• বুধবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১১ আশ্বিন ১৪২৫
ads
মোবাইল বিকিরণ বয়ঃসন্ধিকালে মেধা বিকাশে বাধা দেয়

মোবাইল ফোনের বিকিরণ মানুষের বুদ্ধির বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে

ছবি : ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

মোবাইল বিকিরণ বয়ঃসন্ধিকালে মেধা বিকাশে বাধা দেয়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ২৩ জুলাই ২০১৮

মোবাইল ফোনের বিকিরণ থেকে যে শরীরে নানা ধরনের জটিলতার সৃষ্টি হতে পারে তেমন সতর্কতা আরো আগেই করেছেন বিশেষজ্ঞরা। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় দুই বছর ধরে পরিচালিত এক গবেষণার পরে বলা হয়, মোবাইল ফোনের বিকিরণ থেকে কিছু বিশেষ ধরনের ক্যানসার তৈরি হওয়ার ঝুঁকি আছে। তাতে দেখা যায়, মোবাইল ফোন থেকে বিকীর্ণ রশ্মি গবেষণায় ব্যবহূত ছয় শতাংশ পুরুষ ইঁদুরদের হূদযন্ত্রে শোয়ানোমা ক্যানসার সৃষ্টি করেছে। সেই গবেষণাটি করা হয় ইঁদুরদের ওপরে।

কিন্তু এবার মানুষের ওপর মোবাইল ফোনের বিকিরণের প্রভাব নতুন এক গবেষণার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। সুইজারল্যান্ডের গবেষকদের ওই গবেষণায় দেখা গেছে, মোবাইল ফোনের বিকিরণ মানুষের বুদ্ধির বিকাশের ক্ষেত্রে ব্যাপক প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। বয়ঃসন্ধিকাল অতিক্রম করছেন এমন ৭০০ মোবাইল ব্যবহারকারী কিশোর-কিশোরীদের ওপর পরীক্ষা করে দেখা গেছে, তারা বেশিরভাগই নেগেটিভ মনোভাবাপন্ন। বুদ্ধির বিকাশের দিক থেকেও সাধারণ মানুষের তুলনায় কম হচ্ছে। কারণ মোবাইল ফোনের বিকিরণ তাদের মস্তিষ্কের একটা নির্দিষ্ট অঞ্চলকে প্রভাবিত করেছে।

সুইজারল্যান্ডের ট্রপিক্যাল অ্যান্ড পাবলিক হেলথ ইনস্টিটিউটের (সুইস টিপিএইচ) তত্ত্বাবধানে করা এই গবেষণাপত্রটি আজ ২৩ জুলাই এরভায়রনমেন্ট হেলথ পারসপেক্টিভ সাময়িকীতে প্রকাশিত হবে।

সুইস টিপিএইচের গবেষকরা মূলত তারবিহীন যোগাযোগ ডিভাইস থেকে বিকিরিত রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি থেকে শুরু করে ইলেট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সি কীভাবে বয়ঃসন্ধিকালের কিশোর-কিশোরীদের মেধার বিকাশকে প্রভাবিত করে সেই বিষয়ে কাজ করেন। ২০১৫ সালে শুরু হয় এই গবেষণাটি। সেই সময়ে গবেষকরা প্রাথমিকভাবে বয়ঃসন্ধিকালের প্রায় ১৪০০ কিশোর-কিশোরীর ওপর তারবিহীন যোগাযোগ ডিভাইস থেকে বিকিরিত ফ্রিকোয়েন্সির প্রভাব ক্ষতিয়ে দেখতে কাজ শুরু করেন। তবে পরবর্তী নমুনা কিশোর-কিশোরীর সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনা হয়।

নতুন এই গবেষণার বিষয়ে সুইস টিপিএইচের পরিবেশ বিভাগের প্রধান মার্টিন রোসলি বলেন, গবেষণাটি সম্ভবত আমাদের মগজে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি থেকে শুরু করে ইলেট্রোম্যাগনেটিক ফ্রিকোয়েন্সির প্রভাবের বিষয়ে সবচেয়ে ভালো তথ্য আপনাদের সামনে হাজির করতে যাচ্ছে।

তবে মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস পাঠালে, গেম খেললে ইন্টারনেট ব্রাউজ করলে যে বিকিরণ হয় তাতে মেধার বিকাশে কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে এমন কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। তার মানে মোবাইল ফোনটির মাধ্যমে যখন কথা বলা হচ্ছে তখনই এটি বেশি বিকিরণ করছে। আর কানের কাছে ধরে রেখে কথা বলার কারণে বিকিরণের প্রভাব সহজেই মস্তিষ্কের ওপর পড়ছে।

মার্টিন রোসলি জানান, ব্যবহারকারীদের অনেকের তথ্য মোবাইল ফোন অপারেটরদের কাজ থেকেই সংগ্রহ করা হয়েছে। যেসব ব্যবহারকারীর তথ্য সংগ্রহ করা হয় তাদের সবারই বয়স ১২ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। তারা সবাই সুইজারল্যান্ডের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৭ম থেকে ৯ম গ্রেডের শিক্ষার্থী।

তবে নমুনা হিসেবে যাদের নেওয়া হয়েছে তাদের ক্ষেত্রে এই প্রভাব লক্ষ করা গেলেও স্থায়ীভাবে সেটা থাকে কি না বা কত মাত্রার বিকিরণ হলে কিশোর-কিশোরীদের মস্তিষ্কের বিকাশে বাধা দেয় তা জানতে বৈজ্ঞানিক গবেষণা দরকার আছে বলে মনে করেন মার্টিন রোসলি।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads