• শনিবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
সাড়ে চার ফুট মাটি খুঁড়েও মেলেনি গুপ্তধন!

ছবি : সংগৃহীত

বাংলাদেশ

সাড়ে চার ফুট মাটি খুঁড়েও মেলেনি গুপ্তধন!

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২১ জুলাই ২০১৮

সাড়ে চার ফুট খননের পরও রাজধানীর মিরপুরের একটি বাড়ির নিচে কথিত গুপ্তধনের সন্ধান মেলেনি। বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী খননের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ওই কাজে নিযুক্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

ঢাকা জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়নে আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে মিরপুর ১০ নম্বরের সি ব্লকের ১৬ রোডের ১৬ নম্বর বাড়িতে ২০ জন শ্রমিক নিয়ে ‘গুপ্তধন’ উদ্ধার অভিযান চালায় পুলিশ। এরপর বিকেল তিনটার দিকে দুপুরের খাবারের জন্য কাজের বিরতি দেওয়া হয়। তার কিছুক্ষণ পর বিকেল পৌনে চারটার দিকে মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) উপস্থিতিতে জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কাজটি স্থগিতের ঘোষণা দেন।

আগামীকাল রোববার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিয়ে আবারও অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন জেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ারুজ্জামান।

রাজধানীর মিরপুর দশ নম্বর সেকশনের সি ব্লকের ওই বাড়িটি খাস জমি হিসেবে বর্তমান মালিক মনিরুল আলম সরকারের কাছ থেকে লিজ নেন। তিনি জানিয়েছেন, বাড়িটির আগের মালিকের এক আত্মীয় দাবী করেছেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় বাড়িটির নিচে দুই বস্তা স্বর্ণালংকার লুকিয়ে রেখে পালিয়েছিল বাড়ির মালিক। এ বিষয়ে তিনি থানায় সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) করেন। বিষয়টি জানাজানি হলে নিরাপত্তার প্রশ্নে মনিরুল আলম গত ১৪ জুলাই মিরপুর মডেল থানায় জিডি করেন।

মনিরুল আলম বলেন, ‘একদিন রাতের বেলা কিছু লোকজন বাসায় ঢোকার চেষ্টা করে। পরদিন সকালে বিষয়টি জানার পর যেহেতু গুপ্তধন আছে বিষয়টি সেনসিটিভ, এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, আমার যেসব লোকজন আছে তাদেরও ক্ষতি হতে পারে, এজন্য আমি পুলিশের কাছে যাই। পুলিশের কাছে সাহায্য চেয়েছি।’

পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে নিয়ে শনিবার সকালে ঢাকা জেলা প্রশাসনের সহায়তায় খনন কাজ শুরু করে ।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘যারা তথ্য দিয়েছে তাদের তথ্যমতে এখানে দুইটি প্লাস্টিকের ব্যাগ থাকার কথা। সেটা মাটির তিন থেকে চারফুটের মধ্যে। আমরা আট থেকে ১০ ফুট পর্যন্ত দেখব।’

আনোয়ারুজ্জামান বলেন, ‘বাড়িটির দুটি রুমের প্রায় সাড়ে চার ফুটের মতো খনন করা হয়েছে কিন্তু কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তা ছাড়া খনন করতে গিয়ে বাড়িটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হওয়ায় আজকে উদ্ধার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে তাদের পরামর্শ অনুযায়ী আগামীকাল থেকে ফের এ উদ্ধার কাজ চলবে।’

মিরপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দাদন ফকির বলেন, ‘বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ করে আগামীকাল আবারও উদ্ধার কাজ চালানো হবে। ততক্ষণ পর্যন্ত এ বাড়িটি পুলিশের নিরাপত্তায় থাকবে। এরপরও যদি কোনো কিছু না পাওয়া যায় তাহলে কাজের সমাপ্তি ঘোষণা করে পুলিশি নিরাপত্তা সরিয়ে নেওয়া হবে।’

ওসি দাদন ফকির বলেন, ‘মাটির নিচে যদি গুপ্তধন পাওয়া যায় তা সরাসরি রাষ্ট্রীয় কোষাগারে যাবে। তা আদালত ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে জানানো হয়েছে।’

জানা যায়, সম্প্রতি টেকনাফের তৈয়ব নামে এক ব্যক্তি মিরপুর থানায় অভিযোগ করেন, ওই বাড়িতে বহু বছর আগে তার স্বজনরা প্রায় দুই মণ স্বর্ণালঙ্কার মাটিতে পুঁতে রেখে পাকিস্তান চলে গেছে। সম্প্রতি পাকিস্তানে বেড়াতে গিয়ে তৈয়ব ওই তথ্য পান বলে থানায় জানান। এরপরই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বিষয়টিকে নিয়ে গুঞ্জন ছড়ায়। এতে এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads