• মঙ্গলবার, ১৯ মার্চ ২০১৯, ৫ চৈত্র ১৪২৪
ads

ভিন্স টেক্সটাইলস লিমিটেডের লোগো

সংগৃহীত ছবি

পুঁজিবাজার

ইভিন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড

তালিকাভুক্তির দুই বছরেই ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • প্রকাশিত ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্তির দুই বছর পর দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির তালিকা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে এলো বস্ত্র খাতের কোম্পানি ইভিন্স টেক্সটাইলস লিমিটেড। সদ্য শেষ হওয়া হিসাববছরে শেয়ারহোল্ডারদের জন্য কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করতে ব্যর্থ হওয়ায় নিয়মানুযায়ী গতকাল ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কোম্পানিটিকে দুর্বল কোম্পানির তালিকায় স্থানান্তর করল। ফলে লভ্যাংশ ঘোষণা না দেওয়ার পরদিন কোনো সার্কিট ব্রেকার না থাকায় গতকাল ৩০ শতাংশ দর হারায় কোম্পানিটি।

ইভিন্স টেক্সটাইলস কিছু নিট মুনাফা করলেও তা লভ্যাংশ হিসেবে বিতরণে অসম্মতি জানায় কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। ২০১৭-১৮ হিসাববছরে এ কোম্পানির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয় ১ টাকা ৬ পয়সা। গত ২০ সেপ্টেম্বর বিকালে পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে কিছু মুনাফা সত্ত্বেও শেয়ারহোল্ডারদের জন্য লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও আগের বছর কোম্পানির ইপিএস ১ টাকা ২৮ পয়সা হলেও সে সময় শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ দিয়েছিল ইভিন্স টেক্সটাইলের পরিচালনা পর্ষদ। আর তালিকাভুক্তির সময় ২০১৬ সালে কোম্পানিটি বোনাস ও নগদ মিলিয়ে ৩০ শতাংশ লভ্যাংশ ঘোষণা করে।

তালিকাভুক্তির দ্বিতীয় বছরে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে নেমে আসায় সমালোচনার মধ্যে পড়তে হচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি)। এমনিতেই বিএসইসির বিরুদ্ধে স্থিরমূল্য পদ্ধতিতে দুর্বল কোম্পানিকে মূলধন সংগ্রহের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমান কমিশনের অনুমোদন পাওয়া ফ্যামিলি টেক্সটাইল, সিএনএ টেক্সটাইল, দি ঢাকা ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানি, এমারল্ড অয়েল ইন্ডাস্ট্রিজ, ফারইস্ট ফিন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, খুলনা প্রিন্টিং অ্যান্ড প্যাকেজিং লিমিটেড, সুহূদ ইন্ডাস্ট্রিজ, সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স ও তুংহাই নিটিং অ্যান্ড ডায়িং লিমিটেড পুঁজিবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পর দুর্বল মৌলভিত্তির কোম্পানির তালিকা ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থান পেয়েছে।

কোনো কোম্পানি লোকসানে থাকলে, নিয়মিত বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ও শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ ঘোষণার ব্যর্থতায় জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর করা হয়। ওই ক্যাটাগরিতে স্থানান্তরের ফলে কোম্পানির শেয়ার বিক্রির অর্থ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাবে আসতে ৯ কার্যদিবস সময়ের প্রয়োজন হয়। এ ছাড়া জেড ক্যাটাগরির শেয়ারে মার্জিন ঋণ সুবিধা নিষিদ্ধ। এ ছাড়া নেটিং (আর্থিক সমন্বয়) সুবিধাও পাওয়া যায় না। অবশ্য পরিচালনা পর্ষদের ব্যর্থতায় কোম্পানি জেড ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর হলেও উদ্যোক্তা পরিচালকদের তেমন অসুবিধার মধ্যে পড়তে হয় না। বিভিন্ন বিধিনিষেধের আওতায় থাকেন সাধারণ বিনিয়োগকারী।

অভিহিত মূল্যে পুঁজিবাজার থেকে ১৭ কোটি টাকা সংগ্রহের পর ২০১৬ সালের ১৯ জুন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) ইভিন্স টেক্সটাইলস তালিকাভুক্ত হয়। একই বছরের ১৭ জুলাই উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন শুরু হয়। গত এক মাসে ইভিন্স টেক্সটাইলের শেয়ারদর ছিল সর্বোচ্চ ১৬ টাকা ৮০ পয়সা। আর গত বৃহস্পতিবার শেয়ারদর নেমে আসে ১৫ টাকায়। করপোরেট ঘোষণার কারণে গতকাল কোনো সার্কিট ব্রেকার না থাকায় শেয়ারদর আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩০ শতাংশ কমে ১০ টাকা ৪০ পয়সায় নেমে আসে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, সদ্য শেষ হওয়া হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইভিন্স টেক্সটাইলের বিক্রি থেকে আয় ছিল ১৮৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ছয় কোটি ৪২ লাখ টাকা বেশি। ২০১৭-১৮ হিসাববছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কোম্পানির পরিচালন মুনাফা হয় ৩৪ কোটি ২০ লাখ টাকা। এ কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয় ১৯ কোটি ১৪ লাখ টাকা। তবে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত নিট মুনাফায় ধারাবাহিকতা থাকলেও হিসাববছরের শেষ প্রান্তিকে এসে কোম্পানির নিট মুনাফা কমে যেতে দেখা গেছে। সদ্য শেষ হওয়া হিসাববছর শেষে ইভিন্স টেক্সটাইলসের নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১৬ কোটি ৭৯ লাখ টাকায়।

এতে তৃতীয় প্রান্তিক পর্যন্ত ইপিএস কোম্পানি ১ টাকা ২০ পয়সা দেখালেও বছর শেষে তা ১ টাকা ৬ পয়সায় নেমে আসে। ওই আয়ে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের জন্য অন্তত ১০ শতাংশ মুনাফা ঘোষণার সক্ষমতা থাকলেও পরিচালনা পর্ষদ কোনো লভ্যাংশ ঘোষণা করেনি। যদিও আগের বছর ইপিএস ১ টাকা ২৮ পয়সা হলেও ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ।

ইভিন্স টেক্সটাইলের পরিশোধিত মূলধন হচ্ছে ১৫৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা। এ কোম্পানির মোট শেয়ারের ৩৬ দশমিক ৬৭ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের হাতে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানের হাতে ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৪৩ দশমিক ৮ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads