• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

প্রতিকি ছবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্বপ্নে দেখা যাবে যা ইচ্ছে তাই!

  • আসিফ খান
  • প্রকাশিত ০৫ মে ২০১৮

স্বপ্ন মানুষের একটি মানসিক অবস্থা, যাতে মানুষ ঘুমন্ত অবস্থায় বিভিন্ন কাল্পনিক ঘটনা অবচেতনভাবে অনুভব করে থাকে। স্বপ্ন দেখার সময় আসলে ধারাবাহিক কতগুলো ছবি ও আবেগের সমষ্টি মানুষের মনের মধ্যে আসে। অনেক সময় পুরনো অভিজ্ঞতার টুকরো টুকরো স্মৃতি কল্পনায় বিভিন্নভাবে জুড়ে ও পরিবর্তিত হয়ে সম্ভব অসম্ভব সব ঘটনায় রূপ নেয়। ঘটনাগুলো কাল্পনিক হলেও স্বপ্ন দেখার সময় তা সত্যি বলেই মনে হয়।

স্বপ্ন সম্বন্ধে অনেক দর্শন, বিজ্ঞান, কাহিনী ইত্যাদি আছে। অনেকেই স্বপ্ন সম্পর্কে ফ্রয়েডীয় তত্ত্বকে সমর্থন করেন যে স্বপ্ন মূলত মানুষের গোপন আকাঙ্ক্ষা এবং আবেগগুলোর বহিঃপ্রকাশ। তবে আধুনিক যুগে স্বপ্নকে অবচেতন মনের একটি সংযোগ হিসেবেই দেখা হয়।

স্বপ্নের ঘটনাগুলো সাধারণত যিনি স্বপ্ন দেখেন তার নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। তবে সম্প্রতি গবেষকরা এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যা মানুষের স্বপ্ন নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। অর্থাৎ যন্ত্রটি আপনার ইচ্ছামতোই নির্ধারণ করে দেবে স্বপ্নের বিষয়।

ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) রিসার্চ ল্যাবের একদল ইচ্ছেস্বপ্ন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে এমন এক যন্ত্র উদ্ভাবনের দাবি করেছেন যা দিয়ে স্বপ্নদশা বা Hzpnagogia অবস্থাকে শনাক্তকরণসহ এই সময়ের চিন্তাভাবনা, দৃশ্য কল্পনা ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা যাবে।

এই যন্ত্রটি আবিষ্কার করতে বিজ্ঞানী টমাস আলভা এডিসনের ‘স্টিলের গোলক’ চর্চা বিশেষ ভূমিকা রেখেছে। টমাস আলভা এডিসন দিনের আঠারো ঘণ্টাই কাজ করতেন এবং কাজের ফাঁকে ফাঁকে অল্প সময় করে করে ঘুমিয়ে নিতেন। ঘুমের প্রথম ধাপ অর্থাৎ শুরুর প্রথম ১ থেকে ১০ মিনিটের মতো মানুষ আধো সচেতন, আধোঘুম বা তন্দ্রার মধ্য দিয়ে যায়। এই সময় আস্তে আস্তে মস্তিষ্ক ধীর হতে শুরু করে, পেশি হতে থাকে শিথিল। এডিসন তার ভাতঘুমের সময় দুই হাতে দুটি ছোট ‘স্টিলের গোলক’ শক্ত করে ধরে রাখতেন। তন্দ্রাচ্ছন্ন হয়ে গেলেই গোলকগুলো হাত থেকে পড়ে গিয়ে যে শব্দ করত সে শব্দে এডিসন জেগে উঠতেন। আর জেগে উঠেই তন্দ্রাচ্ছন্ন অবস্থায় কী ভাবছিলেন, দেখছিলেন, শুনছিলেন, তা লিখে রাখতেন।

এডিসনের এই গোলক নিয়ে জেগে থাকার চেষ্টাই গবেষকদের কাছে হয়ে উঠছে পথ প্রদর্শক। এই ঘটনাটা মানুষের ঘুম এবং ঘুম থেকে জেগে ওঠা কিংবা সজাগ অবস্থা থেকে ঘুমিয়ে যাওয়ার মধ্যখানের সূক্ষ্ম সময়টাকে খুঁজে পেতে সাহায্য করছে গবেষকদের।

বিজ্ঞানীরা এই সূক্ষ্ম সময়টাতে মানুষের মনের অবস্থার নাম দিয়েছেন Hzpnagogia বা স্বপ্নদশা।

ডরিমো নামের যন্ত্রটির সাহায্যে অবারিত জগৎগুলোয় অনিশ্চিত পরিভ্রমণকে নিয়ন্ত্রণ করে নিজের ইচ্ছেমতো জগতে পরিভ্রমণ করা যাবে বলে মনে করেন এমআইডি মিডিয়া ল্যাবের গবেষক অ্যাডাম হরোয়িচ। অর্থাৎ নিজের ইচ্ছেমতো স্বপ্ন দেখা যাবে।

তাহলে কী বাস্তব জীবনের বেদনা-বিরহের কারণে বিষণ্ন থাকলেও স্বপ্ন জগতে ডুবে থাকা যাবে ইচ্ছেমতো সুখ আর আনন্দে?

গবেষকরা দাবি করেন এই যন্ত্রটি পরীক্ষাধীন ব্যক্তিদের স্বপ্নদশাকে পুরোপুরি প্রভাবিত করতে পেরেছে। তাদের চিন্তাভাবনায় সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ ব্যবহার সম্ভব হয়েছে এই যন্ত্রটির মাধ্যমে।

যন্ত্রটির পরীক্ষায় স্বেচ্ছাসেবকরা একটা গ্লাভস পরিধান করেছেন যার মধ্য দিয়ে ব্যক্তির পেশির অবস্থা, হার্টের গতি, ত্বকের ক্লাকটেন্স সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করার সুবিধা আছে। যখন এই যন্ত্র ব্যক্তির স্বপ্নদশা নির্ণয়ের সিগন্যাল দেয় তখন যন্ত্রের মধ্য দিয়ে আস্তে আস্তে ওই ব্যক্তিকে আরেকটু সজাগ রাখার জন্য সিগন্যাল দেওয়া হয়। সঙ্গে একটা অডিও বার্তাও প্লে করা হয়। এই অডিও বার্তাটি ব্যক্তির স্বপ্নকে প্রভাবিত করে। একই সঙ্গে এই অডিও বার্তার মাধ্যমে ব্যক্তির ইচ্ছাকে জানার চেষ্টা করা হয় এবং সে অনুযায়ী যেন স্বপ্নকে প্রভাবিত করা যায় তার সিগন্যাল দেওয়া হয়।

আইএফএল সায়েন্স সাময়িকীর এক নিবন্ধে বলা হয়েছে, ডরিমো নামের যন্ত্রটি অনেক ব্যয়বহুল। তবে এটিকে কম খরচে সকলের ব্যবহার উপযোগী করে উৎপাদনের কাজও এগিয়ে চলছে। আশা করা হচ্ছে অচিরেই যন্ত্রটি সাধারণের ব্যবহারযোগ্য এবং হাতের নাগালে চলে আসবে। মানুষ নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে তাদের স্বপ্নকে, করতে পারবে তাদের সৃজনশীলতার সর্বোচ্চ ব্যবহার।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads