• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

বিদেশ

ইরান পরমাণু চুক্তি প্রত্যাহার

একঘরে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

  • ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশিত ১০ মে ২০১৮

ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তি থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে করা ঐতিহাসিক চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেওয়ায় আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে যুক্তরাষ্ট্র। এই প্রত্যাহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার পশ্চিমা মিত্রদের কূটনীতিক দ্বন্দ্ব শুরু হতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির আরো অবনতি ও পিয়ংইয়ংয়ের সঙ্গে ওয়াশিংটনের পরমাণু চুক্তির বিষয়টিও হুমকির মুখে পড়তে পারে।

কংগ্রেসে রিপাবলিকান সিনেটররা ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন দিয়েছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা বলছেন, প্রেসিডেন্টের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রকে তার মিত্রদের থেকে একঘরে করবে। ডেমোক্র্যাট সিনেটর চাক শুমার সাংবাদিকদের মঙ্গলবার ক্যাপিটল হিলে বলেন, ‘আমাদের উচিত চুক্তির প্রতি সম্মান জানানো। দ্বিপক্ষীয় অবরোধ খুব একটা কাজে আসে না এবং আমি নিশ্চিত না আমাদের মিত্ররা এখন কী করবেন।’

উইলসন সেন্টারের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশ্লেষক অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, বাস্তবতা হলো বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির আওতায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। চুক্তিটি এখনো কার্যকরী এবং কোনো বিকল্প চিন্তা না করেই চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আবারো যুক্তরাষ্ট্র গোটা বিশ্বকে জেসিপিওএ পূর্ব সময়ের অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

পরমাণু বিস্তারবিরোধী বিশেষজ্ঞরা ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্ত পরবর্তীতে দুটি সম্ভাব্য দৃশ্যপটের কথা বলছেন। তাদের মতে প্রথমত ইউরোপ, চীন এবং রাশিয়া ইরানের সঙ্গে চুক্তি টিকিয়ে রাখতে কাজ করতে পারে। এক্ষেত্রে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অবরোধ জারিকে ইউরোপ কীভাবে মোকাবেলা করে তা দেখার বিষয়। আর বিকল্প হিসেবে ইরানের নেতৃত্ব চুক্তি থেকে বের হয়ে আবারো পরমাণু প্রকল্প চালু করতে পারে। কারণ ইতোমধ্যেই ইরানের প্রেসিডেন্ট দেশের পরমাণু কর্মকর্তাদের প্রস্তুত থাকতে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রতিক্রিয়ায় ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি বলেন, ‘আমি ইউরোপীয় দেশগুলো, চীন এবং রাশিয়ার সঙ্গে মধ্যস্থতা করার জন্য পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছি। অন্য সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে চুক্তির লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলে চুক্তি আগের জায়গায়ই থাকবে।’ এই ঘটনায় ইরানের পার্লামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা পোড়ানো হয় এবং সংসদের স্পিকার ট্রাম্পের মানসিক অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

রাশিয়া, তুরস্ক এবং চীন ট্রাম্পের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও ইসরাইল এই সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং বাহরাইনও ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। তবে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে পরিস্থিতিকে গভীর উদ্বেগের বলে অভিহিত করা হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের জেসিপিওএ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত ফ্রান্স, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যের জন্য দুঃখজনক বলেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। এ ছাড়া ট্রাম্পের সরে দাঁড়ানোর ফলে ইরানের সঙ্গে চুক্তি শেষ হয়ে যাবে না বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্য ভেস লী দারিয়ান।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষস্থানীয় কূটনীতিক ফেড্রিকা মোঘেরিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি এই চুক্তি রক্ষার আহ্বান জানান। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এই চুক্তির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং চুক্তি বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন দেওয়া হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। টানা দুই বছরের চেষ্টার পর ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ছয় জাতির পরমাণু চুক্তি হয়। ওই চুক্তির ফলে ইরানের ওপর থেকে অবরোধ উঠিয়ে নিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো। এর বিপরীতে ইরানও তার পরমাণু প্রকল্প সীমিত করেছিল।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads