• শনিবার, ১৭ নভেম্বর ২০১৮, ৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
স্বাধীন ভাসমান শহরের থাকবে নিজস্ব সরকার ও মুদ্রা

২০২২ সালেই মানুষ বাস করতে শুরু করবে সাগরে ভাসমান একটি শহরে

সংগৃহীত ছবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

স্বাধীন ভাসমান শহরের থাকবে নিজস্ব সরকার ও মুদ্রা

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২১ মে ২০১৮

মহাকাশে বসতি গড়ার প্রত্যয় নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ করছে বিভিন্ন দেশের সরকারি-বেসরকারি নানা প্রতিষ্ঠান। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আশা করছে, ২০৫০ সালের মধ্যেই মঙ্গল গ্রহে হবে মনুষ্য বসতির গোড়াপত্তন। বিজ্ঞান আর প্রযুক্তির জয়যাত্রার এই কালে সেই স্বপ্ন সফল হওয়া হয়তো সময়ের ব্যাপার মাত্র। কিন্তু মহাকাশের আগেই মহাসাগরে বসতি গড়তে শুরু করবে মানুষ। ২০২২ সালেই মানুষ বাস করতে শুরু করবে সাগরে ভাসমান একটি শহরে।

প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া সরকার ও সান ফ্রান্সিসকোর সিস্টিডিং ইনস্টিটিউট মিলে তৈরি শুরু করেছে বিশ্বের প্রথম ভাসমান শহর তৈরির কাজ। শহরটির নাম রাখা হয়েছে ‘ফ্লোটিং সিটি’। শহরটি দেখতে হবে অনেকটা তারামাছের মতো। এ ছাড়া এই শহরের চতুর্ভুজ এবং পঞ্চভুজবিশিষ্ট একাধিক গঠনও থাকবে, যেগুলো ৫০ মিটার লম্বা এবং ৫০ মিটার উঁচু।

সিস্টিডিং ইনস্টিটিউটের প্রযুক্তিবিদ ও পেপ্যালের প্রতিষ্ঠাতা পিটার থেলের নকশায় গড়ে তোলা হচ্ছে এই শহর। প্রথম শহরটিতে প্রায় ৩০০ বাড়ি তৈরি হবে ভাসমান দ্বীপে। তার আশা, ২০৫০ সালের মধ্যে প্রায় ৬৮ কোটি মানুষ থাকতে পারবে এ ধরনের ভাসমান শহরে।

গত সপ্তাহে এই শহরের একটি পাইলট প্রকল্প প্রকাশ হয়েছে। সেই প্রকল্প পরিকল্পনা অনুসারে ২০২২ সালেই তাহিতি দ্বীপের কাছের এই ভাসমান দ্বীপে মনুষ্যবসতি শুরু হবে। এই শহর সম্পূর্ণভাবে তৈরি হওয়ার পর ফ্রেঞ্চ রিপাবলিকের অধীনে থাকবে না। শহরটির জন্য তৈরি করা হবে নিজস্ব সরকারব্যবস্থা। ছোট ছোট এলাকার দায়িত্বে থাকবে একাধিক প্রশাসন।

এ ছাড়া শহরটির বাসিন্দাদের কাজের জন্য মূল ভূখণ্ডে যেতে হবে না। ভাসমান শহরেই থাকবে তাদের কর্মস্থল। নগরজীবনের প্রায় সব সুবিধাও মিলবে এই নগরে। পিটার থেলের পরিকল্পনা অনুসারে, শহরটির থাকবে একটি নিজস্ব মুদ্রাব্যবস্থাও।

২০১৭ সালে যখন এই শহরটির পরিকল্পনার কথা প্রথম প্রকাশ করা হয় তখন এর ব্যয় ধরা হয় ১৬ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। সে সময় সিস্টিডিং ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট জো কুইর্ক তার সহযোগীদের নিয়ে ব্লু ফ্রন্টিয়ার্স নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান দাঁড় করান। সে সময় তিনি এক সাক্ষাৎকারে নিউইয়র্ক টাইমসকে বলেন, ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়া অঞ্চলে তাদের পরিকল্পনা সফল হলে সাগর-মহাসাগরে তারা এমন আরো ভাসমান নগর গড়ে তুলবেন। তার মতে, ভাসমান নগরগুলো হবে আসলে একেকটি ভাসমান দেশ।

তবে নতুন করে পাইলট প্রকল্পের জন্য ব্যয় ধরা হয়েছে মাত্র পাঁচ কোটি মার্কিন ডলার। হবু এই ভাসমান শহর প্রকল্পের একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও গবেষক মেজা গার্সিয়া বলেন, ভাসমান এই শহর বিশ্বরাজনীতি ও অর্থনীতিতে একসময় বিশেষ ভূমিকা রাখবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত শরণার্থীদের জন্যও নিশ্চিত নির্ভরতার শহর হয়ে উঠবে এগুলো।

তিনি সিএনবিসিকে বলেন, ভবিষ্যতে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়লেও এ ধরনের শহরের কোনো সমস্যা হবে না।

পরিকল্পনা অনুসারে, স্থানীয় বাঁশ, নারিকেলের ছোবড়া, কাঠ ও রিসাইকেলড প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি হবে এই শহর। শহরের প্রতিটি বাড়ির ছাদে থাকবে অসংখ্য গাছপালা। এ ছাড়া বড় আকারের গ্রিনহাউজে শহরটির নাগরিকদের জন্য ফলবে খাদ্যশস্য।

সিএনবিসির খবর অনুসারে এই শহরের এমন একটি বিজনেস সেন্টার থাকবে যেখানে সরকারের নানা চাপ থেকে মুক্ত থেকেই ব্যবসা করা যাবে। আর শহরটির জন্য যে আইন প্রণয়ন হবে তা রাজনৈতিক নেতা বা সাধারণ জনগণের মধ্যে কোনো বিভেদ তৈরি করবে না।

সব মিলিয়ে এ ধরনের ভাসমান শহর একসময়ের আবাসন সঙ্কট নিরসনে ও জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads