• বুধবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার সংশোধন চায় প্রযুক্তি সংগঠনগুলো

বিদেশি বিনিয়োগকারীকে শতভাগ ইক্যুইটি দেওয়া হলে ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন কঠিন হবে

সংগৃহীত ছবি

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

ডিজিটাল কমার্স নীতিমালার সংশোধন চায় প্রযুক্তি সংগঠনগুলো

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২০ আগস্ট ২০১৮

মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ২০১৮’ কয়েকটি সংশোধিত পরিবর্তন প্রস্তাব স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি সাংঘর্ষিক বলে উল্লেখ করেন বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির (বিসিএস) সভাপতি সুব্রত সরকার। শনিবার বিসিএস ইনোভেশন সেন্টারে ‘জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা ২০১৮’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

সুব্রত সরকার বলেন, ডিজিটাল নীতিমালার ৩.৬.৭ অনুচ্ছেদ এবং নীতিমালার প্রণীত ৭ নম্বর কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী এককভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ রহিত করা ছিল এবং দেশি ও বিদেশি কোম্পানির ইক্যুইটির হার ৫১:৪৯ ছিল। উপযুক্ত শর্তে মন্ত্রিপরিষদ কর্তৃক নীতিমালা অনুমোদিত হয়। কিন্তু ১ আগস্ট তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে প্রেরিত একটি পত্রে বিদেশি বিনিয়োগকারীদেরকে ১০০ শতাংশ ইক্যুইটির সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে ৭ নম্বর কর্মপরিকল্পনা এবং ৩.৬.৭ নম্বর অনুচ্ছেদ সংশোধনের জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে। যদি বিদেশি বিনিয়োগকারীকে শতভাগ ইক্যুইটি দেওয়া হয়, তাহলে ‘মেক ইন বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন কঠিন হবে।

স্থানীয় ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ১০০ শতাংশ ইক্যুইটি প্রসঙ্গে বিসিএস সভাপতি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা শতভাগ ইক্যুইটি পেলে মূলত দেশে ব্যবসার কোনো উন্নতি হবে না। কারণ, এই নীতি অনুসারে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা এখানে কোনো শিল্পকারখানা বা উৎপাদন কেন্দ্র খুলবেন না। তারা শুধু বিদেশি প্রোডাক্টগুলো তাদের মনমতো মূল্যে বিক্রি করে দেশের বৈদেশিক মুদ্রাগুলো নিজেদের কুক্ষিগত করবেন। এতে দেশি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) মহাসচিব মোহাম্মদ আবদুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, দেশি ব্যবসায়ীদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতিমালা হতে হবে। পাশের দেশ ভারতের দিকে তাকালে আমরা দেখতে পাই, বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ই-কমার্সে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে দেশি প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে দেশি নীতিমালা পরিপূর্ণভাবে মেনে দেশে ব্যবসা করতে হবে। কোনোমতেই এককভাবে বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যবসা করার সুযোগ নেই। ডিটিওর সদস্য সংগঠনের রীতিনীতি মেনেই বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যবসা করতে চাইলে শর্ত সাপেক্ষে অনুমতি পেতে পারে।

বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এদেশে শিল্পকারখানা, উৎপাদন কেন্দ্র থেকে শুরু করে ব্যবসার প্রয়োজনে যেকোনো উদ্যোগ নিতে পারে। তবে সেটা অবশ্যই বিনিয়োগকারী হিসেবে দেশের ব্যবসায় অবদান রাখার জন্য হতে হবে। শুধুমাত্র প্রযুক্তিপণ্য বিক্রি করে এদেশ থেকে অর্থ উপার্জন করে বিদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনের নেতারা আপত্তি করেন। শিগগিরই বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে বিস্তারিত সুবিধা-অসুবিধা বর্ণনা করে চিঠি দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।

সভায় বিসিএস পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) ডিজিটাল কমার্স স্ট্যান্ডিং কমিটির কো-চেয়ারম্যান আশিকুল আলম খান, বাংলাদেশ অ্যাসোসিশেন অব কল সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিংয়ের (বাক্য) প্রজেক্ট অ্যাসোসিয়েট মো. সেলিম সরকার, গ্লোবাল ব্র্যান্ডের চেয়ারম্যান আবদুল ফাত্তাহ, রায়ান কম্পিউটারের স্বত্বাধিকারী আহমেদ হাসান, স্টারটেকের মো. রাশেদুল আলি ভুঁইয়া, স্মার্ট টেকের মুজাহিদ আল বেরুনী সুজন, টেকনো প্লানেটের মো. মনজুরুল হাসানসহ অন্যান্য তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, তথ্যপ্রযুক্তি সংগঠনের নেতারা ও সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads