• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
হজের সওয়াব মিলবে যেসব আমলে 

যাদের হজে যাওয়ার অর্থ রয়েছে, শুধু তাদের ওপরই হজ ফরজ করা হয়েছে

ছবি: সংগৃহীত

ধর্ম

হজের সওয়াব মিলবে যেসব আমলে 

  • প্রকাশিত ২৭ জুলাই ২০১৮

হজ অন্যতম একটি ইবাদত। হজ সবার ওপর মহান আল্লাহ তায়ালা ফরজ করেননি, যাদের হজে যাওয়ার অর্থ রয়েছে, শুধু তাদের ওপরই হজ ফরজ করা হয়েছে। তাদের ভাগ্যে জুটে যায় পবিত্র হজ। ছুটে যান স্বপ্নের মক্কা আর মদিনায়। যাদের ওপর হজ ফরজ হয়নি, যেতে পারছে না মক্কা-মদিনা দেখার জন্য; যেতে পারছে না ইহরামের কাপড় পরিধান করে মনের বাসনা পূরণ করার জন্য কাবাঘর তাওয়াফ আর মদিনায় প্রিয় নবীর রওজা জিয়ারত করতে। 

আল্লাহ কেন আমাদের আর্থিক অবস্থা উন্নত করলেন না! যদি হজে যাওয়ার সম্বল থাকত, চলে যেতাম সব বাধা পেরিয়ে। এখন হজের সওয়াব থেকে আল্লাহ আমাকে বঞ্চিত করলেন- এমন ধারণা পোষণ করেন অনেকে। আমরা দরিদ্র বলে মনে হয় আল্লাহ আমাদের ভালোবাসেন না। আসলেই কি কথাটি সত্যি? না, আল্লাহ গরিবদের ভালোবাসেন। এজন্য তিনি সপ্তাহে একটি নামাজ রেখে দিয়েছেন, যে নামাজে রেখেছেন হজের সওয়াব। সেই নামাজের দিনটি হলো জুমার দিন। রসুল (সা.) বলেন, ‘জুমার নামাজ মিসকিনদের হজ।’ অন্য বর্ণনায় রয়েছে, ‘জুমার নামাজ গরিবের হজ।’ (কানজুল উম্মাল : ৭ম/২১০২৭, ২১০২৮)  

আমরা পারি জুমার দিন পবিত্র হয়ে উত্তম জামা পরিধান করে প্রথমে মসজিদে গিয়ে নামাজ আদায় করে হজের সওয়াবের মালিক হতে কিংবা ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করে হজ পরিমাণ সওয়াব পেতে পারি। রসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফজরের নামাজ জামাতের সাথে আদায় করল, সেই ব্যক্তি হজ আদায় আর যে নফল নামাজ আদায় করল, সে ওমরা করে এলো।’ (তাবারানি : ৭৫৭৮) সুবহানআল্লাহ! ফজরের নামাজ জামাতে আদায়ের পরও যদি মসজিদে বসে মহান আল্লাহতায়ালার নাম স্মরণ, প্রিয় রসুল (সা.)-এর প্রতি দরূদ শরিফ পাঠ করে সূর্য উদয় পর্যন্ত অপেক্ষা করে, সূর্য উদয়ের পরে দুই রাকাত নামাজ আদায় করে- তার জন্য রয়েছে হজ ও ওমরা করার সওয়াব। 

তা ছাড়া প্রতি রাতে চারবার কালেমায় ‘তামজি লা ইলাহা ইল্লা আনতা নূরাই ইয়াদিয়াল্লাহু লিনুরিহি মাইয়্যাশাউ মুহাম্মাদুর রাসুলিল্লাহি ইমামুল মুরসালিসনা খাতামুন নাবিয়্যীন’ পড়ে ঘুমালে একটি হজের সওয়াব তার আমলনামায় দিয়ে দেওয়া হবে। 

আসুন, আমরা দরিদ্র, আমাদের ওপর হজ ফরজ হয়নি কিংবা  যারা হজে যেতে পারিনি আজ থেকে উপরোক্ত আমলের অভ্যাস করি আর আমল শেষে যখনই আল্লাহর দরবারে হাত তুলি তখনই মহান প্রভুর দরবারে প্রার্থনা করি যেন আল্লাহ আমাদের হজ করার সামর্থ্য দেন। 

মো. আবু তালহা তারীফ 

লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads