• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
ওষুধ ছাড়াই ভালো হয় যে রোগ

এর কারণে মুডে খুব ঘন ঘন পরিবর্তন আসে

ছবি : ইন্টারনেট

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি

বাইপোলার ডিজঅর্ডার

ওষুধ ছাড়াই ভালো হয় যে রোগ

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক
  • প্রকাশিত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মস্তিষ্কের এক ধরনের অস্বাভাবিক অবস্থার কারণে আমাদের মুডে খুব ঘন ঘন পরিবর্তন আসে। তখন কাজ করার স্পৃহা, কর্মক্ষমতা এবং নিত্যদিনের স্বাভাবিক কাজগুলো করা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার সেই মানসিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তনও ঘটে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলে বাইপোলার ডিজঅর্ডার বা ম্যানিক-ডিপ্রেসিভ ইলনেস। এটা মূলত এক ধরনের ব্রেন ডিজঅর্ডার। মোটামুটিভাবে চার ভাগে ভাগ করা যায় এই বাইপোলার ডিজঅর্ডারকে।

লক্ষণ

হতাশাগ্রস্ততার মতোই বাইপোলার ডিজঅর্ডারের কিছু নীরব কারণ থাকে। তবে হতাশাগ্রস্ত মানুষ আর বাইপোলার ডিজঅর্ডারের পার্থক্য হচ্ছে, বাইপোলার ডিজঅর্ডারে একটা ছন্দ থাকে, দুটো পর্যায়ের মধ্যে ম্যানিক আর ডিপ্রেসিভ অ্যাপিসোডের পালাবদল ঘটে। অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট একজন বাইপোলার ডিজঅর্ডারের রোগীকে হুট করেই ম্যানিয়াতে নিয়ে যেতে পারে। এই অবস্থা হলে ঘুমের বেশ একটা তারতম্য হয়। এছাড়া পর্যায়ক্রমিকভাবে মুড অন-অফ হওয়াটা বাইপোলার ডিজঅর্ডারের অন্যতম লক্ষণ। এ অবস্থায় থাকাকালে মানুষ খুব তাড়াতাড়ি একটা কাজ থেকে আরেকটা কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে ফেলেন, তবে তিনি কোনো কাজই শেষ করতে পারেন না। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে ভুগতে থাকলে কেউ কেউ অসংলগ্ন কিছু আচরণ করে ফেলেন। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত ব্যক্তিরা নিজের সম্পর্কে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি আত্মবিশ্বাসী হয়ে থাকেন, কিন্তু তাদের সিদ্ধান্তগুলো উপযুক্ত বা ফলপ্রসূ হয় না। এরা কাজ করেন বা সিদ্ধান্ত নেন পরিণাম বা ফলাফল না ভেবে। বাইপোলার ডিজঅর্ডারে যারা ভুগে থাকেন তাদের স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি আগ্রহ থাকে মদ পানের প্রতি বা মাদকের প্রতি। যখন তারা খুব উত্তেজিত থাকেন অর্থাৎ ম্যানিক দশায় থাকেন, তখন তারা মদ পান করে থাকেন শান্ত হওয়ার জন্য।

কেন হয় বাইপোলার ডিজঅর্ডার?

এখনো বিজ্ঞানীরা সুনির্দিষ্ট করে বলতে পারেননি কেন বাইপোলার ডিজঅর্ডার হয়। তবে দেখা গেছে, এই সমস্যায় আক্রান্তদের মস্তিষ্কের গঠন এবং কাজ করার পদ্ধতি অনেকটা আলাদা। সেটা তা জন্মগতও হতে পারে। কিছু নির্দিষ্ট জিন বহনকারী মানুষের মধ্যে বাইপোলার ডিজঅর্ডার হওয়ার হারটা বেশি দেখা গেছে। বংশ পরম্পরায় এই রোগ বহন করার ঘটনা বেশ দেখা গেছে। যাদের কোনো ধরনের পারিবারিক ইতিহাস নেই বাইপোলার ডিজঅর্ডার থাকার, তাদের তুলনায় যাদের মা-বাবা অথবা ভাইবোনের এই অসুখটি আছে তাদের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তবে অবশ্যই এ কথা বলা যাবে না যে, জিনই একমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ বিষয়।

চিকিৎসা

চিকিৎসা বা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিলে খুব তীব্র পর্যায়ের বাইপোলার ডিজঅর্ডারও ভালো হয়। মূলত এই অসুখটা জীবনব্যাপী ভোগায়। তবে সবচেয়ে ইতিবাচক সমাধান হলো একই সঙ্গে মেডিকেশন ও সাইকোথেরাপি নিলে এই অবস্থা থেকে মুক্তি মেলে। তবে মুডের হুটহাট পরিবর্তনের সমস্যা এটা কারো কারো জীবনে একদম স্বাভাবিক হয়ে আসে, আবার কখনো কখনো দীর্ঘ সময় পরে হলেও ফিরে আসে। সেজন্য সামগ্রিকভাবে অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সম্পর্ক, নিজস্ব ব্যবহারের একটা ধারাবাহিক পরিবর্তন, সামাজিক জীবনে চলাফেরা এবং এরই মাধ্যমে একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবন চলার ওপর দৃষ্টি দিলেই এই অবস্থা থেকে ভালো থাকা যায়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads