• মঙ্গলবার, ২০ নভেম্বর ২০১৮, ৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
গাছেদেরও আছে সামাজিক যোগাযোগের উপায়

উদ্ভিদের যোগাযোগের বহুল পরিচিত একটি মাধ্যম হচ্ছে রাসায়নিক

ছবি : ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

গাছেদেরও আছে সামাজিক যোগাযোগের উপায়

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১৭ আগস্ট ২০১৮

সামাজিক যোগাযোগ মাধমে ঢু মারা হাল আমলের বেশিরভাগ মানুষের জীবনে প্রতিদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। জীবনের নানান ঘটনা, গল্প, ছবি, অভিজ্ঞতার কথা বন্ধু ও আপনজনের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে না পারলে মনটা সারাক্ষণ উসখুস করে কারো কারো। কিন্তু মানুষ ছাড়া অন্য প্রাণীদের কি এমনটা হয়? হ্যাঁ হয়। দলবদ্ধভাবে যারা বাস করে তাদের মধ্যে তথ্যের আদান-প্রদান হয়। শুরু প্রাণিজগতের সদস্যরাই নয়, সামাজিক যোগাযোগ করে গাছেরাও!

অবাক শোনালেও সত্যি হচ্ছে, উদ্ভিদেরও আছে সামাজিক জীবন। তারাও একে অপরের সঙ্গে তথ্যের আদান-প্রদান করে।

গবেষকরা বলছেন, উদ্ভিদের যোগাযোগের বহুল পরিচিত একটি মাধ্যম হচ্ছে রাসায়নিক। যেমন, গাছের কোনো এক শাখায় যদি ক্ষতিকর কীট আক্রমণ করে তবে সেই শাখার মাধ্যমে উদ্ভিদ কিছু উদ্বায়ী রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে যা অন্য উদ্ভিদের জন্য সতর্কবার্তারূপে ব্যবহূত হয় এবং অন্য উদ্ভিদগুলো এর মাধ্যমে তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরো দৃঢ় করে তোলে। তবে আক্রান্ত উদ্ভিদ এই রাসায়নিক নিঃসরণ করে তার নিজের অন্য শাখা প্রশাখার জন্য।

এ ছাড়া সম্প্রতি এক গবেষণায় দেখা গেছে, উদ্ভিদের পারস্পরিক যোগাযোগে ছত্রাক একটি অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে। ছত্রাক খাদ্য তৈরি করতে পারে না এবং উদ্ভিদ বা প্রাণীর পরজীবী হিসেবে বাস করে। কিছু ছত্রাক বিভিন্ন গাছপালার সঙ্গে একটি মিথজীবী সম্পর্কে আবদ্ধ হয়। সেখানে তারা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে তৈরি শর্করা জাতীয় উপাদান উদ্ভিদ দেহ থেকে আহরণ করে এবং বিনিময়ে নাইট্রোজেন, ফসফরাস জাতীয় উপাদান বিভিন্ন এনজাইমের মাধ্যমে উদ্ভিদ দেহে সরবরাহ করে থাকে। কিন্তু যোগাযোগের মাধ্যম হয়ে ওঠে কেমন করে?

অধিকাংশ ছত্রাক বহুকোষী এবং এদের দেহ সূত্রাকার, শাখান্বিত এবং আণুবীক্ষণিক। ছত্রাকের এই সূত্রাকার শাখা প্রশাখা (হাইফি) মাটি ভেদ করে বিভিন্ন গাছের মূল বা মূলরোমের চারদিকে বা ভেতরে জালের মতো বেষ্টন করে রাখে। ছত্রাক ও মূলের এই ধরনের অ্যাসোসিয়েশনকে মাইকোরাইজা বলে। এভাবে মাটির নিচে হাইফি নেটওয়ার্ক দ্বারা গাছগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকে।

এই আশ্চর্য নেটওয়ার্কের মাধ্যমে উদ্ভিদ একে অপরের মধ্যে শর্করা, নাইট্রোজেন, ফসফরাস ইত্যাদি উপাদান আদান-প্রদান করে। মৃতপ্রায় উদ্ভিদেরা তাদের শরীরের এই উপাদান এই নেটওয়ার্কে প্রদান করতে পারে যেন সেই পরিপোষক পদার্থ তার প্রতিবেশী গাছ ব্যবহার করতে পারে। একইভাবে নতুন বীজ তার পারিপার্শ্বিক উদ্ভিদগুলো থেকে বেড়ে ওঠার জন্য সহায়তা পেয়ে থাকে। শুধু তাই নয়, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গের আক্রমণের ফলে তারা এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে অন্য উদ্ভিদকে সতর্ক করে দেয়। এভাবে তারা অন্যান্য জীবের মতো ‘সারভাইভাল অব ফিটেস্ট’ পদ্ধতি না অনুসরণ করে সবাইকে বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেয়। তবে এই নেটওয়ার্কের কিছু ক্ষতিকর দিকও আছে। যেমন, অরকিডের কিছু প্রজাতি এই নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে অন্যান্য গাছপালা থেকে উপাদান জোরপূর্বক শুষে নিতে পারে।

উদ্ভিদের এই নেটওয়ার্ককে উড ওয়াইড ওয়েব (Wood-Wide Web) নেটওয়ার্কের নামে অভিহিত করেছেন গবেষকরা। তাদের দাবি, ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব (World-Wide Web)-এর মাধ্যমে মানুষ যেমন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে তেমনি উড ওয়াইড ওয়েব ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগ করে গাছেরা।

-সায়েন্স ডেইলি অবলম্বনে তপু রায়হান

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads