• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

শরীরে নতুন অঙ্গের খোঁজ পেলেন বিজ্ঞাণীরা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৯ মার্চ ২০১৮

মানুষের শরীরে ‘ইন্টারস্টিশিয়াম’ নামে একটি নতুন অঙ্গের খোঁজ পেয়েছেন মার্কিন বিজ্ঞানীদের একটি দল। তবে অন্যতম বৃহৎ এই অঙ্গটি সম্পর্কে এখনো আরো গবেষণা প্রয়োজন। এই অঙ্গটি সম্পর্কে পুরোপুরি জানা গেলে ক্যানসার-রহস্যও সমাধান হবে বলে বিশ্বাস করেন ওই বিজ্ঞানীরা। বুধবার ‘সায়েন্টিফিক রিপোর্ট’-এ প্রকাশিত এক গবেষণাপত্রে এই দাবি করেছেন একদল মার্কিন বিজ্ঞানী। তাঁরা জানাচ্ছেন, সদ্য খোঁজ পাওয়া এই ‘ইন্টারস্টিশিয়াম’ হলো ফ্লুইড বা দেহরস ও কলাকোষের সমষ্টি, যা সারা শরীরে জাল ছড়িয়ে রয়েছে। হৃৎপিন্ড বা যকৃতের যেমন আলাদা আলাদা কাজ, এদেরও নির্দিষ্ট কাজ রয়েছে।

মানবদেহের দুই-তৃতীয়াংশই পানি। বেশিটাই কোষবন্দী অবস্থায়। বাকি তরলের ২০ শতাংশ ‘ইন্টারস্টিশিয়াল’। ‘ইন্টার’ শব্দের অর্থ ‘মধ্যবর্তী’। আর ‘স্টিশিয়াল’ বলতে ‘অবস্থান’। অর্থাৎ দু’টি অংশের মাঝখানে থাকা তরল। এই মধ্যবর্তী তরল ও কলাকোষকে একসঙ্গে বলে ‘ইন্টারস্টিশিয়াম’। গোটা দেহে ছড়িয়ে রয়েছে সেটি। পাকস্থলী থেকে শ্বাসযন্ত্র, এমনকী ত্বকের ঠিক নীচেও থাকে এটা।

তবে ‘ইন্টারস্টিশিয়াম’ যে সম্পূর্ণ আলাদা একটি অঙ্গ, তার প্রমাণ পেতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গবেষকদলের প্রধান নিউ ইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ল্যাঙ্গন মেডিক্যাল সেন্টার’-এর প্যাথোলজির অধ্যাপক নিল ডি থিস বলেন, ‘একে বুঝতে হলে, মানবদেহের প্রতিটি অঙ্গ ও তাদের কাজকর্ম নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে!’ আর সেই কাজটা সফল ভাবে করা গেলে, শরীরে একটি অংশ থেকে অন্যত্র ক্যানসার ছড়িয়ে পড়ে কী ভাবে, সেটাও হয়তো স্পষ্ট হয়ে যাবে।’ বিশেষ করে, ইন্টারস্টিশিয়াল ফ্লুইড বা মধ্যবর্তী তরলই যখন লিম্ফ বা লসিকা-র মূল উৎস। লসিকা থেকে শ্বেত রক্তকণিকা তৈরি হয়। যা কি না যে কোনও রোগ সংক্রমণ ঠেকাতে মূল হাতিয়ার।

কিন্তু কেমন দেখতে এই অঙ্গটি? থিসের ভাষায়, ‘এর কোনও ছবি দিতে পারব না। শুধু বলতে পারি এটি রয়েছে। শরীরের বিভিন্ন অংশের ওই ‘ইন্টারস্টিশিয়াল’ বা ‘মধ্যবর্তী স্থান’ কেউ কখনও দেখেনি। কারণ বিজ্ঞানীরা যে পদ্ধতিতে কলা-কোষের পরীক্ষা করে থাকেন, তাতে অংশটি ধরা পড়া অসম্ভব।’ কোষগুলো পানিভর্তি থলির মধ্যে থাকে। সবটা মিলিয়ে ইন্টারস্টিশিয়াম। কোষ পরীক্ষা করে দেখার সময় যখন শরীর থেকে বের করা হয়, তখন তরল অংশ বেরিয়ে যায়। মাইক্রোস্কোপের তলায় ওই কোষগুলোই শুধু ধরা পড়ে।

তাহলে বিষয়টা জানা গেল কী ভাবে? ২০১৫ সালে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে এন্ডোস্কোপি করার সময় ইজরায়েলের দুই চিকিৎসক এক রোগীর পিত্তথলির মধ্যে অদ্ভুত কিছু দেখতে পান। ওই দুই চিকিৎসক দাবি করেন, সেটিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের চেনাজানা কোনও দেহাংশের সঙ্গে মেলাতে পারেননি তাঁরা। রহস্যময় ওই অংশের ছবি তুলে সেটি ও ক্যানসার রোগীটির বায়োপসি স্লাইড তাঁরা নিউ ইয়র্কে থিসের কাছে পাঠিয়েছিলেন। পরবর্তী দীর্ঘ গবেষণায় নতুন অঙ্গের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads