• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

কাঙ্ক্ষিত গতি নেই, ভোগান্তি গ্রাহকসেবাতেও

  • শাহাদাত হোসেন
  • প্রকাশিত ১০ মার্চ ২০১৮

ডেমরার বাসিন্দা রায়হান একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের (আইএসপি) এক মেগাবিট পার সেকেন্ড গতির ইন্টারনেট সংযোগ ব্যবহার করেন। এর জন্য তাকে প্রতিমাসে গুনতে হয় ৮০০ টাকা যা তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি বলে জানান এই গ্রাহক। ‘মাত্র এক এমবিপিএসের জন্য এত টাকা দিচ্ছি অথচ সেবা খুবই নিম্নমানের। যে গতির কথা বলা হয়েছে, তার থেকে অনেক কম পাচ্ছি’, অভিযোগের সুরে বলেন এ গ্রাহক।

রাজধানীর নাখালপাড়ার আরেক ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহক রাশিদুল আমিন জানান, ফ্রিল্যান্সিংয়ের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তিনি স্থানীয় একটি ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের পাঁচ এমবিপিএস সংযোগ ব্যবহার করেন। রাজধানীর অন্য এলাকার তুলনায় এজন্য তাকে গুনতে হয় বাড়তি টাকা। কিন্তু সে অনুপাতে ইন্টারনেটের গতি কিংবা সেবা, কোনোটিই পান না বলে জানান তিনি।

রাশিদুল আমিন বলেন, কাজের জন্যই আমার উচ্চগতির এবং নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেটের প্রয়োজন পড়ে। কারণ বিদেশে থাকা ক্লায়েন্টের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে হয় আমাকে। কিন্তু হুটহাট করেই ইন্টারনেট চলে যায়। একদিনের মধ্যে পাঁচ থেকে ছয়বার ইন্টারনেট ছিল না, এমন অভিজ্ঞতাও আছে।’ অনেক ক্ষেত্রেই বড় কোনো ফাইল আপলোড কিংবা ডাউনলোডের ক্ষেত্রেও তাকে ঝামেলায় পড়তে হয় বলেও জানালেন তিনি। রাশিদুল আরো জানান, বিকল্প ভালো কোনো আইএসপি না পাওয়ার কারণে সংযোগ পরিবর্তনও করতে পারছেন না তিনি।

শুধু এ দুজন নয়, এ ধরনের অভিযোগ আরো অনেক ব্যবহারকারীরই। একাধিক গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যে গতির ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়া হয়, প্রথমদিকে তেমন গতি পেলেও কিছুদিন পর থেকেই শুরু হয় সমস্যা। অনেক গ্রাহক প্রতিশ্রুত গতির অর্ধেকও পান না বলে জানিয়েছেন।

এর বাইরে আছে যখন তখন ইন্টারনেট চলে যাওয়ার মতো সমস্যাও। ভুক্তভোগী গ্রাহকরা বলছেন, এ ধরনের সমস্যায় সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা বলেও প্রতিকার পাওয়া যায় না। এ ছাড়া অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় সামান্য বৃষ্টি হলেই কিংবা বিদ্যুৎ না থাকলে ইন্টারনেটও থাকে না। কিছু ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান বিকল্প বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখলেও অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় এর উল্টো ঘটনা।

বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন বিটিআরসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বর্তমানে প্রায় ৮ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার। এর মধ্যে আইএসপি এবং পিএসটিএন থেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন প্রায় ৫৩ লাখ ৪৫ হাজার যার মধ্যে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট গ্রাহকের সংখ্যাই বেশি।

২০১৬ সালের শুরুর দিকে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের সর্বনিম্ন গতি ৫ মেগাবিট পার সেকেন্ড (এমবিপিএস) নির্ধারণ করে দেয় সরকার যা এর আগে ছিল এক এমবিপিএস। এর ফলে ৫ এমবিপিএসের কম গতির ইন্টারনেটকে বলা হবে ‘ন্যারোব্যান্ড’ ইন্টারনেট। সে অনুযায়ী ব্রডব্যান্ড বলা হলেও গ্রাহকরা পাচ্ছেন ন্যারোব্যান্ড ইন্টারনেট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় বড় আইএসপি থেকে ব্যান্ডউইথ নিয়ে এলাকাভিত্তিক কিছু প্রতিষ্ঠান ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। সমস্যা মূলত তাদের ক্ষেত্রেই হচ্ছে। গ্রাহকদের পাশাপাশি বড় ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল অপারেটর সবারই অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।

পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এরই মধ্যে বিটিআরসির সঙ্গে এ বিষয়ে আমার কথা হয়েছে। পুরো বিষয়টিকে আমরা গুরুত্ব সহকারেই দেখছি। একজন গ্রাহক যেন প্রতিশ্রুত সেবা পায় সে বিষয়টি আমরা নিশ্চিত করতে চাই।

মোস্তাফা জব্বার বলেন, একজন গ্রাহক ভোগান্তির শিকার হলে দুইভাবে ব্যবস্থা নিতে পারেন। প্রথমত, তিনি ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ জানাতে পারেন। দ্বিতীয়ত, বিটিআরসিতেও অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থা রয়েছে। বিটিআরসিতে অভিযোগ জানানোর পর একজন গ্রাহক যেন সঠিকভাবে প্রতিকার পায়, সে বিষয়টি জোরদার করার জন্যও আমি কাজ করব।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads