• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

ধর্ম

যেসব কারণে রোজা ভেঙে যায় 

  • মুফতি শামসুর রহমান পোরশা
  • প্রকাশিত ১৮ মে ২০১৮

সওম বা রোজা শারীরিক ইবাদতগুলোর মধ্যে অত্যন্ত কষ্টকর ইবাদত। এটি ইসলামের তৃতীয় স্তম্ভ। এর মাধ্যমে মুমিন বান্দা তাকওয়া বা খোদাভীরুতা অর্জন করে। পবিত্র কোরআনে বিধৃত হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমনভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর, যেন তোমরা পরহেজগার হতে পার।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)

রমজান মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ। এ মাসে আল্লাহপাক অপার অনুগ্রহে জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দিয়ে জাহান্নামের দরজা বন্ধ করে দেন এবং শয়তানদের আবদ্ধ করে রাখেন। এ ছাড়া আল্লাহপাক রোজাদারদের জন্য জান্নাতের একটি দরজা বরাদ্দ রেখেছেন। এটির প্রবেশপথ দিয়ে শুধু রোজাদারদের প্রবেশের অনুমতি মিলবে। এ প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত সাহল ইবনে সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘জান্নাতের আটটি দরজা রয়েছে। তার মধ্যে একটি দরজার নাম ‘রাইয়ান’। এ দরজা দিয়ে শুধু রোজাদারই প্রবেশ করবেন।’ (বোখারি)

উপর্যুক্ত আলোচনা দ্বারা প্রতীয়মান হয়, ইসলামে রমজানের রোজা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিধান। এই গুরুত্বপূর্ণ বিধানটি আমরা সঠিকভাবে পালন করতে চাই; কিন্তু অনেকেই জানি না রোজা পালনের সঠিক নিয়ম বা কী কী কারণে রোজা ভেঙে যায়। তাই আসুন জেনে নিই কী কারণে বা কোন কোন কাজে রোজা ভঙ্গ হয়ে যায়—

* কাউকে প্রহার বা ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু খাওয়ানো বা পান করালে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে কাজা আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২১৭ ও বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯১)

* গোসল বা অজু করার সময় রোজা থাকা অবস্থায় কণ্ঠনালীতে পানি পৌঁছলে রোজা ভেঙে যাবে। শুধু কাজা লাগবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০২)

* যেগুলো আহার্য বা ওষুধ নয়, সেগুলো খেলে রোজা ফাসেদ হয়ে যাবে। শুধু কাজা ওয়াজিব হবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২১৭)

* যদি দাঁতে কোনো বস্তু লেগে থাকে আর তা ছোলা বা তার চেয়ে বড় হয়, তা গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০২)

* যদি দাঁত থেকে রক্ত বের হয়ে থুতুর সঙ্গে মিশে কণ্ঠনালীর ভেতরে পৌঁছে যায় এবং রক্ত থুতুর চেয়ে বেশি বা সমপরিমাণ হয়, তাহলে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা আবশ্যক। (বাহরুর রায়েক : ২/২৭৩)

* যদি রোজাদারের ঘাম বা অশ্রু অধিক পরিমাণ মুখে চলে যায় এবং গলায় স্বাদ অনুভব হয়, তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। তবে অল্প-সামান্য হলে রোজায় ব্যাঘাত ঘটবে না। (দুররে মুখতার : ২/৪০৪)

* গুহ্যদ্বারে ওষুধ ব্যবহার করলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। কাজা জরুরি। (বাদায়েউস সানায়ে : ২/৯৩)

* নাক বা কানে ওষুধ প্রয়োগে রোজা ভেঙে যাবে। কাজা আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)

* যৌনাঙ্গের ভেতরে ওষুধ ব্যবহারে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। শুধু কাজা লাগবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)

* পানি বা তেল দ্বারা সিক্ত আঙুল মলদ্বারে বা লজ্জাস্থানে প্রবেশ করালে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। কাজা আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)

* শৌচক্রিয়ার সময় পানি বেশিমাত্রায় ব্যবহার করায় যদি পানি মলদ্বারের ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)

* স্বামী জবরদস্তি বা ভয়ভীতি দেখিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে মেলামেশা করলে অথবা স্ত্রী স্বামীর ওপর পীড়ন করলে উভয়ের রোজা ফাসেদ হয়ে যাবে। তবে যার ওপর জোর করা হবে, তার জন্য শুধু কাজা আর জোরকারীর ওপর কাজা ও কাফ্ফারা দুটিই আবশ্যক। (শামী : ২/৪০১)

* স্বামী-স্ত্রী রাত অবশিষ্ট রয়েছে যদি এমন ধারণায় যৌন সম্ভোগ করে কিন্তু পরে তাদের ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়, তাহলে উভয়ের রোজা ফাসেদ হয়ে যাবে। শুধু কাজা লাগবে। (শামী : ২/৪০১)

* স্ত্রী, বেগানা মহিলা বা পুরুষের সঙ্গে কামভাবে স্পর্শ বা চুম্বন করায় বীর্যপাত ঘটলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। শুধু কাজা জরুরি। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৪)

* হস্তমৈথুনে বীর্যপাত হলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। কাজা জরুরি। (শামী : ২/৩৯৯)

* ভুলে খাওয়া-দাওয়ার পর রোজা ভেঙে গেছে এমন ধারণায় ইচ্ছাকৃত আবার খাওয়া-দাওয়া করলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। শুধু কাজা আবশ্যক। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৬)

* রমজানের দিনে স্বপ্নদোষ হওয়ার পর রোজা ফাসেদ হয়েছে, এই মনে করে স্বেচ্ছায় কিছু খেলে রোজা নষ্ট হয়ে যাবে। কাজা জরুরি। (ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া : ১/২০৬)

* রোজা থাকাকালে ইচ্ছাকৃত খাওয়া-দাওয়া ও সহবাস করলে কাজা ও কাফ্ফারা দুটিই আবশ্যক হবে। (বাহরুর রায়েক : ২/২৭৬)

লেখক : মুফতি, দেওপুরা সমনগর আনওয়ারুল উলূম মাদরাসা, নওগাঁ

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads