• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
রিসালাতের পরিচয় ও বিষয়বস্তু

রিসালাতের পরিচয় ও বিষয়বস্তু

সংরক্ষিত ছবি

ধর্ম

রিসালাতের পরিচয় ও বিষয়বস্তু

  • মিরাজ রহমান
  • প্রকাশিত ০৭ আগস্ট ২০১৮

রিসালাত আরবি শব্দ। সাধারণ অর্থে যা কিছু প্রেরণ করা হয়, তাকেই রিসালাত বলা হয়। আর আভিধানিক অর্থ হলো— বার্তাবহন, সম্বোধন, লিখিত সহিফা বা বিষয়বস্তু ইত্যাদি (আল-মুজামুল অসিত)।

রিসালাত হলো এমন বক্তব্য, যা কোনো ব্যক্তি অন্যের কাছ থেকে প্রাপ্ত হয়ে বহন করে নিয়ে আসে— চাই তা লিখিত হোক বা অলিখিত (মুজামু লুগাতিল ফুকাহা)। ইসলামী শরিয়তের পরিভাষায়, আল্লাহতায়ালা বান্দার হিদায়াতের নিমিত্তে তাদের মধ্য থেকে মনোনীত বান্দার মাধ্যমে যে বাণী পাঠান, তাকেই রিসালাত বলা হয়। আর যারা এই রিসালাত বহন করেন, তাদের বলা হয় রসুল। পবিত্র কোরআনে এই মর্মে ইরশাদ হয়েছে, অবশ্যই তারা ছিল আমার মনোনীত উত্তম বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত (সুরা সোয়াদ, আয়াত ৪৭)।

কোনো শিক্ষা, যোগ্যতা বা অর্জনযোগ্য কোনো বিষয়ের নাম রিসালাত নয়। এটা এমন কোনো বিষয়ও নয় যা দক্ষতা, মেধা বা প্রতিভার মাধ্যমে অর্জন বা লাভ করা যায়। অধ্যবসায়, অনুশীলন ও সাধনার মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালের বহু বিষয় অর্জন সম্ভব হলেও রিসালাত ও নবুওয়াত অর্জন সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণরূপে আল্লাহতায়ালার মনোনয়ন। তিনি চাইলে এ মনোনয়ন মিলবে আর তিনি না চাইলে কখনো মিলবে না। আর এ মনোনয়ন যাকে-তাকে আল্লাহ মহান প্রদান করেন না।

মানবজাতির কাছে মহান আল্লাহর পয়গাম বহন করা এবং প্রচার করার জন্য যাকে যোগ্য মনে করেন, তাকেই মনোনীত করেন তিনি। এই মর্মে ইরশাদ হয়েছে, আল্লাহতায়ালা ফেরেশতা ও মানবকুল থেকে রসুল মনোনীত করে থাকেন (সুরা হজ, আয়াত ৭৫)।

রিসালাতের দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা ও গুণাবলি জন্মগত ও স্বভাবগতভাবেই যাদের মধ্যে সৃষ্টি করে দেন, তাদেরই আল্লাহতায়ালা মনোনীত করেন। মক্কার কাফিররা যখন মোহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতের অস্বীকৃতি জানাতে শুরু করল, মহান আল্লাহ তখন জানিয়ে দিলেন, ‘আর আল্লাহ তার রিসালাতের ভার কার ওপর অর্পণ করবেন তা তিনিই ভালো জানেন’ (সুরা আনআম, আয়াত ১২৪)।

একটি প্রশ্ন হতে পারে, পরাক্রমশালী আল্লাহ মহানের জন্য রিসালাতের মাধ্যম গ্রহণের প্রয়োজন হলো কেন? বহুকাল ধরে পৃথিবীতে মানুষ বসবাসের একসময় তাদের আকিদা-বিশ্বাস ও ধ্যান-ধারণার বিভিন্নতা দেখা দেয়। এ কারণে ধীরে ধীরে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি হয়। বিভ্রান্ত হতে শুরু করে মানুষ। তখন আল্লাহ মহান সত্য মতবাদকে প্রচারের জন্য এবং সঠিক পথপ্রদর্শনের লক্ষ্যে রিসালাতবাহী নবী-রসুল প্রেরণ করেন এবং তাদের ওপর নাজিল করেন ঐশী দিকনির্দেশনাসহ আসমানি কিতাব। নবী-রসুলদের সাধনায় কিছু মানুষ সত্য ও সুন্দরের পথে ফিরে আসেন আর তা প্রত্যাখ্যান করে একদল মানুষ। নবীদের অনুসারীরা মুমিন এবং অবাধ্যরা কাফের হিসেবে পরিচিতি পায়।

 

লেখক : আলেম ও সাংবাদিক

 

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads