• সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯, ৫ কার্তিক ১৪২৬
ads

আমের দাম কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন রাজশাহীর আম ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকেরা

ছবি সংগৃহীত

বাণিজ্য

লোকসানের শঙ্কায় রাজশাহীর ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকরা

  • বিজয় ঘোষ, রাজশাহী
  • প্রকাশিত ০৬ জুলাই ২০১৮

রাজশাহী অঞ্চলে এবার আমের দাম কম হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ী ও বাগান মালিকেরা। বাগান মালিকদের মাথায় হাত পড়েছে। রোজার মাসে প্রচণ্ড তাপদাহ ছিল রাজশাহীতে। সেই সঙ্গে ঈদের ব্যস্ততায় ছিলেন বাগান মালিক, ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা। এতে করে গাছের আম গাছেই পেকে যায়। তাই গত বছরের তুলনাই অনেক কম দামে আম বিক্রি করতে হচ্ছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার আমের বাজারে গিয়ে জানা গেছে, প্রতি মণ ল্যাংড়া দুই হাজার চারশত থেকে দুই হাজার পাঁচশত টাকায়, আম্রপালি এক হাজার পাঁচশত থেকে এক হাজার আটশত টাকায়, লোকনা ৬০০ থেকে ৮০০ টাকায়, ফজলি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়, আশ্বিনা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাকা আম ৮ টাকা থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে, যা গত বছর বিক্রি হয়েছে প্রতি মণ ল্যাংড়া দুই হাজার আটশত থেকে তিন হাজার টাকায়, আম্রপালি দুই হাজার আটশত থেকে তিন হাজার টাকায়, লোকনা এক হাজার দুইশত থেকে এক হাজার পাঁচশত টাকায়, ফজলি এক হাজার পাঁচশত থেকে এক হাজার আটশত টাকায়, আশ্বিনা ৮০০ থেকে ৯০০ টাকায়।

জানা গেছে, প্রশাসনের বেঁধে দেওয়া সময়ে রাজশাহী অঞ্চলের আম পাকেনি। কারণ আম পাকার জন্য যে তাপমাত্রা প্রয়োজন, ২০ মে থেকে ১০ জুন রাজশাহীতে তা ছিল না। ফলে কমসংখ্যক বাগান মালিকই ওই সময় গাছ থেকে আম নামাতে পেরেছেন। ১০ জুনের পর থেকে রাজশাহী অঞ্চলে শুরু হয় তাপপ্রবাহ। এক সপ্তাহ ধরে ৩৫-৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত ওঠানামা করে তাপমাত্রা। প্রচণ্ড গরম পড়ায় গাছে আম পাকতে শুরু করে। এদিকে ঈদের কারণে ১৪ জুন থেকে বন্ধ হয়ে যায় কুরিয়ার সার্ভিসগুলোর কার্যক্রম। ঈদের পর ১৮ থেকে ২০ জুন এ সার্ভিস আবার চালু হয়। ঈদের ছুটিতে কুরিয়ার সার্ভিস বন্ধ থাকায় বাগান মালিকরা স্থানীয় মোকামগুলোয় আম বিক্রি করতে পারেননি। ফলে আমের দাম কমতে থাকে। প্রচণ্ড গরমে গাছে আম পাকলেও কম দামের কারণে তা নামাতে পারেননি বাগান মালিকরা ।

রাজশাহীর পুঠিয়ার বানেশ্বর বাজারে আমের সবচেয়ে বড় বাজার। গতকাল বৃহস্পতিবার বাজারে আম নিয়ে আসা চারঘাটের ফিরোজ হোসেন বলেন, বর্তমানে আমের যা দাম তা দিয়ে খরচ উঠানো সম্ভব না। আমের ফলন ভালো হওয়ায় পানির দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আবার বাড়িতে অনেক পাকা আম পড়ে রয়েছে। সেগুলো ৮ টাকা থেকে ১৫ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছি। এরপরও ক্রেতার অভাব। আম পেকে পচে যাচ্ছে।

বানেশ্বরের সুমন আলী বলেন, কীটনাশক, শ্রমিক খরচ, গাড়ি ভাড়া ইত্যাদি খরচ মিলে আমের দাম পাচ্ছি না। এত কম দামে আম বিক্রি করতে হবে। সারা বছর খরচ করে যদি কম দাম পাই তাহলে কীভাবে আম ফলন করব? আমরা আমের ন্যায্যমূল্য চাই।

দুর্গাপরের আক্কাস আলী  বলেন, চলতি মৌসুমে আমার প্রায় ১৫ বিঘা জমিতে গোপালভোগ, ল্যাংড়া, হিমসাগর, ক্ষিরসাপাত, ফজলি, আম্রপালি এবং ফজলি জাতের আম রয়েছে। এ পরিমাণ জমিতে কীটনাশক, শ্রমিক এবং অন্য আনুষঙ্গিক ব্যয় হয়েছে প্রচুর টাকা। কিন্তু চলতি মৌসুমে আমের যে দাম, তাতে উৎপাদন ব্যয় উঠবে কি না সন্দেহ।

রাজশাহীর সাহেব বাজারের জসি এন্টারপ্রাইজের মালিক আম ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ বলেন, হাট থেকে বাছাই করা আমগুলো আমরা বিক্রি করে থাকি। তবে গত বছরের তুলনায় এবার আমের দাম কম।

এ ব্যাপারে রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক দেব দুলাল ঢালী বলেন, এবার আমের ফলন ভালো। আম যখন বাজারে  উঠতে শুরু করল তখন রোজা শুরু হলো। এরপর ঈদের সময় তাপমাত্রা বাড়ায় সব ধরনের আম পেকে যেতে শুরু করল। কাঁচা থাকতে আমের দাম বেশি পাওয়া যায় কিন্তু পেকে গেলে সেটা কম দামে বিক্রি করতে হয়। আর না হলে নষ্ট হয়ে যায়। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন স্থানের পাইকাররা কম আম নিচ্ছেন এবার। কারণ রাজশাহী ছাড়াও নওগাঁর পোরশা, সাপাহার, চট্টগ্রাম এবং সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন স্থানে আমের ফলন হচ্ছে। তবে প্রচণ্ড গরমে দ্রুত আম পেকে যাওয়ায় কিছুটা সমস্যা হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েন বাগান মালিকরা ।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads