• বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
তবু স্বপ্ন দেখছেন সুমি

বাংলাদেশি স্প্রিন্টার সুমি আক্তার

সংগৃহীত ছবি

অ্যাথলেটিকস

তবু স্বপ্ন দেখছেন সুমি

  • কবিরুল ইসলাম
  • প্রকাশিত ২৮ আগস্ট ২০১৮

এশিয়ান গেমসের অ্যাথলেটিকস ইভেন্টে আবারো হিটেই বিবর্ণ হয়েছে বাংলাদেশি স্প্রিন্টার সুমি আক্তারের স্বপ্ন। ৮০০ মিটারে গতকাল ট্র্যাকে নেমেছিলেন তিনি। কিন্তু দৌড় শেষ করলেন ২ মিনিট ২৬.৫৯ সেকেন্ডে। যদিও এটা তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং। কিন্তু এক নম্বর হিটে সাতজনের মধ্যে সবার পেছনেই ছিল তার নাম। দৌড় শেষ করে অন্য প্রতিযোগীরা যখন ট্র্যাকে বসে বাতাস খাচ্ছিলেন, তখনো দৌড়ে যাচ্ছিলেন লাল-সবুজের পতাকাবাহী এ স্প্রিন্টার। এ ইভেন্টের হিট রাউন্ড শেষে ২০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে ১৮তম হয়েছেন তিনি!

আবু তালেবের পর বাংলাদেশি এ অ্যাথলেটকেও হতাশা নিয়েই ফিরতে হচ্ছে দেশে। আজ অথবা আগামীকাল কোচ রাজিয়া সুলতানার সঙ্গে ঢাকায় ফিরবেন সুমি ও আবু তালেব। জাকার্তা থেকে হতাশা নিয়ে ফিরলেও নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন সুমি। তার লক্ষ্য এখন এসএ গেমস। আগামী বছর নেপালে অনুষ্ঠিতব্য দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ ক্রীড়া আসরের ৮০০ মিটারে স্বর্ণপদক জয় করতে চান তিনি।

মহিলা অ্যাথলেট হিসেবে সুমি আক্তার যখন জাকার্তায় আসেন, তখন ৮০০ মিটারে তার ক্যারিয়ার সেরা টাইমিং ছিল ২ মিনিট ৩১ সেকেন্ড। উন্নতি চোখে পড়েছে প্রায় ৪ সেকেন্ড। বাংলাদেশি এ অ্যাথলেট যখন নিজের ৪ সেকেন্ড উন্নতি নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন, তখন এশিয়ার অন্য দেশের প্রতিযোগীরা হিট শেষ করেন ২ মিনিট ৪ দশমিক ৩৫ সেকেন্ড সময়ে। হিট রাউন্ডে এক নম্বর হওয়া বাহরাইনের মার্তা ইয়োতার সঙ্গে সুমির ফারাকটা যে কতটা বিশাল, সেটা স্ক্রিনেই ভেসে উঠেছে কাল। তবুও নিজের টাইমিং এবং উন্নতি নিয়ে বেশ উচ্ছ্বসিত এ অ্যাথলেট, ‘এখানে আমরা পদক জিততে আসিনি। আমাদের লক্ষ্যই ছিল নিজেদের সেরাটা দিয়ে উন্নতিটা প্রমাণ করার। আমাদের মূল লক্ষ্য এসএ গেমস। আজ ট্র্যাকে নিজের সেরা টাইমিংয়ের ৪ সেকেন্ড আগে শেষ করেছি ৮০০ মিটার। এটাই আমার অনেক বড় প্রাপ্তি। এই টাইমিং ধরে রাখতে পারলে আগামী এসএ গেমসে পদক জিতবই।’ তবে অকপটেই স্বীকার করে নিয়েছেন নিজেদের দুর্বলতার কথা, ‘এশিয়ার অন্য অ্যাথলেটদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা স্পষ্ট। ওদের সঙ্গে আমাদের এ দূরত্বটা কমাতে হলে অনুশীলনে আরো উন্নতি করতে হবে।’

৮০০ মিটারের আগে ৪০০ মিটারেও নিজের সেরা টাইমিং করেছিলেন সুমি আক্তার। ৫৭.১৬ সেকেন্ডে নিজের হিটে ছয়জনের মধ্যে হয়েছিলেন চতুর্থ। এটা তার সেরা টাইমিং। আগের সেরা টাইমিং ছিল ৫৭.২০ সেকেন্ড। সব মিলিয়ে ১৮ জনের মধ্যে হয়েছেন ১৪তম। এ ইভেন্টে বাহরাইেনের নাসের সালওয়া ৫০.৮৬ সেকেন্ড সময় নিয়ে হিটেই করেছিলেন গেমস রেকর্ড। নিজের পিছিয়ে থাকার কারণ নিয়ে সুমির ব্যাখ্যা,‘ এখানকার ডাইনিংয়ে দেখলাম প্রতিটা খাবারের কত ক্যালরি সব লেখা আছে। কে কতটা খাবার খাবে কোচ বলে দিচ্ছে। আমাদের দেশে এসব ভাবাই যায় না। তাছাড়া মাত্র দু’মাস অনুশীলন করে এসেছি জাকার্তায়। আরো বেশিদিন অনুশীলন করতে পারলে আরো ভালো করার সুযোগ ছিল। টানা অনুশীলনের বিকল্প নেই। ’

৪০০ মিটারে ১৬ বারের সাবেক জাতীয় চ্যাম্পিয়ন ও সুমির কোচ রাজিয়া সুলতানা অনু স্বপ্ন দেখছেন সুমিকে ঘিরে। জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে চারটি ইভেন্টে খেলে চারটিতেই সোনা জেতেন সুমি। তার ভালোর জন্য যেকোনো একটি বেছে নেওয়ার পরামর্শ অনুর, ‘আমার মনে হয় সুমির একটি ইভেন্টেই জোর দেওয়া উচিত। একটি ইভেন্টে খেললে আরো ভালো করতে পারবে। ৪০০ মিটার বেশ দ্রুতগতির, তুলনায় ৮০০ মিটার ধীর আর কঠিন। সমন্বয় করা কঠিন।’

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads