• বৃহস্পতিবার, ১৫ নভেম্বর ২০১৮, ১ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
চার দশকের বিএনপি

বিএনপির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে গণমাধ্যমে

আর্ট : রাকিব

মতামত

চার দশকের বিএনপি

  • মহিউদ্দিন খান মোহন
  • প্রকাশিত ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপি তাদের চল্লিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করেছে গত ১ সেপ্টেম্বর। ওইদিন রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটি বেশ বড়সড় জনসমাবেশ করেছে। গত কয়েক বছরের মধ্যে বিএনপির এ জনসমাবেশে লোক সমাগম ছিল চোখে পড়ার মতো। পত্রিকার খবর অনুযায়ী ফকিরেরপুল মোড় থেকে কাকরাইল মোড় পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল। ঢাকা মহানগর এবং আশপাশের জেলাগুলো থেকে দলটির নেতাকর্মীদের রঙ-বেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে জনসমাবেশে যোগ দিতে দেখা গেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, এ যোগদান ছিল স্বতঃস্ফূর্ত। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, দীর্ঘদিন পরে সরকার বা সরকারি দলের কোনো রকম বাধাবিঘ্ন না থাকায় বিএনপিকর্মীরা অনেকটা নিঃশঙ্কচিত্তে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি এবং নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবিতে ছিল এ সমাবেশ। সমাবেশে দলটির নেতারাও তাদের বক্তৃতায় সে দাবিরই উচ্চারণ করেছেন। তারা বলেছেন, খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে তারা নির্বাচনে যাবেন না, এমনকি নির্বাচন হতেও দেবেন না। বিএনপি নেতাদের এ প্রত্যয়ের বাস্তব রূপ কতটা দেখা যাবে তা অবশ্য এখনই বলা যাবে না।

বিএনপির চল্লিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী নানা কারণে ছিল আলোচিত। দ্বিতীয়বারের মতো দলটি তাদের চেয়ারপারসনকে কারাগারে রেখে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করল। এর আগে ওয়ান-ইলেভেনের সময় ২০০৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেননি। আর ২০০৭ সালে মুক্ত অবস্থায় থাকলেও জরুরি সরকারের বাধার কারণে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করতে পারেনি দলটি। এবার এমন এক সময়ে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হলো, যখন আদালতের রায়ে দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। নেত্রী কারাগারে থাকায় নেতাকর্মীরা সঙ্গত কারণেই একটু হতোদ্যম ছিলেন, তবে তারা দলীয় চেয়ারপারসনের মুক্তির দাবিতে ছিলেন সোচ্চার।

একই কারণে বিএনপির এবারের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথেষ্ট গুরুত্ব পেয়েছে গণমাধ্যমে। ১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকাগুলোর দিকে তাকালেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর খবর প্রকাশ করতে গিয়ে অধিকাংশ দৈনিক দলটির বর্তমান দুরবস্থার কথা তুলে ধরেছে। এখানে কয়েকটি দৈনিকের এ-সংক্রান্ত খবরের শিরোনাম তুলে ধরা হলো। বাংলাদেশ প্রতিদিনের শিরোনাম ছিল ‘৪১ বছরে কঠিন দুঃসময়’, দৈনিক যুগান্তরের শিরোনাম ছিল ‘ঘুরে দাঁড়ানোই চ্যালেঞ্জ’, সমকাল তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল ‘মহাসঙ্কটে বিএনপি’ শিরোনামে, আমাদের সময়ের শিরোনাম ছিল ‘বিএনপির কঠিন সময়’ আর বাংলাদেশের খবর ‘দুঃসময় পার করছে বিএনপি’ শিরোনামে প্রকাশ করেছিল প্রধান প্রতিবেদনটি। এছাড়া অন্যান্য পত্রিকায় যেসব সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে, সেগুলোতেও বিএনপির বর্তমান সঙ্কটময় অবস্থার কথা বিশদভাবে তুলে ধরা হয়েছে। লক্ষণীয় হলো, দেশের দুটি প্রধান রাজনৈতিক দলের একটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর খবর প্রকাশ করতে গিয়ে সংবাদপত্রগুলো দলটির নানা সমস্যা-সঙ্কট, দুর্বলতা-দুরবস্থার ওপরই গুরুত্ব দিয়েছে বেশি।

এটা অনস্বীকার্য যে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে আজ অবধি বিএনপি যেসব সমস্যা বা সঙ্কট মোকাবেলা করেছে, তার মধ্যে এবারের সঙ্কট বহুমুখী ও জটিল। যার কিছুটা আলোকপাত করা হয়েছে উল্লিখিত পত্রিকাগুলোর প্রতিবেদনে। প্রতিষ্ঠার পর বিএনপি প্রথম সঙ্কটের মুখে পড়ে ১৯৮১ সালে। সে বছর দলটির প্রতিষ্ঠাতা এবং দেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হলে চরম সঙ্কটে পড়ে বিএনপি। নেতৃত্ব শূন্যতার কারণে বিএনপি অস্তিত্ব হারাবে— এমন আশঙ্কা তখন অনেকেই ব্যক্ত করেছিলেন। কিন্তু দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের অনুরোধে জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণী খালেদা জিয়া রাজনীতিতে আত্মনিয়োগ ও বিএনপির নেতৃত্ব গ্রহণে সম্মত হয়ে দলটিকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেন। এরপর ১৯৮২ সালে সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সামরিক অভ্যুত্থান ঘটিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে বিএনপি নতুন সঙ্কটের মুখে পড়ে। জিয়া কেবিনেটের অনেক সদস্য এবং বিএনপির বেশকিছু কেন্দ্রীয় নেতা এরশাদের সঙ্গে হাত মেলায়। ফলে ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিএনপি বেশ কয়েকবার ভাঙনের শিকার হয়। তবে খালেদা জিয়ার বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থনে দলটি স্বীয় অবস্থান রক্ষায় সমর্থ হয়। এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সরকার গঠনের ফলে বিএনপি ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ পায়। পরবর্তী প্রায় ষোলো বছর দলটি স্বাভাবিক গতিতে চললেও ২০০৭ সালে এসে আবারো বিপর্যয়ের কবলে পড়ে জরুরি অবস্থা জারি হওয়ার পর। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তৎকালীন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানসহ দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের বেশিরভাগ গ্রেফতার হন। এর মধ্যে বিএনপিকে ভাঙতে ওয়ান-ইলেভেন সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নেয়। সরকারের প্ররোচনায় তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভূঁইয়া তথাকথিত সংস্কার প্রস্তাবের নামে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে মাইনাস করার এক ন্যক্কারজনক খেলায় মেতে ওঠেন। নেতাদের মধ্যে যারা গ্রেফতারের বাইরে ছিলেন, তাদের মধ্যে অধিকাংশ ওই সংস্কার প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নেন। এটা ছিল বিএনপির জন্য এক মহাসঙ্কটকাল। কিন্তু সেই সঙ্কটও বিএনপি কাটিয়ে ওঠে মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের দৃঢ়তার কারণে, যাকে খালেদা জিয়া গ্রেফতারের আগে নিয়োগ দিয়ে গিয়েছিলেন। সেই সঙ্গে তৃণমূল নেতাকর্মীদের সমর্থনের কারণে বিএনপি ভাঙার চেষ্টা ব্যর্থ হয়।  দলের চেয়ারপারসনের দেওয়া দায়িত্ব মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সঙ্গেই পালন করেছিলেন। যদিও পরবর্তী সময়ে সেই দলের মধ্যেই খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনকে অপমানিত ও অবহেলিত হতে দেখা গেছে। জীবদ্দশায় এ নিয়ে তিনি তার ঘনিষ্ঠজনদের কাছে হতাশা ও ক্ষোভ ব্যক্ত করেছেন।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপির গুরুত্ব অস্বীকার করা যাবে না। আমাদের দেশে অগণিত রাজনৈতিক দল থাকলেও প্রধান দল দুইটি- আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। গত তিন দশক ধরে এ দুটি দলই পালাবদল করে সরকারে আসছে, যাচ্ছে। অন্যান্য দল কোনো না কোনোভাবে এ দুই দলের পক্ষপুটে আশ্রয় নিয়ে কখনো সরকারের অংশীদার হচ্ছে, কখনো বিরোধী দলে থেকে আওয়াজ তুলছে।

গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় একটি দেশে দুই বা ততোধিক শক্তিশালী রাজনৈতিক দল থাকা অত্যন্ত জরুরি। যাতে এক দল সরকারে থাকলে অন্য দল মাঠে শক্ত অবস্থান নিয়ে সরকারের ভুল-ত্রুটি, অনিয়ম-দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে পারে। এর ফলে সরকার চাপের মুখে থাকে এবং জনগণের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজ বা সিদ্ধান্ত নিতে সাহস পায় না। আর যদি দেশে সরকারবিরোধী কোনো শক্তিশালী দল না থাকে, তাহলে পরিস্থিতি ভিন্নরূপ ধারণ করে। শক্তিশালী বিরোধী দলের অনুপস্থিতি ক্ষমতাসীন সরকারকে অনেকটাই বেপরোয়া করে তুলতে পারে, কখনো কখনো তা স্বৈরশাসনের রূপ নেয়। আর সে জন্যই সরকারের বিপরীতে একটি সমকক্ষ বিরোধী রাজনৈতিক দল থাকার প্রয়োজনীয়তা সবাই উপলব্ধি করেন। অনেকেই বলে থাকেন, বিএনপির বর্তমান ম্রিয়মাণ অবস্থার কারণে আওয়ামী লীগ সরকারকে অনেক ক্ষেত্রেই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। এটা গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য মোটেই অনুকূল নয়। বিএনপি যদি রাজনীতিতে তাদের শক্তিমত্তার পরিচয় দিতে পারত, তাহলে সরকার সমঝে চলতো এবং অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাই হয়তো ঘটত না।

চল্লিশতম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রকাশিত প্রতিবেদনে পত্রিকাগুলো বিএনপির বর্তমান সাংগঠনিক যে অবস্থার কথা তুলে ধরেছে, তার সঙ্গে দ্বিমত প্রকাশের খুব একটা অবকাশ আছে বলে মনে হয় না। নানা কারণে দলটি আজ বিপর্যয়ের মুখোমুখি। দলটির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান আদালতের দেওয়া দণ্ড মাথায় নিয়ে লন্ডনে অবস্থান করায় শীর্ষ নেতৃত্বে যে চরম শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এমন দুঃসময়ে একটি দলের শীর্ষনেতাদের মধ্যে যে ধরনের ঐক্য থাকা দরকার, বিএনপিতে তার অনুপস্থিতি দিবালোকের মতোই দৃশ্যমান। নেতাদের এ অনৈক্য এবং মতদ্বৈধতার খবর মাঝেমধ্যেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। যার ফলে বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া অনেক সময়ই সম্ভব হয় না।

সিদ্ধান্তহীনতা বা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা বর্তমানে বিএনপির বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। কোনো সিদ্ধান্তই পরিপূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারেনি দলটি। ২০১৬ সালের কাউন্সিল অধিবেশনে ‘এক নেতা এক পদ’ সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়েছিল। সে সময় রাজনৈতিক সচেতন মহল এই বলে আশা প্রকাশ করেছিল যে, এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দলটির নেতৃত্ব বিকশিত হওয়ার পথ অনেকটাই সুগম হবে। কিন্তু আড়াই বছর পার হলেও সে সিদ্ধান্ত পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। বেশ কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকেই একাধিক পদ ধরে রেখে গাছের এবং তলারটা কুড়িয়ে খেতে দেখা যাচ্ছে। একই কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল বিষয় বা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক উপ-কমিটি গঠনের। সে সিদ্ধান্ত কাগজে-কলমেই রয়ে গেছে, কোনো অগ্রগতি নেই। এমনকি দলটির আশিটি সাংগঠনিক জেলা কমিটির মধ্যে প্রায় অর্ধেকই মেয়াদোত্তীর্ণ। যেগুলো পুনর্গঠিত হয়েছে, সেগুলোও আবার পূর্ণাঙ্গ নয়, ‘সুপার ফাইভ’ বা ‘সুপার সেভেন’ নামের অদ্ভূত এক ফর্মুলায়। সহযোগী সংগঠনের অবস্থাও তথৈবচ। সেগুলোর কোনোটিরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি নেই। আর কমিটি নিয়ে বিবাদ-বিসম্বাদ তো লেগেই আছে। অতিসম্প্রতি ছাত্রদলের কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে রাজশাহী ও বরিশালে ঘটে গেছে তুলকালাম কাণ্ড। ঘোষিত কমিটিতে স্থান না পেয়ে বিক্ষুব্ধরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছিল দলের স্থানীয় কার্যালয়ে। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কমিটিতে স্থান না পাওয়া কর্মীরা কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দিয়েছিল। জেলা উপজেলায় নেতৃত্ব নিয়ে কোন্দল, একই জেলা বা উপজেলায় দুই বা ততোধিক কমিটি থাকা, কেন্দ্রীয়ভাবে ঘোষিত কর্মসূচি আলাদাভাবে উদযাপন, এক গ্রুপ আরেক গ্রুপকে ধাওয়া, একে অপরকে বহিষ্কার বিএনপির অভ্যন্তরে সৃষ্টি করেছে এক বিশৃঙ্খল পরিবেশ। এ বিশৃঙ্খলা দূর করার যেন কেউ নেই। থাকবে কীভাবে? কর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা যাদের দায়িত্ব, তারাই স্বীয় স্বার্থে কোন্দল জিইয়ে রাখছেন, উসকে দিচ্ছেন। ফলে কেন্দ্র থেকে মাঠপর্যায় পর্যন্ত বিএনপি এখন রয়েছে বহুধা বিভক্ত অবস্থায়। দলের মধ্যে এমন অনৈক্য ও বিশৃঙ্খল সাংগঠনিক অবস্থা বজায় রেখে বিএনপি কীভাবে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখে, তা ভেবে অনেকে বিস্মিত।

চল্লিশ বছর একটি রাজনৈতিক দলের জন্য কম সময় নয়। বিএনপির ক্ষেত্রে তা আরো তাৎপর্যময়। এ সময়ের মধ্যে দলটি চারবার সরকারে ছিল, দুইবার সংসদে প্রধান বিরোধী দলের দায়িত্ব পালন করেছে। অভিজ্ঞতা আর অর্জন তো কম নয়। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্যি যে, চার দশকের পুরনো এ দলটি এখন পর্যন্ত একটি শক্ত কাঠামোর ওপর দাঁড়াতে পারল না। তবে দলটির এখনো প্রচুর জনসমর্থন রয়েছে এবং তৃণমূল কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই দলীয় কর্মসূচি পালনে তৎপর। ১ সেপ্টেম্বর নয়াপল্টনে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের বিপুল উপস্থিতি সেটাই প্রমাণ করে। অনেকেই তৃণমূল কর্মীদের দলের প্রতি এ ভালোবাসা এবং সাধারণ মানুষের সমর্থনকে বিএনপির প্রধান পুঁজি বলে মনে করেন। সে পুঁজিকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে দলটিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নেতাদের। তারা সে দায়িত্ব কতটা সক্ষমতার সঙ্গে পালন করতে পারেন, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

লেখক : সাংবাদিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads