• সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০, ২৯ আষাঢ় ১৪২৭
ads
যাত্রী কমছে বন্ধনের

ভারতগামী বন্ধন এক্সপ্রেস

ছবি : বাংলাদেশের খবর

যোগাযোগ

যাত্রী কমছে বন্ধনের

খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে সরাসরি ট্রেন

  • জামাল হোসেন, বেনাপোল
  • প্রকাশিত ১৩ জুলাই ২০১৮

খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে সরাসরি চলাচলকারী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসে দিন দিন যাত্রী কমতে শুরু করেছে। ১০টি কোচের এই ট্রেনে ৪৫৬ আসন থাকলেও যাতায়াত করছে ১০০ থেকে ১২০ যাত্রী। অথচ বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট দিয়ে প্রতিদিন ৪-৫ হাজার পাসপোর্টযাত্রী ভারতসহ বিভিন্ন দেশে যাতায়াত করে থাকে। দু’দেশের নির্দিষ্ট দুটি স্টেশনে টিকেট বিক্রি করায় যাত্রীদের অনীহা দেখা দিয়েছে। তবে যাত্রীসংখ্যা কম হওয়ার কারণ সম্পর্কে রেল কর্তৃপক্ষ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কর্তৃপক্ষের রেল পরিচালনার পদ্ধতিগত ভুল যাত্রীস্বল্পতার অন্যতম কারণ বলেও মনে করছেন এ রুটে যাতায়াত করা ব্যক্তিরা। তারা বলেন, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে টিকেট বিক্রি না করা, যশোর ও বেনাপোল রেলস্টেশনে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য স্টপেজ না দেওয়া, অন্যদিকে সপ্তাহে মাত্র এক দিন এ রুটে ট্রেন চলাচল- এমন সব কারণ সামনে আসছে যাত্রী কম হওয়ার পেছনে। এ ছাড়া ভাড়ার পরিমাণও যাত্রীস্বল্পতার আরেকটি বড় কারণ। ১২০ কিলোমিটার সড়কে এসি সিটে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ভ্রমণ করসহ ২ হাজার টাকা ও এসি চেয়ারে নেওয়া হচ্ছে ভ্রমণ করসহ ১ হাজার ৫০০ টাকা। কলকাতা থেকে প্রতি বৃহস্পতিবার সকাল ৭টায় ছেড়ে এসে সাড়ে ১২টায় খুলনায় পৌঁছে বন্ধন। অন্যদিকে খুলনা থেকে ১টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কলকাতা পৌঁছয়। অথচ বেনাপোল চেকপোস্ট দিয়ে একজন পাসপোর্টযাত্রীর কলকাতা যেতে ভ্রমণ করসহ খরচ হয় মাত্র ৬০০ টাকা।

যশোর নাগরিক কমিটি যশোর রেলস্টেশনে টিকেট বিক্রি ও যাত্রী ওঠানো-নামানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। তাতেও তেমন একটা সাড়া মেলেনি রেল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে।

খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেসের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয় ২০১৭ সালের ১৭ নভেম্বর। গত সাত মাসে ট্রেনের যাত্রীসংখ্যা না বেড়ে ক্রমাগত কমতে শুরু করেছে। ফলে লোকসানের বোঝা টানতে হচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষকে।

বেনাপোল রেলস্টেশন মাস্টার শহিদুল ইসলাম বলেন, গত বছরের ১৬ নভেম্বর খুলনা-কলকাতার মধ্যে বন্ধন এক্সপ্রেস ট্রেনটি চালু হয়। বন্ধন এক্সপ্রেসে ১০টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে ইঞ্জিন ও পাওয়ার কার দুটি। বাকি আটটি কোচে ৪৫৬টি আসন রয়েছে। সবই শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। গত সাত মাসে ৩ হাজার ৪৪৫ যাত্রী কলকাতা থেকে বাংলাদেশে এসেছে এবং বাংলাদেশ থেকে ৪ হাজার ৫৭৯ যাত্রী কলকাতায় গেছে। নিরাপদে ও সুষ্ঠুভাবে যাত্রী চলাচল করার পরও যাত্রীসংখ্যা দিন দিন কমছে। বন্ধন এক্সপ্রেসটি সপ্তাহে একাধিক দিন চলাচল করলে এবং যশোর ও বেনাপোলের মানুষের জন্য টিকেট বিক্রি ও স্টপেজ দেওয়া হলে এ অবস্থার পরিবর্তন হবে বলে তিনি জানান।

বেনাপোল চেকপোস্ট ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বন্ধন এক্সপ্রেসে যেসব যাত্রী সরাসরি যাতায়াত করেন, আমরা তাদের ভালো সার্ভিস দিচ্ছি। আপাতত যাত্রীসংখ্যা একটু কম। আমরা যত দ্রুত সম্ভব ইমিগ্রেশনের কাজ সম্পন্ন করি। তবে ট্রেনে খরচ একটু বেশি পড়ে।

বেনাপোল কাস্টম হাউজের সহকারী কমিশনার নু চ প্রু বলেন, বন্ধন ট্রেনের বেশিরভাগ যাত্রী হয় রোগী, না হয় আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বেড়াতে যায়। তাই কাস্টমসের পক্ষ থেকে যথাসাধ্য সেবা দেওয়া হয়। ট্রেন আসার সঙ্গে সঙ্গে হলরুমে ইমিগ্রেশন ও কাস্টমসের আনুষ্ঠানিকতা দ্রুত সম্পন্ন করে থাকি আমরা।

আরও পড়ুন



বাংলাদেশের খবর
  • ads
  • ads