• রবিবার, ২৬ মে ২০১৯, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads
যুগে যুগে রোজা, ধর্মে ধর্মে উপবাস

পূর্ববর্তী নবী-রসুলদের যুগেও রোজার প্রচলন ছিল

সংরক্ষিত ছবি

ধর্ম

যুগে যুগে রোজা, ধর্মে ধর্মে উপবাস

  • মিরাজ রহমান
  • প্রকাশিত ২৭ মে ২০১৮

আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেছেন, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের প্রতি সিয়াম ফরজ করা হলো, যেমনিভাবে সিয়াম ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। তোমরা যেন মুত্তাকি হতে পার।’ (সুরা বাকারা, আয়াত-১৮৩)। পবিত্র কোরআনের এই আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয়, রোজা শুধু উম্মতে মোহাম্মদির ওপর ফরজ বিধান নয়; পূর্ববর্তী নবী-রসুলদের যুগেও এর প্রচলন ছিল। রসুল (সা.) মদিনায় হিজরতের পর প্রতিমাসে তিনটি রোজাসহ মহররম মাসের ১০ তারিখ আশুরার রোজা পালন করতেন। এরপর দ্বিতীয় হিজরিতে রমজানের রোজা ফরজ হয়। প্রথম নবী হজরত আদমের (আ.) যুগে সিয়ামের বিধান ছিল বলে বিভিন্ন তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ পাওয়া যায়। অবশ্য তৎকালীন সিয়ামের ধরন ও প্রকৃতি কেমন ছিল তার কোনো সঠিক বর্ণনা পাওয়া যায় না। প্রসিদ্ধ তাফসিরবিদ দাহ্হাক বর্ণনা করেছেন, হজরত আদমের (আ.) যুগে ও হজরত নুহের (আ.) শরিয়তে প্রতিমাসে তিনটি রোজা রাখার বিধান ছিল। এই দুই নবীর যুগে চান্দ্রমাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখে সিয়ামের বিধান ছিল। এক দিন পর এক দিন রোজা রাখতেন হজরত দাউদ (আ.)। হজরত মুসা (আ.) জিলকদ ও জিলহজ মাসে ১০ দিন রোজা পালন করে আল্লাহর দরবারে হাজির হয়ে তাওরাত লাভ করেছিলেন।

বিখ্যাত সাহাবি আবদুল্লাহ ইবন আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদিনায় হিজরতের পর রসুল (সা.) দেখতে পেলেন, ইহুদিরা আশুরার সিয়াম পালন করছে। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, এ কিসের দিন? (তোমরা কিসের সিয়াম পালন করছ?) তখন (তাদের পক্ষ থেকে) জানানো হলো, এ এক মহান দিন। এ দিনে আল্লাহ মুসা (আ.) ও তাঁর জাতিকে (ফেরাউনের কবল থেকে) উদ্ধার করেন এবং ফেরাউন ও তার দলবলকে সলিলে নিমজ্জিত করেন। হজরত মুসা (আ.) এ দিনটির স্মরণে সিয়াম পালন করেছিলেন। আমরাও তাঁর অনুসরণে এই সিয়াম পালন করছি। নবী করিম (সা.) তাদের জবাব শুনে বললেন, মুসা (আ.)-এর বিষয়ে তোমাদের চেয়ে আমরা অধিকতর হকদার। এরপর তিনি আশুরার সিয়াম পালনের নির্দেশ দিলেন। (বুখারি ও মুসলিম শরিফ)। হজরত দানিয়েল (আ.) একাধারে এক সপ্তাহ পর্যন্ত রোজা রেখেছেন বলে বর্ণনা পাওয়া যায়। ইঞ্জিল (বাইবেল) নাজিল হওয়ার আগে হজরত ঈসা (আ.) দীর্ঘ চল্লিশ দিন রোজা ও সাধনায় মগ্ন ছিলেন। এ ছাড়া হজরত ইলিয়াস (আ.) একাধারে চল্লিশ দিন রোজা রেখেছিলেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। মোট কথা, পূর্ববর্তী প্রত্যেক নবী-রসুলের শরিয়তেই রোজার বিধান ছিল।

শুধু নবী-রসুলদের যুগে বা শরিয়তেই নয়, প্রায় সব ধর্মেই রোজা পালন বা উপবাসের বিধান বা নিয়ম রয়েছে। নাম, প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিভেদে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে বহুল প্রচলিত একটি ধর্মীয় বিধান রোজা বা উপবাস। ইহুদি ও খ্রিস্ট ধর্মে রোজার প্রচলন ছিল এবং এখনো কিছুটা রয়েছে। বিশেষভাবে ইহুদিদের জন্য সপ্তাহের শনিবার ও মহররমের ১০ তারিখ রোজার বিধান কার্যকর ছিল। ইহুদি ধর্মে রোজা শোক ও বেদনার প্রতীক। প্রাচীন ধর্মগুলোর মধ্যে অন্যতম হিন্দু ধর্ম বা বৈদিক ধর্ম। বর্তমান হিন্দু ধর্মে প্রতিটি পূজায় ব্রতী পূজারি ও অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তা নারী-পুরুষ উপবাস করে থাকেন। আল্লামা সুলাইমান নদভীর সিরাতগ্রন্থ সূত্রে প্রাচীন মিসরীয়দের ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় রোজার সন্ধান পাওয়া যায়। এ ছাড়া পারসিক (অগ্নিপূজক) ধর্মাবলম্বীরাও গুরুত্বসহ রোজা পালন করেন। বৌদ্ধ ধর্মে উপবাস করা হয় মূলত রসনা নিয়ন্ত্রণ ও ভোগ থেকে নিজেকে বিরত রাখার কৌশল হিসেবে। জৈন ধর্মে কয়েক প্রকারের উপবাস রয়েছে। জৈন ধর্মের প্রবক্তা মহাবীর টানা ছয় মাসেরও বেশি সময় উপবাস করেছিলেন। এ ছাড়া চীনের তাও এবং কনফুসিয়াস মতানুসারীরাও উপবাস করে থাকেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads