• রবিবার, ১৮ নভেম্বর ২০১৮, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads

প্রতীকি ছবি

বাংলাদেশ

‘বিচারপতি দত্তক শিশুকে তুলে দিলেন খালার কোলে’

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১০ এপ্রিল ২০১৮

হাইকোর্টের একজন নারী বিচারপতি নিজের কোল থেকে দত্তক শিশুকে তার খালার হাতে তুলে দিলেন। একটি রিট আবেদনের নিষ্পত্তিকালে এজলাসের ভেতরে বিবদমান পক্ষ ও আইনজীবীরা এমন অভূতপূর্ব দৃশ্য প্রত্যক্ষ করলেন।

এখন থেকে খালা শোভা রানী গুহের জিম্মায় থাকছে ১৮ মাসের দত্তক শিশু অংশুমান। অংশুমানের মা জেবা রানী দে মাঝে মধ্যে তার শিশু ছেলেকে দেখার সুযোগ পাবেন। এ দত্তকের আরজি দেওয়ানি আদালতে নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের এ আদেশ বলবৎ থাকবে।

সোমবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমেদ সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

টাঙ্গাইলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে খালার হেফাজতে দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মা জেবা রানী দের করা রিট নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে, এ ঘটনার প্রেক্ষিতে তলব করা টাঙ্গাইল ‘ক’ অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে সতর্ক করে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম। তাকে সহায়তা করেন আইনজীবী নাহিদ ফারজানা, আলো মণ্ডল ও স্নিগ্ধা সরকার। অপরদিকে খালার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন সুব্রত সাহা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পক্ষে আইনজীবী মো. অজি উল্লাহ, সরকারপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

আদালতে শুনানিকালে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। আদালত ১৮ মাসের শিশু অংশুমানকে খালার হেফাজতে দেওয়ার পর মা তাকে কোলে নিতে চান এবং কোলে নেন। এ সময় শিশু অংশুমান কিছুটা ভয় পেলে বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি নাইমা হায়দার নিজেই শিশুটিকে কোলে নিয়ে খালার হেফাজতে দেন। এরপর খালা শিশুটিকে নিয়ে চলে যান।

আদেশের পর শিশুর নানি রত্না রানী সাংবাদিকদের জানান, গর্ভে থাকা অবস্থায় সন্তানকে দত্তক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল মা জেবা রানী দে। সেই অনুযায়ী সন্তান প্রসবের সময় অস্ত্রোপচারের ব্যয়ভার বহন করেন খালা।

আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম জানান, আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন শিশু অংশুমান আপাতত খালার হেফাজতে থাকবে। মা শিশুটিকে দেখাশোনার সুযোগ পাবেন। মামলাটি এখন উপযুক্ত এখতিয়ারসম্পন্ন দেওয়ানি আদালতে শুনানি হবে। সেখানে সাক্ষ্যগ্রহণের ভিত্তিতে অভিযোগের নিষ্পত্তি হবে।

৩ এপ্রিল দেড় বছরের শিশু অংশুমানকে খালার হেফাজতে দেওয়ায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। খালার হেফাজতে শিশুটিকে দেওয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে মা রিট আবেদন করলে এই তলব আদেশ দেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে খালার হেফাজতে থাকা শিশু অংশুমান, তার খালা শোভা রানী গুহ ও স্বামী বিপ্লব গুহকে আদালতে হাজির করতে ঘাটাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। আদেশ অনুযায়ী শিশুর খালা শোভা রানী গুহ, মা জেবা দে, বাবা বিপুল দে, নানি রত্না রানীসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা আদালতে উপস্থিত হন।

জানা গেছে, টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার চান্দশী গ্রামের বিপুল দে ও জেবা রানী দে দম্পতির সন্তান অংশুমান দে। শিশুটির বয়স যখন এক বছর তখন তার খালা-খালু তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। ২০১৭ সালের ১৯ ডিসেম্বর শিশুটির খালা ও খালু নিঃসন্তান দম্পতি হওয়ায় দুই-তিন দিনের জন্য শিশু অংশুমানকে নিয়ে যায়। এরপর ওই শিশুর বাবা-মা অংশুমানকে ফেরত চাইলে উল্টো তাদের বাড়িতে আটকে রাখে।

এ অবস্থায় নিজ সন্তানকে ফেরত পেতে ১৬ জানুয়ারি টাঙ্গাইল ‘ক’ অঞ্চলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আবেদন করেন শিশুটির বাবা-মা। তাদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে খালার বাড়ি তল্লাশি করতে ঘাটাইল থানার ওসিকে নির্দেশ দেন। ওসিকে বলা হয় শিশুসহ তার খালাকে হাজির করতে। এরপর ১৮ জানুয়ারি ওসি তাদের হাজির করে। ওই দিন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেয়। ২১ মার্চ উভয়পক্ষের শুনানি শেষে শিশুটিকে তার খালার হেফাজতে দেওয়ার আদেশ দেন।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের এ আদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিশুটির মা জেবা রানী দে হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। ওই রিটের শুনানি শেষে আদালত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে তলব করেছিলেন।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads