• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
সাহাবীদের মর্যাদা

সাহাবীদের মর্যাদা

প্রতীকী ছবি

ধর্ম

সাহাবীদের মর্যাদা

  • মুফতি এহসানুল হক মুজাদ্দেদি
  • প্রকাশিত ১৮ আগস্ট ২০১৮

আরবি ‘সুহবত’ শব্দ থেকে ‘সাহাবি’ শব্দটি এসেছে। আভিধানিক অর্থ সঙ্গী, সাথী, সহচর, একসঙ্গে জীবনযাপনকারী অথবা সাহচর্যে অবস্থানকারী। ইসলামী পরিভাষায় ‘সাহাবা’ শব্দটি দ্বারা রসুল (সা.)-এর মহান সঙ্গী-সাথীদের বোঝায়। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানি (র.) ‘আল-ইসাবা ফী তাময়ীযিস সাহাবা’ গ্রন্থে সাহাবির পরিচয় দিতে গিয়ে বলেন, ‘সাহাবি সেই ব্যক্তি যিনি রসুল (সা.)-এর প্রতি ঈমান সহকারে তাঁর সাক্ষাৎ লাভ করেছেন এবং ইসলামের ওপর ইন্তিকাল করেছেন।’

সাহাবিগণ সত্য ও ন্যায়ের মাপকাঠি। একেকজন সাহাবি আকাশের একেকটি তারকার মতো। তাদের পরস্পরের মধ্যে মর্যাদার হিসাবে স্তরভেদ থাকতে পারে, কিন্তু পরবর্তী যুগের এমন কোনো মুসলমানই, তা তিনি যত বড় জ্ঞানী, গুণী ও সাধক হোন না কেন কেউই একজন সাহাবির সমান মর্যাদা লাভ করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ এবং ইজমা একমত। স্মরণীয় যে, সাহাবিরাই রসুল (সা.) ও তাঁর উম্মতের মধ্যে প্রথম মধ্যসূত্র। পরবর্তী উম্মত আল্লাহর কালাম পবিত্র কোরআন, কোরআনের ব্যাখ্যা, আল্লাহর রসুলের (সা.) পরিচয়, তাঁর শিক্ষা, আদর্শ— মোটকথা দ্বীনের সবকিছুই একমাত্র তাদেরই সূত্রে, তাদেরই মাধ্যমে জানতে পেরেছেন। সুতরাং এই প্রথম সূত্র উপেক্ষা করলে, বাদ দিলে অথবা তাদের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হলে দ্বীন, শরীয়তের মূল ভিত্তিই ধসে পড়ে। কোরআন ও হাদিসের প্রতি অবিশ্বাস দানা বেঁধে ওঠে।

কোনো কোনো সাহাবির জীবদ্দশায় রসুল (সা.) তাদের জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। তবে মুসলিম আলেমগণ সাহাবিদের সবাইকেই জান্নাতী বলে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। ইবনে হাজার ‘আলইসাবা’ গ্রন্থে স্পেনের ইমাম ইবনে হাযমের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, ‘আস-সাহাবাতু কুল্লুহুম মিন আহলিল জান্নাতী কাতআন।’ অর্থাৎ, ‘সাহাবিদের সকলেই নিশ্চিতভাবে জান্নাতী।’ সাহাবিদের গালি দেওয়া বা হেয় প্রতিপন্ন করা কিংবা সমালোচনা করা সম্পূর্ণ হারাম। রসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমার পরে তোমরা তাদের সমালোচনার লক্ষ্যে পরিণত কর না। তাদের যারা ভালোবাসে, আমার মুহাব্বতের খাতিরেই তারা ভালোবাসে, আর যারা তাদের হিংসা করে, আমার প্রতি হিংসার কারণেই তারা তা করে।’ (মিশকাতুল মাসাবিহ)। হজরত ইবনে উমর (রা.) হতে বর্ণিত রসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা ওইসব লোকদের দেখবে যারা আমার সাহাবিদের গালমন্দ করে, তখন তোমরা বলবে, তোমাদের প্রতি আল্লাহতায়ালার লানত, তোমাদের এ মন্দ আচরণের জন্য’ (তিরমিজি)।

সাহাবিদের মর্যাদা ও তাদের ফজিলত সম্পর্কে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তারাই মুমিন, যারা আল্লাহ ও তার রসুলের (সা.) প্রতি ঈমান আনার পর সন্দেহ পোষণ করে না এবং আল্লাহর পথে জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে। তারাই (সাহাবিগণ) সত্যনিষ্ঠ বা সত্যবাদী।’ (সুরা হুজুরাত, আয়াত : ১৫)। ‘এমন সব লোকই (সাহাবিরা) সত্যিকারের মুমিন (যাদের ভেতর ও বাহির এক রকম এবং মুখ ও অন্তর ঐক্যবদ্ধ)। তাদের জন্য রয়েছে স্বীয় পরওয়ারদিগারের নিকট সুউচ্চ মর্যাদা ও মাগফিরাত এবং সম্মানজনক রিজিক’ (সুরা আনফাল, আয়াত : ৪)।

লেখক : প্রিন্সিপাল, মণিপুর বাইতুর রওশন মাদরাসা কমপ্লেক্স, মিরপুর, ঢাকা

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads