• মঙ্গলবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৮, ২৯ কার্তিক ১৪২৫
ads

ছবি : সংগ্রহীত

ধর্ম

শবে মিরাজের উপহার নামাজ

  • প্রকাশিত ১৩ এপ্রিল ২০১৮

লাইলাতুল মিরাজ- লাইলাতুল শব্দটি আরবি। এর অর্থ রাত বা রজনী। মিরাজ শব্দটিও আরবি। এর অর্থ ঊর্ধ্বগমন বা ঊর্ধ্বগমনের বড় মাধ্যম। এই হিসেবে লাইলাতুল মিরাজের সম্মিলিত শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায়- ঊর্ধ্বগমনের রাত বা রজনী। রসুল (সা.) যে রাতে আল্লাহ মহানের ইচ্ছায় ঊর্ধ্ব আকাশে গমন করেছিলেন এবং মুসলিম বান্দার জন্য আল্লাহ মহানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ প্রাপ্ত হয়েছিলেন সেই রাত বা সেই শুভ ও পবিত্র সফরকে ইসলামী পরিভাষায় লাইলাতুল মিরাজ বলা হয়। [আল-মুয়জামুল অসিত]

মিরাজের ঘটনাটি বা রাত্রিকালীন এই সফরটি রসুল (সা.)-এর জীবনের অন্যতম একটি মুজিজা। শুধু তাই নয়, নবীজি (সা.)-এর ২৩ বছরের নবুওয়তি জীবনের অন্যতম তাৎপর্যপূর্ণ ও অলৌকিক ঘটনা এই লাইলাতুল মিরাজ। এর আগে অন্য কোনো নবী-রসুলের জীবনে এমন অলৌকিক কোনো ঘটনা ঘটেনি।

প্রত্যেক মুসলিমমাত্র মিরাজের রজনীকে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান করেন এবং সাধ ও সাধ্যের মিলন ঘটিয়ে তাৎপর্যপূর্ণ এই রজনীকে পালন বা উদযাপন করায় মনোযোগী হন। কিন্তু আবেগ ও আয়োজনের সঠিক সম্মিলনের কমতির কারণে অনেক মুসলমান লাইলাতুল মিরাজের সঠিক শিক্ষা ও সারমর্ম উদ্ধারে সফল হন না। একজন মুসলিম হিসেবে প্রথমেই জানা প্রয়োজন রসুল (সা.)-এর মিরাজের সফরটি কেন সংঘঠিত হয়েছিল? এই সফরের মূল তাৎপর্য বা শিক্ষা কী? মিরাজের সফর সংঘঠিত হওয়ার কারণ ও এর তাৎপর্য-শিক্ষা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব না হলে এর সঠিক লালন বা পালন সম্ভব হবে না।

লাইলাতুল মিরাজের উপহার হিসেবে আল্লাহতায়ালা সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রসুল (সা.)-এর মাধ্যমে উম্মতে মুহাম্মাদিকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান প্রদান করেছেন। এ জন্য রসুল (সা.) নামাজের ব্যাপারে বলেছেন, ‘নামাজ হলো মুমিনের মিরাজ।’ প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। আধ্যাত্মিক উৎকর্ষ সাধনের গুরুত্বপূর্ণ সবক। মিরাজের রাতে আল্লাহতায়ালার সঙ্গে যেমন রসুল (সা.)-এর কথোপকথন হয়েছে, নামাজের মাধ্যমে বান্দার সঙ্গে আল্লাহতায়ালার তেমন আধ্যাত্মিক মিলন ও কথোপকথন সম্ভব। এই জন্যই নামাজকে মুমিন-মুসলমান বান্দার মিরাজ হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাই প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত লাইলাতুল মিরাজের ঘটনা থেকে প্রকৃত শিক্ষা অর্জন করা এবং প্রতিদিন নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা।

অনেক মুসলিম শবে মিরাজ উপলক্ষে ১২ রাকাত অথবা ২০ রাকাত নামাজ আদায় করে থাকেন। আবার অনেকে রোজা রাখেন। উল্লেখ্য, শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজের নামাজ বা রোজা বলতে ইসলামী শরিয়তে কিছু নেই। শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ উপলক্ষে নফল নামাজ আদায় করা বা নফল রোজা রাখার কোনো ভিত্তি ও প্রমাণ ইসলামে নেই। কাজেই এই রাতে নফল নামাজ আদায় করা এবং এর ব্যবস্থা প্রণয়ন করা মানে ইসলামী শরিয়তে নিজের পক্ষ থেকে কিছু সংযোজন করা। এ ব্যাপারে রসুল (সা.) বলেছেন, যে আমাদের ধর্মে এমন কিছু সংযুক্ত বা উদ্ভাবন করবে, যা তার (শরিয়তের) অংশ নয়- তা প্রত্যাখ্যাত হবে। [বোখারি, ১/৩৭১]    

নফল নামাজ পড়া বা নফল রোজা যখন ইচ্ছা তখন রাখা যায়, কিন্তু কোনো উপলক্ষে নফল নামাজ পড়া বা নফল রোজা রাখতে হলে অবশ্যই জেনে নিতে হবে যে ইসলামী শরিয়ত অনুমতি দিয়েছে কি না। শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ উপলক্ষে নফল নামাজ পড়া এবং নফল রোজা রাখার কোনো বর্ণনা কোরআন-হাদিসের কোথাও নেই এবং রসুল (সা.) ও তার অনুসারীরা এই দিনে বিশেষভাবে কোনো নামাজ আদায় করেননি এবং নফল রোজা রাখেননি। সুতরাং প্রত্যেক মুমিন-মুসলমানের উচিত শবে মিরাজ বা লাইলাতুল মিরাজ উপলক্ষে শরিয়ত সমর্থন করে না এমন কোনো কাজ বা আমলে না জড়িয়ে নিয়মিতভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ে মনোযোগী হওয়া। আল্লাহ আমাদের সবাইকে লাইলাতুল মিরাজের সঠিক শিক্ষা গ্রহণ ও পালনের নেক তাওফিক দান করুন। আমিন।

 

মিরাজ রহমান

লেখক : বিভাগীয় প্রধান, পথ ও পাথেয়, বাংলাদেশের খবর

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads