• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
আজানের পরিচয় ও ফজিলত

যিনি আজান দেন, তাকে মুয়াজ্জিন বলা হয়

সংগৃহীত ছবি

ধর্ম

আজানের পরিচয় ও ফজিলত

  • ওয়ালি উল্লাহ সিরাজ
  • প্রকাশিত ০১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আজান আরবি শব্দ। এর অর্থ হলো ডাকা, আহ্বান করা, অবহিত করা ও ঘোষণা দেওয়া। শরিয়তের পরিভাষায় আজান বলা হয়, জামাতে নামাজ আদায় করার লক্ষ্যে আশপাশের মানুষকে একত্র করার জন্য আরবি নির্দিষ্ট শব্দ ও বাক্যের মাধ্যমে উচ্চকণ্ঠে ডাক দেওয়া ও ঘোষণা করা। আর যিনি আজান দেন, তাকে মুয়াজ্জিন বলা হয়।

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যখন নামাজের আজান দেওয়া হয়, তখন শয়তান বায়ু ছাড়তে ছাড়তে দৌড়ে বহু দূর চলে যায়, যেন আজানের আওয়াজ তার কানে প্রবেশ না করে। আজান শেষ হলে লোকালয়ে আবার ফিরে আসে। যখন ইকামত বলা হয়, তখনো এ ধরনের দৌড়ে পালায়। ইকামত শেষ হলে পুনরায় এসে নামাজরত ব্যক্তিদের মনে নানা অসওয়াসা সৃষ্টি করে তাদের দিলে এদিক-সেদিক থেকে নানা কথা টেনে আনতে থাকে, যেসব কথা তাদের স্মরণেও ছিল না। এভাবে শয়তান নামাজি ব্যক্তিকে নানা কথায় ফেলে তার নামাজ ভুলিয়ে ফেলে। এমনকি কত রাকাত পড়েছে তাও স্মরণ থাকে না (বুখারি)।

আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মানুষ যদি জানত আজান দেওয়ার মাহাত্ম্য ও ফজিলত কী, তবে লটারি করে হলেও আজান দেওয়ার সুযোগ তালাশ করত (বুখারি)। সাহাবিদের যুগে একবার এক ঘটনা ঘটেছিল, আজান দেওয়ার প্রার্থী অনেক হলো, এমনকি উপস্থিত সাহাবি সায়াদ (রা.) তাদের মধ্যে লটারি করতে বাধ্য হলেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে সওয়াবের কাজ মনে করে সাত বছর আজান দেবে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হবে (তিরমিজি)।

যিনি আজান দেন, ইসলাম তাকে অনেক বড় মর্যাদা দিয়েছে। একটি হাদিসে নবী (সা.) ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি সওয়াবের নিয়তে অব্যাহতভাবে সাত বছর আজান দেবে, তার জন্য জাহান্নাম থেকে মুক্তি লিখে দেওয়া হবে (মেশকাত শরিফ)। অন্য একটি হাদিসে আরো এসেছে, কিয়ামতের দিন মুয়াজজিনের ঘাড় সবার চেয়ে উঁচু হবে অর্থাৎ তাদের বিশেষ মর্যাদায় ভূষিত করা হবে (মেশকাত শরিফ)। ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি বারো বছর আজান দেবে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে, আর প্রত্যেক আজানের বিনিময়ে তার জন্য ষাট নেকি লেখা হয় এবং প্রত্যেক ইকামতের জন্য ত্রিশ নেকি লেখা হয় (ইবনে মাজা)।

অন্য একটি হাদিসে আজান শ্রবণকারীর বিষয়ে বলা হয়েছে। জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আজান শুনে বলে, ‘আল্লাহুম্মা রাব্বা...ইন্নাকা লা তুখলিফুল মিয়াদ’, তার জন্য কিয়ামতের দিন আমার শাফায়াত ওয়াজিব হয়ে যাবে (বুখারি ও আবু দাউদ)।

লেখক : সাংবাদিক

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads