• সোমবার, ১৭ জুন ২০১৯, ২১ কার্তিক ১৪২৪
ads
মত প্রকাশের জগৎ ছোট হলে গুজব ছড়ায়

জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা

সংগৃহীত ছবি

বাংলাদেশ

গোলটেবিলে বক্তারা

মত প্রকাশের জগৎ ছোট হলে গুজব ছড়ায়

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ১৯ আগস্ট ২০১৮

আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা থেকেই নতুন নতুন আইন তৈরি ও বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। আইনের মাধ্যমে মানুষের মত প্রকাশের জগৎ ছোট করে ফেলা হলে তখন ‘গুজব’ বেশি ছড়ায়। গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

‌প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে আয়োজিত ওই আলোচনায় সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, ‘সরকারের উদ্যোগের সঙ্গে একমত যে, একটা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন দরকার। কিন্তু বর্তমান খসড়াটি যদি আমূল পরিবর্তন হয়ে না আসে, তাহলে অবশ্যই সেটা মানুষের মত প্রকাশের স্বাধীনতা, বিবেক ও চিন্তার স্বাধীনতা এবং অবশ্যই গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ব্যাহত করবে।’ তিনি বলেন, ‘যখনই ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জগৎ ছোট হয়ে আসে, তখনই কিন্তু রিউমার (গুজব) বেশি ছড়ায়।’

তিনি বলেন, ‘এই ড্রাফটে একটি ধারা আছে যেখানে বলা হয়েছে- পরোয়ানা ব্যতিরেকে তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতার। কোনো রকম পরোয়ানা থাকবে না, আপনাকে তল্লাশি করবে, আপনার কম্পিউটার সিস্টেম জব্দ করবে এবং প্রয়োজন হলে আপনাকে গ্রেফতার করবে।  গ্রেফতারটা কে করবে? পুলিশ! আমি তো মনে করি, এই একটি ধারা আপনার সমস্ত মত প্রকাশের স্বাধীনতাকে ব্যাহত করবে।’

অসংখ্য আইনের প্রয়োজন নেই বলে মনে করেন কবি মুহম্মদ নুরুল হুদা। তিনি বলেন, ‘আইন তখনই করা হয় এবং বাড়ানো হয়, যখন কোনো আইনকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করা হয়।’ প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সৃষ্টিশীল লেখকদের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করবে বলে তিনি মনে করেন।

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, ‘সরকার এই আইনটি এখনই পাস করবে বলে আমি মনে করি না। এই আইন নিয়ে আরো বিশ্লেষণ দরকার।’ বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এবং জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক মনজুরুল আহসান বুলবুল বলেন, ‘আমার ধারণা, আইনের চূড়ান্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার জন্য আপনারা যদি স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে বলেন কথাগুলো তাহলে তারা হয়তো পরবর্তী সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে ডাকবে।’ ব্রতীর নির্বাহী পরিচালক শারমিন মুরিশদ অবিলম্বে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা বাতিলের দাবি জানান।

পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সভাপতি মাসুদ আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় আরো বক্তব্য দেন সংগঠনটির বাংলাদেশের উপদেষ্টা কবি কাজী রোজী এমপি, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন প্রমুখ। পেন ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর সৈয়দা আইরিন জামানের সঞ্চালনায় আলোচনায় প্রারম্ভিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সংগঠনের কার্যনির্বাহী সদস্য এমএস সিদ্দিকী।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads