• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads

ধর্ম

স্বাগতম রমজানুল মোবারক

  • নাজমুল ইসলাম কাসিমী
  • প্রকাশিত ১৮ মে ২০১৮

রমজান বরকতময় মাস। আল্লাহর প্রিয় বান্দারা পুরো বছর এ মাসের অপেক্ষায় থাকেন। আর যখন তা আসে, সবাই এত খুশি হয় যে, যেন হারানো কিছু পেয়েছে। এ মাসের গুরুত্বও অনেক বেশি। কেননা যখন এ মাসের আগের মাস তথা শাবান মাস শুরু হতো, তখন নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মাসের জন্য অধীর আগ্রহে দিন কাটাতেন। সবসময় এ দোয়া করতেন- ‘আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাব ওয়া শাবান, ওয়া বাল্লিগনা রামাদান’ অর্থাৎ হে আল্লাহ!  আমাদের রজব ও শাবানে বরকত দিন এবং রমজান পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দিন (আল মুজামুল আওসাত, ৪/১৮৯ হাদিস নং ৩৯৩৯; মাজমাউজ জাওয়ায়েদ, ২/১৬০)। শাবান মাসে মদিনায় রোজা ফরজ সংক্রান্ত আয়াত নাজিল হয়- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেভাবে তা ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর যাতে তোমরা সংযমী হও (সুরা বাকারা, আয়াত- ১৮৩)। সুরা বাকারার ১৮৫ নম্বর আয়াতে মহান আল্লাহতায়ালা আরো বলেছেন, ‘তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসকে পায় সে যেন রোজা রাখে।’ 

মানুষ যে জিনিসের অপেক্ষায় থাকে, যখন তা সামনে আসে তখন তার স্বাদ ইচ্ছেমতো আস্বাদন করে। অন্যরকম এক অনুভূতি জন্ম নেয়। নিজের মধ্যে অনেক আনন্দ অনুভব করে। সবসময় ভাবে, না জানি এর মূল্যায়নে কমতি হয়ে যাচ্ছে, যথেষ্ট মূল্যায়ন হচ্ছে না! আর যদি তার আগমন হয় অনেক বরকত সঙ্গে নিয়ে! সুতরাং তারাই বড় ভাগ্যবান, যারা এ পুণ্যময় মাসে নিজেদের মূল্যবান সময়গুলো ইবাদতে ব্যয় করে। এবং তারা কত অভাগা, যারা এরকম বরকতময় মাস পাওয়ার পরও নেকি কামানো থেকে বঞ্চিত থাকে। রসুলে করিম (সা.)-এর ভাষায়- ‘দুর্ভাগ্যবান সে-ই, যে এই বরকতের মাসেও আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত থাকে’ (মুসনাদুশ শামিন, ৩/২৭১, হাদিস নং ২২৩৮)।  

পবিত্র এ মাসের অনেক ফজিলত রয়েছে। যদি সংক্ষেপে বলতে হয়, তাহলে বলা যায়- এ মাসেই পবিত্র কোরআন অবতীর্ণ হয়েছে। এ মাসটি হলো বিশেষত আল্লাহর অনুসরণ ও ইবাদতের। তাতে এমন একটি রাত আছে, যেটাকে শবেকদর বলে- যে রাতে আল্লাহপাক অগণিত মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তিদান করেন। এ মাসেই আল্লাহপাক বান্দার ওপর রহমত নাজিল করেন।  

অসংখ্য জাহান্নামিকে মুক্তিদান করেন। হজরত শাহ্ ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেছেন- বেহেশতের আটটি দরজা রয়েছে; এর মধ্যে একটি দরজার নাম রাইয়ান। রোজাদার ছাড়া আর কেউ ওই দরজা দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না (বুখারি, মুসলিম)। 

বিখ্যাত হাদিসবিশারদ সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেছেন, হুজুর (সা.) বলেছেন- ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রোজা রাখবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে রমজান মাসের রাতে ইবাদত করে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে। যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে ও সওয়াবের নিয়তে কদরের রাতে ইবাদত করে কাটাবে, তার আগের সব গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে (বুখারি, মুসলিম)। হাদিসে আরো এসেছে, রসুল (সা.) বলেন- আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, রোজা ছাড়া আদম সন্তানের প্রতিটি কাজই তার নিজের জন্য। তবে রোজা আমার জন্য। আমি নিজেই এর পুরস্কার দেব। রোজা (জাহান্নামের আজাব থেকে বাঁচার জন্য) ঢালস্বরূপ। 

সুতরাং রোজা ও রমজানকে যাবতীয় গুনাহ থেকে পাক রাখতে হবে। মিথ্যা, প্রতারণা, গিবত, অশ্লীলতা, সুদ, ঘুষ, হিংসা-বিদ্বেষ, শত্রুতা, ঝগড়া-বিবাদসহ সব অন্যায় থেকে বিরত থাকতে হবে। বিশেষত চোখের গুনাহ থেকে নিজেদের সযত্নে ফিরিয়ে রাখতে হবে। আজকাল অনেক রোজাদার সময় পার করার উদ্দেশ্যে টিভির সামনে বসে সিনেমা-নাটক দেখায় মগ্ন থাকেন। এ অভ্যাস বর্জন করতে হবে। সময় পার করার জন্য কোনো উত্তম পন্থা অবলম্বন করতে হবে। সময় আল্লাহপাকের অনেক বড় নিয়ামত। নানা ধরনের নেক আমলের রুটিন দিয়ে রমজানের দিনগুলো সাজিয়ে নিলে সময় কত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে, তা টেরও পাওয়া যাবে না। ব্যক্তিগত আমল, যেমন- জিকির, তেলাওয়াত ইত্যাদির পাশাপাশি দ্বীনি মজলিসের ব্যবস্থা করা এবং তাতে শরিক হওয়াও কর্মসূচিতে রাখা যেতে পারে। দোয়া করি, আল্লাহপাক আমাদের সবাইকে পুরো মাস তাঁর সন্তুষ্টি মোতাবেক ত্রিশটি রোজা রাখার তওফিক দান করুন। 

লেখক : ফাজিল, দারুল উলূম দেওবন্দ, ভারত

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads