• রবিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
রমজান ও রোজা নিয়ে প্রচলিত যত ভুল

রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত জরুরি নয়

সংরক্ষিত ছবি

ধর্ম

রমজান ও রোজা নিয়ে প্রচলিত যত ভুল

  • মিরাজ রহমান
  • প্রকাশিত ৩০ মে ২০১৮

ইবাদতের স্বর্ণমৌসুম পবিত্র রমজান মাসে আমল-ইবাদতের প্রতি মুমিন-মুসলমানদের আগ্রহ তুলনামূলক বেশি থাকে। তদুপরি সাধারণ সময়ের মতো পবিত্র এ মাসেও নানাবিধ ভুলত্রুটি হয়ে যায়। রমজান ও রোজা নিয়ে মুসলিম সমাজে আমল-ইবাদতগত নানান শুদ্ধ প্রথা ও রীতি-রেওয়াজ প্রচলিত থাকার পাশাপাশি কিছু ভুল প্রচলনও রয়েছে। নিচে রমজান ও রোজা নিয়ে মুসলিম সমাজ-পরিবারে জড়িয়ে থাকা কিছু প্রচলিত ভুলের কথা ও সঠিক সমাধান তুলে ধরা হলো—

রোজার নিয়ত কি মুখে উচ্চারণ করা জরুরি : রোজার নিয়ত নিয়ে অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা কাজ করে। অনেকেই মনে করেন, রোজার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করতে হয়। সমাজে যে আরবি নিয়ত প্রচলিত আছে তা বলতে হয়, নইলে কমপক্ষে মুখে এতটুকু বলতে হয় যে, আমি আগামীকাল রোজা রাখার নিয়ত করছি। অন্যথায় রোজা সহিহ হবে না। এ ধারণা সমপূর্ণ ভুল। রোজার জন্য মৌখিক নিয়ত জরুরি নয়; বরং অন্তরে রোজার সঙ্কল্প করাই যথেষ্ট।

রোজাদারের খাবারের কোনো হিসাব হবে না : কোনো কোনো মানুষকে বলতে শোনা যায়, রোজাদারের খাবারের কোনো হিসাব হবে না। এটি একটি ভুল কথা। খাবারের হিসাব বলতে সাধারণত খাবারের অপচয় বোঝায়। আর কোরআন-হাদিসে এমন কোনো কথা নেই যে, রোজাদার যদি খাবারের অপচয় করে তাহলে তার কোনো হিসাব হবে না। যে ব্যক্তিই খাবার বা যেকোনো বস্তুই অপচয় করুক আল্লাহর দরবারে তাকে এর হিসাব দিতে হবে। এ ছাড়াও পানাহারের ক্ষেত্রে হারাম থেকে দূরে থাকা ফরজ। প্রচলিত এ বাক্য শুনে হারাম খেলেও কোনো হিসাব নেই- এমনটা ভাবা আরো ভয়াবহ।

জাকাত কি শুধু রমজান মাসে আদায় করতে হয় : অনেক মানুষ মনে করে যে, জাকাত শুধু রমজান মাসে আদায়যোগ্য আমল। এ ধারণা ঠিক নয়। নিসাব পরিমাণ সম্পদের ওপর এক চান্দ্রবছর অতিবাহিত হলেই সেই সম্পদের জাকাত দেওয়া ফরজ। জাকাত ফরজ হওয়ার পর দ্রুত আদায় করতে হবে। কিন্তু কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, তাদের জাকাতবর্ষ রমজান মাসের আগে, এমনকি ৪-৫ মাস আগে হয়ে যায়। এরপরও তারা তখন জাকাত আদায় করেন না; বরং রমজানের অপেক্ষা করতে থাকেন। এমন করা আদৌ উচিত নয়।

সাহরি ত্বরান্বিত করা এবং ইফতার বিলম্বিত করা অথবা সাহরি না করা অথবা মধ্যরাতে তা খাওয়ার মাধ্যমেই যথেষ্ট মনে করা— এসব কাজই রসুল (সা.)-এর দিকনির্দেশনার পরিপন্থি। কারণ মুস্তাহাব হলো রোজাদার সাহরি খাবে। এ ছাড়া নবুয়তের চরিত্রের তিনটি আদর্শ হলো— ইফতার ত্বরান্বিত করা, সাহরি বিলম্বিত করা এবং সালাতে ডান হাত বাম হাতের ওপর রাখা। [ত্বাবরানি]

রোগীর কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও রোজা রাখায় অটল থাকা— এটা ভুল। কারণ সত্য হলো, আল্লাহতায়ালা অসুস্থের জন্য রোজা ভাঙার ও পরবর্তীতে তা কাজা করার অনুমতি দিয়েছেন। আল্লাহতায়ালা বলেন, কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। [সূরা আল-বাকারাহ : ১৮৫]

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads