ে যথাস্থানে সঠিক পদক্ষেপ নেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

পরিবহন সেক্টরের প্রতি যথাযথ নজর দিলে মনে হয় এই সেক্টরের যাবতীয় অনিয়ম দূর করা সম্ভব। প্রসঙ্গত, এখানে বলা অসমীচীন হবে না যে, ঢাকা মহানগরীর গণপরিবহনে যাত্রী-সাধারণের দুর্ভোগের জন্যে ট্রাফিক ব্যবস্থাও বহুলাংশে দায়ী। ঢাকায় আশির দশকে পর্যন্ত বাস স্টপেজগুলো সুনির্দিষ্ট ছিল। বেশিরভাগ স্টপেজে যাত্রীছাউনি ছিল। নির্দিষ্ট বাসের বিলম্ব হলে, রোদ-বৃষ্টির সময় যাত্রীরা ছাউনির নিচে পাতা বেঞ্চে বিশ্রাম নিতে পারতেন। কিন্তু এখন যাত্রীছাউনির বালাই নেই। দু-এক জায়গায় থাকলেও সেখানে বাস দাঁড়ায় না বেশিরভাগ ক্ষেত্রে। পুরনো যাত্রীছাউনিগুলোর বেশিরভাগ এখন স্টেশনারি অথবা স্ন্যাকসের দোকান হয়ে গেছে। অন্যদিকে, বাস দাঁড়ায় কোথাও কোথাও কোয়ার্টার কিলোমিটার জুড়ে, যখন যেখানে ইচ্ছা। ভিড়ের সময় বাসগুলো ঠিকমতো দাঁড়ায়ও না। কিছুটা কম গতিতে চলতে  থাকে। যাত্রীরা ওঠানামা করেন দৌড়ে এবং লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে। বয়োবৃদ্ধ, অসুস্থ, নারী ও শিশু যাত্রীদের জন্যে বাসে চড়া ও নামা তখন বিপজ্জনক ও কঠিন হয়ে পড়ে। এই সুযোগে বাসের কন্ডাক্টররাও খারাপ ব্যবহার করে, নারী যাত্রীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ করে। বাস স্টপেজগুলো সুনির্দিষ্ট হওয়া অত্যাবশ্যকীয়। যাত্রী নামতে ও উঠতে যে সময়টুকু লাগে, সেইটুকু সময় অবশ্যই বাস দাঁড়াতে হবে। এ ব্যাপারে আশু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা কর্তব্য মনে করি। মালিক, শ্রমিক, প্রশাসন ও ট্রাফিক কর্তৃপক্ষ যদি এক হয়ে সমন্বিতভাবে যাত্রী ভোগান্তির কারণগুলো খুঁজে বের করেন এবং সে অনুযায়ী সমাধানের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়, তাহলে গণপরিবহন ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা মোটেও কঠিন নয়।

 

আজহার মাহমুদ

কলেজ শিক্ষার্থী

ইমেইল : azharmahmud705@gmail.com

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads