• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
এলএনজি যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

এলএনজি যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

সংগৃহীত ছবি

বাণিজ্য

এলএনজি যুগে প্রবেশ করল বাংলাদেশ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৯ আগস্ট ২০১৮

আনুষ্ঠানিকভাবে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের কাজ শুরু হয়েছে। গতকাল শনিবার দুপুর ২টা ৪০ মিনিট থেকে শুরু হয় গ্যাস সরবরাহ। আপাতত শুধু চট্টগ্রামে এই গ্যাস সরবরাহ করা হবে। পাইপলাইনের কাজসহ সব ধরনের নিরাপত্তা প্রস্তুতি শেষ হলে জাতীয় গ্রিডেও সরবরাহ শুরু হবে এলএনজি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী খায়েজ আহম্মদ মজুমদার বলেন, ‘গত সপ্তাহের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে পাইপলাইনে এলএনজি সরবরাহ শুরু করা হয়। আজ (গতকাল) দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের রিং মেইন পাইপ লাইনে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়।’ তিনি জানান, প্রতিদিন আপাতত ৭৫ মিলিয়ন ঘনফুট করে এলএনজি সরবরাহ করা হবে। প্রথম সপ্তাহের পর ধীরে ধীরে সরবরাহ বাড়ানো হবে।

গত ২৪ এপ্রিল এলএনজির ভাসমান টার্মিনালটি কাতার থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসে এক্সিলারেট এনার্জি। এর পর ১০ মে প্রথম দফায় এলএনজি সরবরাহের তারিখ ঠিক করা হলেও নানা কারণে তা সম্ভব হয়নি। এর পর আরো কয়েকটি তারিখ ঠিক হলেও সরবরাহ শুরু করতে পারেনি এক্সিলারেট এনার্জি। কারণ হিসেবে তারা সাব সি পাইপলাইন (সাগরের ২০ মিটার নিচে স্থাপিত পাইপলাইন) মেরামতের কথা জানিয়েছে। সাগর উত্তাল থাকায় পাইপলাইন মেরামত করা যাচ্ছিল না বলে এই দেরি হচ্ছে দাবি করে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাকৃতিক গ্যাস সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় গ্যাসীয় অবস্থায় থাকে। শীতলীকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে তাপমাত্রা কমিয়ে মাইনাস ১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনলে সেই গ্যাস তরলে পরিণত হয়। এই তরল প্রাকৃতিক গ্যাসকেই সংক্ষেপে এলএনজি (লিকুইড ন্যাচারাল গ্যাস) বলা হয়। একটি জাহাজে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার মিলিয়ন বা ২০০ থেকে ২৫০ কোটি ঘনফুট এলএনজি আনা সম্ভব। এই তরল গ্যাস আবার স্বাভাবিক গ্যাসে পরিণত করতে এলএনজি টার্মিনালের সঙ্গে রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট স্থাপন করেছে এক্সিলারেট। এই রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিটের মাধ্যমেই আবার তরল গ্যাস স্বাভাবিক গ্যাসে পরিণত করে তা পাইপলাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে।

তবে আপাতত এলএনজি জাতীয় গ্যাস গ্রিডে সরবরাহ করা যাচ্ছে না। জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে হলে চট্টগ্রামের আনোয়ারা থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত পাইপলাইন নির্মাণ করতে হবে। পাইপলাইনের মধ্যে কর্ণফুলী নদী রয়েছে। নদী অতিক্রম করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে এলএনজি সরবরাহ দেরি হবে।

জিটিসিএল জানায়, চট্টগ্রামের রিং মেইন পাইপলাইনের মাধ্যমে আপাতত এই গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এই পাইপলাইনের ধারণক্ষমতা সর্বোচ্চ ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস। এর চেয়ে বেশি গ্যাস সরবরাহ করা এই পাইপলাইন দিয়ে সম্ভব হবে না। তবে সঙ্কট কাটাতে আনোয়ারা থেকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং সিইউএফএল ও কাফকো সার কারখানার জন্য সরাসরি পাইপলাইন নির্মাণ করা হচ্ছে।

চুক্তি অনুযায়ী, কাতারের রাসগ্যাস এলএনজি সরবরাহ করবে। প্রতিদিন ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট করে এলএনজি সংগ্রহ করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে জ্বালানি বিভাগ। এক্সিলারেট ছাড়াও আগামী বছরের শুরুতে সামিট গ্রুপের এলএনজি টার্মিনালটি আসার কথা রয়েছে। সরকার কাতার ছাড়াও ওমানের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ চুক্তি করেছে। এর বাইরে আরো ২৬টি কোম্পানির কাছ থেকে স্পট মার্কেটিং ভিত্তিতে এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads