• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
নামাজের পরিচয়

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় স্তম্ভ

সংগৃহীত ছবি

ধর্ম

নামাজের পরিচয়

  • প্রকাশিত ২৭ আগস্ট ২০১৮

ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ

নামাজ শব্দটি ফারসি শব্দ। নামাজের আরবি শব্দ ‘সালাত’। কোরআন ও হাদিসে সালাত শব্দটিই ব্যবহার হয়েছে। সালাতের আভিধানিক অর্থ হলো দোয়া করা, কারো দিকে মুখ করা, অগ্রসর হওয়া, ক্ষমা প্রার্থনা করা, দয়া করা, দরুদ পাঠ করা, রহমত, ইস্তিগফার ইত্যাদি। আর পরিভাষায় সালাত বলা হয় আল্লাহপাকের নির্দেশিত বিশেষ একটি ইবাদত, যা তার রসুল (সা.) কর্তৃক প্রদর্শিত বিধিবিধান মোতাবেক রুকু-সিজদা সহকারে নির্ধারিত পদ্ধতিতে আদায় করা হয়।

ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের মধ্যে নামাজ দ্বিতীয় স্তম্ভ। সালাত কোরআন, হাদিস এবং ইজমা দ্বারা প্রমাণিত সর্বসম্মত একটি ফরজ বিধান। নামাজকে দ্বীনের খুঁটি বলা হয়েছে। খুঁটি ছাড়া যেমন ঘর হয় না, তেমনি নামাজ ছাড়া দ্বীন পরিপূর্ণ হয় না। হজরত মুহম্মদের (সা.) পূর্বের কোনো নবী-রসুলদের ওপর কোন কোন সালাত ফরজ ছিল তা পবিত্র কোরআন ও সহীহ হাদিসে স্পষ্ট পাওয়া যায় না। তবে মিরাজের হাদিসে পাওয়া যায়, মুসার (আ.) উম্মতের ওপর দুই ওয়াক্ত নামাজ ফরজ ছিল- ফজর আর মাগরিব। সুরা রাদের বর্ণনায় পাওয়া যায়, সুলাইমানের (আ.) ওপর আসরের নামাজ ফরজ ছিল। এশার নামাজ শুধুমাত্র হজরত মুহম্মদের (সা.) উম্মতের বৈশিষ্ট্য। নবীজীর নবুওয়াত লাভের পর থেকেই মূলত নামাজ ফরজ হয়। তখন ফজর ও আসর নামাজের রাকাত সংখ্যা ছিল দুই রাকাত করে (কুরতুবী)। পবিত্র  কোরআনে মহান আল্লাহপাক ইরশাদ করেছেন, ‘আপনি আপনার প্রভুর প্রশংসা করুন সূর্যাস্তের পূর্বে ও সূর্যোদয়ের পূর্বে’ (সুরা মুমিন, আয়াত-৫৫)।

একটি হাদিসে আয়েশা (রা.) বলেন, ‘শুরুতে নামাজ বাড়িতে ও সফরে দুই রাকাত করে ছিল’ (মুসলিম)। মিরাজের রাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ হয়। আর প্রথম হিজরিতে জুমার নামাজ ফরজ হয় (সালাতুর রাসুল)। পবিত্র কোরআনে নামাজ সম্পর্কে আল্লাহপাক বলেছেন, ‘নিজের পরিবার-পরিজনকে নামাজ পড়ার হুকুম দাও এবং নিজেও তা নিয়মিত পালন করতে থাকো। আমি তোমার কাছে কোনো রিজিক চাই না, রিজিক তো আমিই তোমাকে দিচ্ছি এবং শুভ পরিণাম মুত্তাকিদের জন্যই’ (সুরা ত্বাহা, আয়াত-১৩২)। হজরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ইসলামের ভিত্তি পাঁচটি জিনিসের ওপর স্থাপিত- ১. এ সাক্ষ্য দেওয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো ইলাহ নেই এবং মুহম্মদ (সা.) আল্লাহর রসুল; ২. নামাজ কায়েম করা; ৩. জাকাত আদায় করা; ৪. বাইতুল্লাহর হজ করা এবং ৫. রমজানের রোজা রাখা (বোখারি ও মুসলিম)।

লেখক : সাংবাদিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads