• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
সংযমের মাসে কেন আমরা এত অসংযমী

রমজান সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়

সংরক্ষিত ছবি

ধর্ম

সংযমের মাসে কেন আমরা এত অসংযমী

  • মিরাজ রহমান
  • প্রকাশিত ০৩ জুন ২০১৮

রমজানের রোজা ফরজ বিধান। কিন্তু কখনো কি আমরা ভেবেছি কেন এই বিধান ফরজ করা হলো? রোজার বিধান ফরজ হওয়ার অন্যতম উদ্দেশ্য হলো মানুষকে সংযমী বানানো। এজন্যই রমজানকে সংযমের মাস বলা হয়। রমজান সংযমী হওয়ার শিক্ষা দেয়। খাওয়াদাওয়া, চলাফেরা, কথাবার্তা, কর্মতৎপরতাসহ ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে সংযমী হওয়ার মহান বার্তা নিয়ে মুসলিম পরিবারে রমজানের আগমন ঘটে। কিন্তু এই মাস এলে প্রকৃত অর্থে কি আমরা সংযমী হতে পারি? 

মানুষের প্রথম জৈবিক চাহিদা হলো ক্ষুধা বা খাবারের প্রয়োজন এবং দ্বিতীয় প্রধান চাহিদা হলো যৌনপিপাসা। এই দুটি চাহিদাকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ত্যাগ করার নামই রোজা। রোজা পালন উপলক্ষে সংযমী হওয়ার নেপথ্যে এই দুটি চাহিদাকে নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক। কিন্তু এই নিয়ন্ত্রণ কি আমাদের মধ্যে লক্ষ করা যায়? না; বরং উল্টো অন্য মাসের তুলনায় রমজানে খাওয়ার বাজেট বৃদ্ধি পায়। অন্য মাসে তিন বেলা খাবার গ্রহণের অভ্যাস থাকলে রমজানে সেটা দু’বেলায় কমিয়ে আনতে না পারলে কীসের সংযম? 

রোজা হলো অর্থনৈতিক প্রয়োজন সংযত করার সঙ্কল্পের প্রতীক। কিন্তু রমজান উপলক্ষে রোজা পালনের এই মৌসুমে কোনো ধরনের অর্থনৈতিক সংযম কি করতে পারি আমরা? নাকি অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ নিয়ে রমজানের আগমন ঘটে পরিবারে পরিবারে— এমনটা ভেবে দেখেছি কি একবারও? সারা বিশ্বের চিত্র হলো- রমজানে মুসলিম-অমুসলিম নির্বিশেষে সবাই পণ্যদ্রব্যের দাম কমায় আর বাংলাদেশে রমজান উপলক্ষে প্রতিযোগিতা করে ভোগ্যপণ্যসহ সবকিছুর দাম বৃদ্ধি করা হয়, কিন্তু কেন? বাংলাদেশের জন্য রমজান কি সংযমের মাস নয়?

পবিত্রতার এক শুভ্র আভা নিয়ে বিশ্বদরবারে রমজানের আগমন ঘটে। পবিত্র আভায় উদ্ভাসিত হয় গোটা ধরা। কিন্তু পবিত্র এই মাসেও যখন ধর্ষণ, খুন-খারাবি, মারামারিসহ যাবতীয় অমানবিক ঘটনা ঘটতে দেখা যায় তখন আমরা কীভাবে বলি এটা সংযমের মাস? রমজান আমাদের সার্বিক সংযম শেখায়। অন্তত একটি মাস যদি নিজের মানসিকতাকে দমিয়ে রাখতে না পারি, তাহলে এটা কীসের সংযম? কীসের রোজা? শুধু না খেয়ে থাকাই তো রমজানের সংযমী শিক্ষা নয়। একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, রমজানে গ্যাস্ট্রিকসহ পেটের সমস্যার ওষুধ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়। কারণ কী? কারণ হলো, এ মাসে মানুষের ভাজাপোড়া ও তৈলাক্ত খাবারের মাত্রা অন্য এগারো মাসের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পায়— এটা কি কোনো সংযমের চিত্র? অবশ্যই নয়।

অন্তত এই একটি মাস সুদ-ঘুষের মতো অনৈতিক লেনদেন এবং হারাম উপার্জন থেকে বিরত থাকা উচিত আমাদের। না পারলে নিশ্চিত ধরে নিন এটা আপনার জন্য সংযমের মাস নয় এবং কোনোভাবেই এই রমজান ও রোজা আপনার জন্য পারলৌকিক কোনো উপকার বয়ে আনতে সক্ষম হবে না। চতুর্মুখী সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের শিকার এই দেশ এবং এদেশের মুসলমানরা। পবিত্র রমজান মাসেও কোনোভাবেই এই আগ্রাসনের মাত্রা কম হয় না। তাহলে কীভাবে বলি এই মাসটি আমাকে সাংস্কৃতিক সংযমের শিক্ষা দিচ্ছে?

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads