• বুধবার, ১৪ নভেম্বর ২০১৮, ৩০ কার্তিক ১৪২৫
ads
থ্রিডি প্রিন্টারে বায়োনিক চোখ!

এই উদ্ভাবন থ্রিডি প্রিন্টারে বায়োনিক চোখ তৈরির যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি

ছবি : ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

থ্রিডি প্রিন্টারে বায়োনিক চোখ!

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ৩১ আগস্ট ২০১৮

মানবদেহের ক্ষতিগ্রস্ত কোনো অঙ্গের প্রতিস্থাপনের ঘটনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন কিছু নয়। হাত-পা থেকে শুরু করে কিডনি বা হূৎপিণ্ড প্রতিস্থাপনের ঘটনাও এখন হরহামেশাই ঘটছে। আরেকজনের দান করা চোখের মাধ্যমে দৃষ্টিহীনরা ফিরে পাচ্ছেন হারানো দৃষ্টি। তবে বছর দুই আগে গবেষকরা দৃষ্টিহীনদের চোখের আলো ফেরাতে এমন এক ধরনের কৃত্রিম চোখ তৈরিতে সক্ষম হন যা আসল চোখের কাছাকাছি দর্শন ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া লস অ্যাঞ্জেলেসের গবেষকদের উদ্ভাবিত ওই চোখ বিভিন্ন রোগের কারণে যাদের রেটিনার অলোকসংবেদী কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের দৃষ্টি ফেরাতে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। তবে একই দেশের মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক দল গবেষক সম্প্রতি বায়োনিক চোখের ক্ষেত্রে নতুন এক বিপ্লবের সূচনা করেছেন। সম্প্রতি তারা থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে অক্ষিগোলকের আলোকসংবেদী কোষের প্রতিরূপ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। গবেষকদের দাবি, এই উদ্ভাবন থ্রিডি প্রিন্টারে বায়োনিক চোখ তৈরির যাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তাদের আশা, অচিরেই এই প্রক্রিয়ায় বায়োনিক চোখ তৈরি সম্ভব হবে আর কম খরচেই দৃষ্টিশক্তি ফিরে পাবেন স্থায়ী অন্ধত্বের শিকার বা দুর্ঘটনায় দৃষ্টিহীন হওয়া অসংখ্য মানুষ।

গত মঙ্গলবার ডেইলি সায়েন্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে এই তথ্য। বিজ্ঞান বিষয়ক সাময়িকী অ্যাডভান্সড ম্যাটেরিয়ালসের বরাতে বলা হয়েছে, গবেষকরা ইতোমধ্যে নতুন এই ডিভাইসের স্বত্বও নিয়ে নিয়েছেন।

নতুন এই উদ্ভাবনী গবেষণার একজন গবেষক মাইকেল ম্যাক অ্যালপিন বলেন, কিছু দিন আগে গবেষকরা বায়োনিক চোখ উদ্ভাবন করলেও অনেকের কাছে তা বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনীর মতো মনে হতো। তবে আমরা এমন এক উপায় খুঁজে পেয়েছি যার মাধ্যমে থ্রিডি প্রিন্টারেই তৈরি করা যাবে মানুষের সবচেয়ে অপরিহার্য অঙ্গটি।

মিনেসোটা বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রপ্রকৌশল বিভাগের এই অধ্যাপক দাবি করেন, তাদের উদ্ভাবিত সেমিকন্ডাক্টরটির এখনই ২৫ শতাংশ দৃষ্টিক্ষমতা ফেরাতে সক্ষম। তবে দৃষ্টিহীনদের চোখে তা বসাতে আরো অনেক গবেষণা ও আনুষঙ্গিক আরো কিছু ডিভাইসের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।

তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়ায় মূলত অক্ষিগোলকের উপরিতলের আলোকসংবেদী অংশের অর্ধবৃত্তাকারের প্রতিরূপ তৈরি করা হবে। তাতে এমন একটি পলিমার ম্যাটেরিয়াল ব্যবহার করা হবে যার মধ্য দিয়ে সহজেই আলো চলাচল করতে পারে।

ম্যাক অ্যালপিনদের এই নতুন আবিষ্কারের পেছনে আছে ভিন্ন এক গল্প। তাই তো চোখের চিকিৎসক না হয়েও একজন যন্ত্রপ্রকৌশলী কৃত্রিম চোখ তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছেন। সায়েন্স ডেইলির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ম্যাক অ্যালপিনের মা একজন দৃষ্টিশক্তি হারানো মানুষ। তিনি মাঝে মধ্যেই ছেলেকে বলতেন, তার চোখে দৃষ্টি ফেরাতে পারে এমন কোনো যন্ত্র তৈরি কি একেবারেই অসম্ভব? মায়ের এই পরোক্ষ চাওয়া ম্যাক অ্যালপিনকে নাড়া দিয়েছিল। তিনি চাইলেই অনেক পয়সা খরচ করে মায়ের চোখ প্রতিস্থাপন করতে পারতেন। কিন্তু তিনি শুধু নিজের মায়ের কথা ভাবেননি। পৃথিবীর লাখো দৃষ্টিহীনকে কম খরচে দৃষ্টি ফিরিয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে কাজ শুরু করেন ম্যাক অ্যালপিন। সেই প্রত্যয়ের প্রথমধাপে দারুণ সফলতা পেয়েছেন এই যন্ত্রপ্রকৌশলী। হয়তো শিগগিরই তার স্বপ্ন পূরণের মধ্য দিয়ে দৃষ্টি হারানোরা কম খরচেই ফিরে পাবেন অপরূপ সুন্দর পৃথিবীকে নতুন করে দেখার সুযোগ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads