• শনিবার, ৬ জুন ২০২০, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৫
ads

বাংলাদেশ

আক্রোশের আগুনে পুড়ছে পাহাড়

  • কামরুল আহসান
  • প্রকাশিত ০৫ মে ২০১৮

শান্তিচুক্তির দুই দশক পর আবারো হিংসা ও আক্রোশের আগুনে জ্বলে উঠছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। রক্তে বারবার লাল হয়ে উঠছে সবুজ পাহাড়। এবারের কোন্দল পাহাড়ি-বাঙালির মধ্যে নয়। সেনাবাহিনীও নেই। নিজেদের মধ্যে বিরোধের যুদ্ধে নিজেরাই শেষ হয়ে যাচ্ছে তারা। ক্ষমতার আধিপত্য বিস্তারের জন্য চলছে পাল্টাপাল্টি হত্যাকাণ্ড। এ নিয়ে থমথমে হয়ে উঠেছে পাহাড়ের পরিস্থিতি। জনমনে ভর করেছে নানা আতঙ্ক। আঞ্চলিক রাজনীতিতে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তারের একের পর এক খুনাখুনি হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। এক দিন আগে খুন হয়েছেন নানিয়াচর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা। তার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার শেষকৃত্যে যোগ দিতে গিয়ে প্রাণ গেল ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’ দলের প্রধান তপন জ্যোতি চাকমাসহ চার পাহাড়ি ও এক বাঙালি মাইক্রো চালকের। পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির (এমএন) কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক (এমএন) সুদর্শন চাকমা এ নির্মম হত্যাকাণ্ডের জন্য ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্টের (ইউপিডিএফ) সভাপতি প্রসিত বিকাশ খীসা গ্রুপকে দায়ী করেছেন।

পার্বত্য চট্টগ্রামে বর্তমানে পাহাড়িদের আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন রয়েছে চারটি। এগুলো হলো- পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস), ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ), জনসংহতি সমিতি সংস্কারবাদী (এমএন লারমা) ও ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর সরকারের সঙ্গে জনসংহতি সমিতির পার্বত্য শান্তিচুক্তি স্বাক্ষর করলে এর বিরোধিতা করে প্রসিত চাকমার নেতৃত্বাধীন এক দল পাহাড়ি ছাত্র ও যুবক। পরে ১৯৯৮ সালের ডিসেম্বরে তাদের নেতৃত্বে গঠিত হয় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্র্যাটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ)। এরপর দেশে জরুরি অবস্থা চলাকালে বিভক্তি দেখা দেয় জনসংহতি সমিতির মধ্যে। ২০০৭ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ভেঙে রূপায়ণ দেওয়ান, সুধাসিন্ধু খীসা, শক্তিমান চাকমা ও তাতিরন্দ্র লাল চাকমাসহ কিছু নেতাকর্মীর নেতৃত্বে গঠিত হয় জনসংহতি সমিতি (এমএন লারমা) দল। সর্বশেষ ইউপিডিএফ ভেঙে আত্মপ্রকাশ করে ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক। এসব দলের নেতাকর্মীরা এখন মরিয়া পাহাড়ে আধিপত্য ও প্রভাব বিস্তার নিয়ে। এ নিয়ে চলছে খুনের বদলা খুন।

অনেকের দাবি, প্রসিত বিকাশ খীসা ও তার দল পাকিস্তানের ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স (আইএসআই) দ্বারা পরিচালিত। রোহিঙ্গা ও আন্তর্জাতিক জঙ্গি সন্ত্রাসবাদী দলগুলোর সঙ্গে ইউপিডিএফের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

অন্যদিকে ইউপিডিএফের দাবি, তারাই পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগণের মুক্তির জন্য এখনো লড়াই সংগ্রাম জাগ্রত রাখছে। জেএসএস-ই শান্তিচুক্তির নামে বর্তমান সরকারের কাছে নিজেদের বিকিয়ে দিয়েছে বলে তাদের অভিযোগ।

১৯৯৮ সালে ইউপিডিএফ গঠিত হওয়ার পর থেকেই জেএসএসের সঙ্গে তাদের বিরোধ। কয়েক বছর পর পরই তাদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি গুলি বিনিময় হয়। গত দুই দশকে প্রাণ হারিয়েছে দল দুটির পাঁচ শতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক। ২০১৭ সালে ইউপিডিএফ ভেঙে গেলে অবস্থা আরো নাজুক হয়ে পড়ে। মূল সংগঠন ভেঙে ২০১৭ সালের ১৫ নভেম্বর নেতৃত্বে আত্মপ্রকাশ করে ‘ইউপিডিএফ গণতান্ত্রিক’ নামে আরেক সংগঠন। এর নেতৃত্বে ছিলেন তপন জ্যোতি চাকমা। এখন তপন জ্যোতি ও তার দলের লোকদের হত্যার জন্য প্রসিত বিকাশ খীসার পুরনো ইউপিডিএফ দলকে দায়ী করছে জেএসএস। যদিও তা অস্বীকার করছে প্রসিত বিকাশের দল। কিন্তু এই তৃতীয়-চতুর্থ পক্ষের লড়াইয়ে কে কোন দিক থেকে কী চাল চালছে তা খুঁজে বের করবে কে? সমস্ত ঘটনা আড়াল থেকে জন্ম দিচ্ছে এক রহস্যময় জাল। ধারণা করা যায় এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে আবারো উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে পার্বত্য জেলাগুলো।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads