• বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ২ কার্তিক ১৪২৬
ads
ওয়াল্ট হুইটম্যান

মার্কিন মানবতাবাদী কবি ওয়াল্ট হুইটম্যান

ইন্টারনেট

মতামত

স্মরণ

ওয়াল্ট হুইটম্যান

  • প্রকাশিত ৩১ মে ২০১৮

মার্কিন মানবতাবাদী কবি হিসেবে খ্যাত ওয়াল্ট হুইটম্যান ১৮১৯ সালের ৩১ মে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক রাজ্যের লং আইল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি একাধারে কবি, প্রাবন্ধিক, সাংবাদিক। তাকে মুক্তছন্দের জনকও বলা হয়। ১৮২৩-এ হুইটম্যান পরিবারের সঙ্গে লং আইল্যান্ড ছেড়ে ব্রুকলিনে চলে আসেন। ওয়াল্টের বাবা ছিলেন একজন কাঠমিস্ত্রি। পড়াশোনা শেষে তিনি প্রিন্টিং ব্যবসার শিক্ষানবিস হিসেবে চার বছর কাজ করেন। ১৮৩৫-এ তিনি নিউইয়র্কে ভ্রাম্যমাণ মুদ্রাকরের কাজ শুরু করেন।

কর্মজীবনের প্রথম ভাগে হুইটম্যান ১৮৪২ সালে ফ্র্যাঙ্কলিন ইভান্স নামে একটি উপন্যাস রচনা করেন। ১৮৫৫-তে নিজের অর্থে লেখক ও প্রকাশকের নামবিহীন লিভস অব গ্রাস নামে একটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশ করেন। এই কাব্যের উদ্দেশ্য ছিল সাধারণ মানুষের পাঠযোগ্য এক আমেরিকান মহাকাব্য রচনা। হুইটম্যান সারা জীবন এই গ্রন্থের সংশোধন ও সংযোজন করেছেন। তার এই কাব্যগ্রন্থের ১০টি সংস্করণ বের হয়েছে।  তার এই বইটি আমেরিকার কাব্য ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আলোচিত ও পঠিত কাব্যগ্রন্থ।

ওয়াল্ট হুইটম্যান ব্যক্তিজীবনে চিরকুমার ছিলেন। তাকে গণতন্ত্রের কবি এবং আমেরিকার জাতীয় কবি বলা হয়। তিনি তার লেখায় নিপীড়িত মানুষের কথা বলেছেন। তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টির প্রয়াস চালিয়েছেন তার লেখনীর মাধ্যমে। এজন্য তাকে শাসক শ্রেণির রোষানলে পড়তে হয়। মুদ্রণ ব্যবসা ও সাংবাদিকতার কাজ ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। সর্বজনীন আবহ তৈরি করা ছিল হুইটম্যানের কবিতার মূল সুর। গণতান্ত্রিক জীবনধারায় গভীরতম বিশ্বাস নিয়ে ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি নির্বিশেষে সবাইকে দেখেছেন মানবিকতার দৃষ্টিতে। কবির ‘সং অব মাইসেলফ্’ কবিতাটি গোটা বিশ্বের মানুষের উদ্দেশে একটি দীর্ঘ ভাষণ। এটি এখন পর্যন্ত সর্বাধিক পঠিত কবিতাগুলোর একটি।

হুইটম্যান ছিলেন রাজনীতি-সচেতন। তিনি উইলমট প্রোভিসোর সমর্থক ছিলেন এবং একসময় দাসপ্রথা বিলোপের ডাক দিয়েছিলেন হুইটম্যান। তার কবিতায় জাতিগোষ্ঠীগুলো সম্পর্কে সমতাবাদী সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি পাওয়া যায়। হুইটম্যান একজন চেতনামরমি সাধক। তিনি বিশ্বাস করতেন একজন মরমিবাদী আত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সংযোগ বা সম্পর্ক স্থাপন করতে সক্ষম। এ চিন্তায় হুইটম্যান একজন সত্যিকার মরমিবাদী। ১৮৯২ সালের ২৬ মার্চ নিউজার্সির ক্যামডেনে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads