• সোমবার, ১৯ নভেম্বর ২০১৮, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
ads
বদলে যাচ্ছে রেলস্টেশন

২০১৯ সালের মধ্যে স্টেশনগুলো আধুনিকায়ন করা হবে

প্রতিকী ছবি

যোগাযোগ

যাত্রী প্রবেশপথে বসবে পাঞ্চিং মেশিন বন্ধ স্টেশন চালুর উদ্যোগ

বদলে যাচ্ছে রেলস্টেশন

  • এম এ বাবর
  • প্রকাশিত ২২ জুন ২০১৮

বাংলাদেশ রেলওয়ের বন্ধ থাকা স্টেশনগুলো চালুর উদ্যোগ নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। এছাড়া ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারসহ ২০১৯ সালের মধ্যে স্টেশনগুলো আধুনিকায়ন করা হবে। সব স্টেশনে বসবে ক্লোজ সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ও আধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রাদি। এতে রেলের অনিয়ম-দুর্নীতি কমিয়ে যাত্রীদের উন্নত সেবা দিতে পারবেন বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।

‘ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে’ কালক্রমে ‘ইস্ট পাকিস্তান রেলওয়ে’ এবং অবশেষে বাংলাদেশ রেলওয়েতে পরিণত হলেও রেলওয়ের সার্বিক দুরবস্থা কাটেনি। যেখানে প্রতিবেশী দেশগুলোসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রেলের জয়জয়কার, সেখানে আমাদের রেলসেবা ক্রমাগত পেছনমুখী, ক্রমাগত লোকসান দিচ্ছে। কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে যাতায়াতের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক এই যোগাযোগ মাধ্যমের দিক থেকে যাত্রীরা ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও প্রায় একই চিত্র। এর পেছনে রয়েছে রেলের অব্যবস্থাপনা এবং সেবার মানের নিম্নগতি। তবে বর্তমান সরকার রেলের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়ে ইতোমধ্যে বেশ কিছু কাজ শুরু করেছে। এতে রেলের উন্নয়নের চাকা ঘুরতে শুরু করেছে।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, সারা দেশে মোট রেলস্টেশন রয়েছে ৪৫৮টি। স্টেশন মাস্টারসহ প্রয়োজনীয় জনবল সঙ্কট এবং অন্যান্য অজুহাত ও কারণে গত আট-দশ বছর ধরে দেশের ১৮৮টি স্টেশন বন্ধ ছিল। এর মধ্যে গত বছরের মার্চে ৬০টি বন্ধ থাকা স্টেশন চালু করা হয়েছে। সব মিলিয়ে বর্তমানে চালু থাকা ৩৩০টি স্টেশনের ২৪৫টিতে গত বছরের শেষের দিকে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। যার মধ্যে রেলের পূর্বাঞ্চলীয় জোনে ১১৭টি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় জোনে রয়েছে ১২৮টি। এছাড়া বন্ধ থাকা আরো ১০০ স্টেশন চালু করতে প্রয়োজনীয় কাজ চলছে। এর মধ্যে চলতি বছরের মধ্যে অন্তত ৮০টি বন্ধ থাকা স্টেশন চালু করার কথা রয়েছে।

এদিকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রেল খাতের উন্নয়ন ও পরিচালন ব্যয়ে বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৪ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সাড়ে ১১ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল সরকার। ওই বরাদ্দ পাওয়ার পর ঘোড়াশালসহ রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলে ৬০টি স্টেশন পুনরায় চালু করা হয়। তবে সেগুলোর সবই দ্বিতীয় শ্রেণির স্টেশন। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে ২১টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২টি, পাকশীতে ২৩টি ও লালমনিরহাটে ৪টি স্টেশন রয়েছে।

অন্যদিকে বিশেষ ১০০ রেলস্টেশনে যাত্রীদের প্রবেশ ও বহিরাগমন নিয়ন্ত্রণে আধুনিক যন্ত্র বসানোর পরিকল্পনা করছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। ট্রেনে বিনা টিকেটের যাত্রী প্রতিরোধ এবং প্রবেশ ও বহিরাগমন গেটগুলোতে টিকেট চেকিংয়ের লক্ষ্যে পয়েন্ট অব সেল মেশিন স্থাপন করা হবে। এছাড়া রেলওয়ের ৭০টি লোকোমোটিভ ইঞ্জিন কেনা সর্বশেষ অবস্থায় রয়েছে।

এ বিষয়ে রেলপথমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, রেলের আধুনিকায়নের কাজ পর্যায়ক্রমে এগিয়ে যাচ্ছে। বন্ধ থাকা রেলস্টেশনগুলোর মধ্যে ১০০টি আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে চালু করার প্রক্রিয়া চলছে। এ স্টেশনগুলো আধুনিকায়নসহ যাত্রীদের প্রবেশ ও বহিরাগতদের নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে যাত্রীরা পাঞ্চিং মেশিনের মাধ্যমে স্টেশনে প্রবেশ ও বের হতে পারবেন। তাছাড়া যাত্রীসেবার মান বাড়াতে ও নিরাপত্তা সুরক্ষার অংশ হিসেবে রেলওয়ের স্টেশনগুলোতে ও ট্রেনের ইঞ্জিনে সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। এই প্রযুক্তি স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহায়ক হবে।

অন্যদিকে স্টেশনগুলোতে এসব প্রযুক্তি স্থাপন করা হলেও এতে উপেক্ষিত থাকছে ট্রেনের ইঞ্জিন রুমে সিসি ক্যামেরা বসানোর কাজটি। এ বিষয়ে রেলের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, লোকোমোটিভের ইঞ্জিন ক্যাব বেশ ভাইব্রেশন (কাঁপা) যুক্ত। ফলে এ স্থানে সিসি ক্যামেরা বসানো সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads