• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
রোজার কাজা-কাফফারা-ফিদইয়ার পরিচয় ও আদায় পদ্ধতি

কাফফারা মানে জরিমানা

সংরক্ষিত ছবি

ধর্ম

রোজার কাজা-কাফফারা-ফিদইয়ার পরিচয় ও আদায় পদ্ধতি

  • মিরাজ রহমান
  • প্রকাশিত ২৯ মে ২০১৮

মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে বা সমস্যার সম্মুখীন হতে পারে। রমজানে কোনো কারণে কেউ রোজা রাখতে না পারলে বা রোজা পালন করতে গিয়ে কোনো ত্রুটি হলে অথবা রোজা রাখার পর তা ভেঙে গেলে তার প্রতিকার স্বরূপ ইসলাম যে বিধান প্রদান করেছে তাকেই রোজার কাজা-কাফফারা-ফিদইয়া বলা হয়।

কাজা মানে হলো বকেয়া। আর কাফফারা মানে জরিমানা। রমজানের রোজা অতিগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় তা ভঙ্গ করলে কখনো শুধু কাজা বা শুধু কাফফারা এবং কখনো কখনো কাজা + কাফফারা উভয়টি আদায় করতে হয়। ইসলামের বিধান অনুযায়ী কাজা হলো একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা। আর কাফফারা হলো একটির পরিবর্তে ৬০টি রোজা রাখা। এই ৬০টি বিরামহীনভাবে রাখতে হবে। তবে রোজার কাফফারার আরেকটি বিকল্প আছে। তা হলো— ৬০টি রোজার পরিবর্তে ৬০ জন গরিব মানুষকে দুই বেলা খাওয়াতে হবে। এ ছাড়া গোলাম মুক্তিকরণেরও একটি অপশন রয়েছে। ফকিহগণ বলেন, বর্তমানে যেহেতু দাসদাসী বা গোলামের প্রচলন নেই, সুতরাং এই অপশনটির সুযোগ আর বাকি নেই। আর ফিদইয়া হলো— বার্ধক্য বা জটিল কোনো রোগের কারণে যার রোজা রাখার একেবারেই সামর্থ্য নেই এবং পরে কাজা করার সামর্থ্য ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনাও নেই— এমন ব্যক্তি রোজার পরিবর্তে ফিদইয়া প্রদান করবে। ফিদইয়া হলো, প্রত্যেক রোজার পরিবর্তে একজন মিসকিনকে দু’বেলা তৃপ্তিসহ খাবার খাওয়ানো বা এর মূল্য দেওয়া। এক রোজার পরিবর্তে এক ফিদইয়া ওয়াজিব হয়। (আদদুররুল মুখতার ২/৪২৬)

এ পর্যায়ে জানার বিষয় হলো কী কী কারণে বা রোজায় কী কী ধরনের ত্রুটি হলে কাজা আদায় (অর্থাৎ একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা) করতে হবে। যেসব কারণে রোজার কাজা আদায় করতে হয়, তা হলো— ০১. স্ত্রীকে চুম্বন বা স্পর্শ করার কারণে যদি বীর্যপাত হয়। ০২. ইচ্ছাকৃত মুখ ভরে বমি করলে। ০৩. পাথরের কণা, লোহার টুকরা, ফলের বিচি গিলে ফেললে। ০৪. ডুশ গ্রহণ করলে। ০৫. নাকে বা কানে ওষুধ দিলে (যদি তা পেটে পৌঁছে)। ০৬. মাথার ক্ষতস্থানে ওষুধ দেওয়ার পর তা যদি মস্তিষ্কে বা পেটে পৌঁছে। ০৭. যোনিপথ ব্যতীত অন্য কোনোভাবে সহবাস করার ফলে বীর্য নির্গত হলে। ০৮. স্ত্রী লোকের যোনিপথে ওষুধ দিলে। উল্লেখ্য, রমজান মাস ছাড়া অন্য সময়ে রোজা ভঙ্গের কোনো কাফফারা নেই, শুধু কাজা আছে। রোজার কাজার বিধানের ক্ষেত্রে আরো যে বিষয়টি জানা প্রয়োজন, তা হলো— ১. মুসাফির অবস্থায়, ২. রোগব্যাধি বৃদ্ধির বেশি আশঙ্কা থাকলে, ৩. মাতৃগর্ভে সন্তানের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে, ৪. এমন ক্ষুধা বা তৃষ্ণা হয়- যাতে মৃত্যুর আশঙ্কা থাকতে পারে, ৫. শক্তিহীন বৃদ্ধ হলে, ৬. কোনো রোজাদারকে সাপে দংশন করলে, ৭. মহিলাদের মাসিক হায়েজ-নেফাসকালীন রোজা ভঙ্গ করা যায়। উল্লেখিত কারণে রমজান মাসে রোজা ভঙ্গ করা যাবে, কিন্তু পরে তা কাজা করতে হবে। এ ছাড়া যেসব কারণে কাজা ও কাফফারা উভয়ই আদায় করতে হয় (অর্থাৎ একটি রোজার পরিবর্তে ১+৬০= ৬১টি রোজা রাখতে হবে) তা হলো- ০১. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃত পানাহার করলে। ০২. রোজা অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করলে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads